শুক্রবার ২৮শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

কুতুবদিয়ায় ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় স্কুল শিক্ষকসহ অনেকেই পঙ্গু

কুতুবদিয় প্রতিনিধি   |   বৃহস্পতিবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২১

কুতুবদিয়ায় ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় স্কুল শিক্ষকসহ অনেকেই পঙ্গু

কুতুবদিয়ায় শাহ্ ইমরান চৌধুরী নামের এক ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় স্কুলশিক্ষকসহ পঙ্গুত্ব বরণ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

জানাযায়,কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত ডাঃ মুহাম্মদ শাহ্ ইমরান চৌধুরী কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় মেড়িকেল গেইট এলাকায় নিজ অর্থায়নে প্রায় ৩ বছর ধরে বিসমিল্লাহ ফার্মেসী নাম দিয়ে চেম্বার খুলে বসেন। এর আগে কুতুবদিয়া সরকারী হাসপাতালে ২০১৪ সালে অক্টোবর মাসে
যোগদান করার পর মুনমুন ফার্মেসীতে রোগী দেখতেন। সম্প্রতি সরকার ডাক্তারদের নিজ কর্মস্থল ব্যাতিত ভিন্ন উপজেলায় রোগী দেখা ও চেম্বার করার
নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নীতিমালা প্রনোয়ন করলেও সরকারের এ মহৎ উদ্যোগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে ভিন্ন বিভাগে এসে নিয়মিত চেম্বার করে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা। এছাড়াও ঔষধ বানিজ্যে মেতে উঠেছেন ডাক্তার শাহ্ ইমরান চৌধুরী। তার বিরুদ্ধে অহরঅহ ভুল চিকিৎসায় গুরুতর অভিযোগ উঠলে ২২ ডিসেম্বর বিকালে সরজমিনে ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়।

এব্যাপারে ডাঃ শাহ্ ইমরান চৌধুরীর ভুল চিকিৎসায় প্রায় ৬ বছর ধরে পঙ্গুত্ব বরণ করা ২০১৬ সালের কুতুবদিয়া কলেজের এইচ এস সি পরীক্ষার্থী প্রতিভাবান চিত্র শিল্পী বড়ঘোপ ইউনিয়নের অমজাখালী গ্রামের রাশেদ মিয়ার পুত্র গিয়াস উদ্দিন (২৬) জানায়,গত ২০১৬ সালের ২৬ মে জ্বর ও হঁাটু ব্যাথা নিয়ে ডাঃ শাহ ইমরান চৌধুরীর নিকট শরণাপন্ন হলে, ডাক্তার শাহ্ ইমরান চৌধুরী কোন পরিক্ষা- নিরীক্ষা ছাড়াই হাঁটুতে পানি জমছে বলে ইনজেকশনের সিরিজ দিয়ে পানি পেলে দেন। এবং ১ সপ্তাহ পরে পূণরায় দেখা করতে বলেন। এরই মধ্যে ভিকটিম গিয়াস উদ্দিনের অপর হাঁটু ও হাতের কনুই ফুলে
যায়। গিয়াস উদ্দিন ডাক্তারের দেওয়া এক সপ্তাহ পর অর্থাৎ ১ জুন ২০১৬ তারিখ শরণাপন্ন হলে ডাক্তার শাহ্ ইমরান চৌধুরী অবাক হয়ে চট্টগ্রামে প্রেরণ
করেন। ভুক্তভোগী গিয়াস উদ্দিন চট্টগ্রামে বিশেষজ্ঞ সার্জন ডাক্তারের শরণাপন্ন
হলে ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার ফলে এমন সমস্যা হয়েছে বলে বেশ কয়েকদিন মেডিকেল ভর্তি করান। এবং বলেন যে,হাঁটু আর আগের মত কাজ করবে না। হাটাহাটি করা যাবে না।

সেই থেকেই অর্ধাবদি অর্থাৎ প্রায় ৬ বছর ধরে বিছানায় শুয়ে পঙ্গুত্বের সাথে যুদ্ধ করে কোন মতে বেঁচে আছেন। একই রকম ভুল চিকিৎসায় পঙ্গুত্ব বরণ করা বড়ঘোপ আরব সিকদার পাড়া এলাকার মৃত মনিন্দ্র লাল দাশের পুত্র এনায়েতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিমল চন্দ্র দাশ জানায়, গত ২০১৬ সালে মে মাসের প্রথম দিকে হাটু ব্যাথা নিয়ে ডাক্তার শাহ্ ইমরান চৌধুরীর নিকট শরণাপন্ন হলে ডাক্তার শাহ্ ইমরান চৌধুরী কোন পরিক্ষা নিরীক্ষার না করে হঁাটুতে পানি জমার কথা বলে ইনজেকশনের সিরিঞ্জ দিয়ে পানি পেলে দেন। এর পর তীব্র হাঁটু ব্যাথা শুরু হয়। হঁাটু নড়াচড়া করা যাচ্ছে না। তখন ডাক্তার শাহ্ ইমরান চৌধুরীর নিকট যোগাযোগ করলে,তিনি দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের মাদ্রাসের একটি হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার
পর বলেন,যে ইনজেকশনের সিরিঞ্জ এর আঘাতে হাটুর মালা নষ্ট হয়ে যায়। পরে অক্টোবর মাসে হাটুর সার্জারী করে হাটুর মালা ফেলে দিয়ে রট প্রতিস্থাপন করেন। সেই থেকে অর্ধাবদি অর্থাৎ প্রায় সাত বছর পঙ্গুত্বের সাথে যুদ্ধ করে কোন মতে বেঁচে আছেন। তার প্রায় ১৮ লাখ টাকা খরচ হয়ে বর্তমানে তিনি নি:স্ব হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। অপর ভুক্তভোগী কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মিয়াজীর পাড়া এলাকার কাইমুল হুদার স্ত্রী জেলি আক্তার জানায়,৫ মাসের গর্ভাবস্থায় ডাঃ শাহ্ ইমরান চৌধুরীর নিকট জ্বর নিয়ে শরণাপন্ন হলে, ডাক্তার শাহ্ ইমরান চৌধুরী ইনজেকশন দেওয়ার সাথে সাথে ব্লাডিং শুরু হয়। তৎক্ষনিক কুতুবদিয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ৪ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর বাচ্চা নষ্ট হয়ে যায়। এতে তাহার অনেক ক্ষতি হয়েছে বলে জানায়। এ ব্যাপারে অপর ভুক্তভোগী ওরিয়ন ফার্মা লিঃ এর কুতুবদিয়া উপজেলা বিক্রয় প্রতিনিধি(এম আর) জুনাইদুল হক জানায়,গত ২০১৯ সালের জুন মাসে ডাক্তার শাহ্ ইমরান চৌধুরীর নিকট ভিজিট করতে গেলে প্রতিমাসে ৫ হাজার করে টাকা দাবী করেন। না দিলে এ কোম্পানির কোন প্রোডাক্ট লিখবেন না বলে জানায়,তখন জুন /১৯ থেকে ডিসেম্বর /১৯ পর্যন্ত ৬ মাসের ৩০ হাজার টাকা দিলে,আমার কোম্পানির প্রোড়াক্ট লিখতেন। পরে টাকার পরিমান বেশি দাবী করলে, টাকা না দিলে তখন থেকে আমার ওরিয়ন কোম্পানির প্রোড়াক্ট লিখা বন্ধ করে দেন। এ ব্যাপারে অপর ভুক্তভোগী এফএক্স ফার্মা লিঃ এর কুতুবদিয়া উপজেলা ঔষুধ বিক্রয় প্রতিনিধি( এমআর) ও কুতুবদিয়া উপজেলা ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেনটিটিভ এসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ তারেক জানায়,ডাক্তার শাহ্ ইমরান চৌধুরীর নিকট ভিজিট করতে গেলে ১৫ হাজার টাকা দামের চেয়ার দাবী করেন। এটা দেওয়ার পর এক সাপ্তাহ যেতে না যেতে ২০ টি প্লাস্টিকের চেয়ার দাবী করেন। এগুলো দেয়ার এক মাস যেতে না যেতে সিসি ক্যামেরা ও সরঞ্জাম দাবী করে বসেন। একটা ছোট কোম্পানির পক্ষে এত গুলো জিনিস দেওয়া সম্ভব না হলে, নিজের বেতনের টাকা থেকে দিতে হয়েছে। এর পরও আমার কোম্পানির প্রোড়াক্ট না লিখার কারণে,আমি তাহার সাথে দেখা করলে,তিনি মাসিক ১০ হাজার করে চঁাদা দিতে বলেন। আমি টাকা দিতে অসম্মতি জানালে,তিনি আমার দেওয়া জিনিস এতোদিন পরে নিয়ে যেতে বলেন,এটা কি একটা ডাক্তারের নীতি হতে পারে। এ ব্যাপারে ডাঃ শাহ্ ইমরান চৌধুরীর নিকট যোগাযোগ করা হলে তিনি জানায়,এতো গুলো সেবায় একটা দুইটা খারাপ হতেই পারে। এতো দিন তারা কেন আমার সাথে যোগাযোগ করেনি।
৬/৭ বছর পর কেন এমন অভিযোগ আমার বুঝে আসে না। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ জাহাঙ্গীর আলমের নিকট যোগাযোগ
করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ ব্যাপারে এলাকার সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা জরুরি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Comments

comments

Posted ৯:১২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২১

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

প্রকাশক
তাহা ইয়াহিয়া
সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
01870-646060
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com