শুক্রবার ২৮শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

কিশলয় বালিকা স্কুলে প্রাক্তন ছাত্রীদের পুনর্মিলনী ও শিক্ষক সংবর্ধনা

সেলিম উদ্দীন, ঈদগাঁও   |   শনিবার, ০১ জানুয়ারি ২০২২

কিশলয় বালিকা স্কুলে প্রাক্তন ছাত্রীদের পুনর্মিলনী ও শিক্ষক সংবর্ধনা

ভবিষ্যতের টানে পৃথক হয়ে গিয়েছিল তাদের গন্তব্য। বান্ধবীর সঙ্গে দেখা-দেখি’টা কারও কারও জীবনে সীমাবদ্ধ হয়ে গিয়েছিল ফেসবুক কিংবা হোয়াটসঅ্যাপের পর্দাতেই। কারও তো আবার-স্কুল জীবনের শেষ দিনে পথটা যে ভাগ হয়ে গিয়েছিল তারপর আর মুখ দেখাদেখিই হয়নি। সেই সমস্ত হারিয়ে যাওয়া পথগুলো ফের পুরোনো মোহনায় ফিরেছিল ৩১ ডিসেম্বর শুক্রবারে।

বহুদিন পর প্রিয় কিশলয় আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় এসে তারা যেন ফিরে গিয়েছিলেন সেই ইউনিফর্মে বন্দি থাকার সোনালী দিনগুলোতে। উপলক্ষ একটাই-বিদ্যালয়ের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান।

তারা সবাই যে একটা সময় এই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন, পাশাপাশি বসতেন ক্লাসরুমে। বহুদিন পর স্কুলে ফেরায় শুক্রবারের ভরদুপুরে তাই স্কুল প্রাঙ্গণের এপাশ-ওপাশে প্রাক্তনদের কণ্ঠ থেকে ভেসে আসছিল অজস্র আবেগি সংলাপ।

তার কোনটা এমন-‘তুর কী খবর বল, কতদিন পর দেখা, ‘এই মাঠেই তো খেলে বেড়াতাম আমরা, আজ চেনায় যায় না’, এটাই না ছিল আমাদের সেই ক্লাসরুমটা, আজ রং লেগেছে তার দেয়ালে দেয়ালে। ’

১৯৯৪ সালে জন্ম এই বিদ্যালয়ের। তবে ২০০৬ সাল থেকেই এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথমই অনুষ্ঠিত হলো পুনর্মিলনী। তাই উৎসবের মাত্রাটা ছিল একটু বেশিই। বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক, অনুষ্টানের প্রধান উদ্দোক্তা ঈদি আমিন চৌধুরী, প্রাক্তন ছাত্রী রিউনিয়নের আহবায়ক সাইমা সোলতানা ও সদস্য সচিব মোছাদ্দিকা মৌনিনসহ আরও অনেকের সহযোগিতায় এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

পুনর্মিলনী উপলক্ষে স্মৃতিচারন, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-আয়োজনে বাকি ছিল না কিছুই। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্কুলের প্রতিষ্টাতা ও সাবেক প্রধান শিক্ষক চৌধুরী মুহাম্মদ তৈয়ব।

পুনর্মিলনী উপলক্ষে এদিন সকাল থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ভিড় করতে থাকেন প্রাক্তন আর বর্তমান ছাত্রীরা। প্রাক্তন ছাত্রীদের অনেকেই বর্তমানে দেশের বহু জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। তারা তাদের পরিবার নিয়ে অংশ নেন পুনর্মিলনীতে।

সেই সাবেকরা যেন খুঁজে ফিরছিলেন তাদের স্কুল জীবনের সেইসব স্বর্ণময় দিনগুলো। যেদিকেই চোখ যায় সেদিকেই ভিড়-বুনো উল্লাস। সেকেন্ডেরও ভগ্নাংশে চলছে ক্লিক ক্লিক, দেদারসে উঠছে সেলফি-ছবি। পেছনের দৃশ্যপটে কোথাও বিদ্যালয় তো, কোথাও আবার মঞ্চস্থল। ফেলে আসা ক্লাসরুম, শিক্ষক আর হারিয়ে যাওয়া বন্ধুরা মিলে হুড়মুড়িয়ে বইতে থাকে গল্পের স্রোত।

এই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেয়া বর্তমানে উখিয়া সরকারী হাসপাতালের ডাঃ রোকসানা আফাজ বলেন, পুনর্মিলনীতে এসে মনে পড়ে যাচ্ছে স্কুলের শেষ দিনের কথা। সেদিন বন্ধুকে ছেড়ে যাওয়ার সময় বলেছিলাম একসঙ্গে থাকার। দেখা হবার। কিন্তু বাস্তবতার কারণে অনেকের সঙ্গে দেখা হয়নি এরপর থেকে। পুনর্মিলনীতে এসে আবার তাদের সঙ্গে দেখা হলো। সত্যিই নস্টালজিক হয়ে পড়েছি আমরা।

আলোচনা সভা শেষে বিকেল থেকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রথমেই ‘সেই তুমি কেনো এতো অচে না হলে’ গানটির মাধ্যমে যেনো আইয়ুব বাচ্চুকে স্মরণ করিয়ে দিলেন আরেকবার। ছিল মার্মা নৃত্যও। সেখানে কিছুক্ষণের জন্য শিক্ষক পরিচয় ভুলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উৎসবে মেতেছিলেন শিক্ষকরাও।

শুক্রবার সকালে স্কুল প্রাঙ্গণে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এসএম জাহাঙ্গীর আলম।

এরপর বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সময়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য র‌্যালি শুরু হয় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে। মাথায় ক্যাপ, হাতে ব্যাজ, বেলুন, আর ফুলে সজ্জিত শোভাযাত্রাটি খুটাখালী বাস ষ্টেশন ঘুরে আবার স্কুল প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রী সংসদের আহ্বায়ক সাইমা সোলতানার সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মোছাদ্দিকা মৌনিনের পরিচালনায় অনুষ্টানের প্রধান উদ্দোক্তা সিনিয়র শিক্ষক ঈদি আমিন চৌধুরী, আমিরুল কবির ইমন, প্রাক্তন শিক্ষক রাজন আচর্য্য ও প্রাক্তন ছাত্রী ফৌজিয়া কবির আপ্তা, জারিন আমিন বক্তব্য রাখেন।

এসময় কিশলয় ট্রাস্টির চেয়ারম্যান খোদেজা বেগম, প্রাক্তন ছাত্রী সংসদের যুগ্ন আহবায়ক পাপিয়া সোলতানা পিংকি,তানিয়া কবির, জয়া প্রু মার্মা, সাবিহা জান্নাত,হুরে জান্নাত রেজবি,শারমিন রুনা, কানিজ ফাতেমা রিতা,ত্বোয়াহা তানিয়া,নাবিলা হোছাইন তন্বী,খাদিজাতুল কোবরা আফসানা ও ফাহিয়া জামান মিশুসহ কর্মরত শিক্ষক ও কয়েক শতাধিক প্রাক্তন ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় শিক্ষকদের সম্মাননা, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি মাতিয়ে রাখে। তাদের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে কক্সবাজারে নারী শিক্ষা বিস্তারে কিশলয় বালিকা স্কুলের ভূমিকা। যে স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিশিষ্ট শিক্ষা গুরু চৌধুরী মুহাম্মদ তৈয়ব।

Comments

comments

Posted ১:০৭ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০১ জানুয়ারি ২০২২

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

প্রকাশক
তাহা ইয়াহিয়া
সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
01870-646060
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com