• শিরোনাম

    শীঘ্রই গণবিজ্ঞপ্তি জারি হবে-ডিজি ড্রাগস

    কোম্পানিগুলো ক্যান্সার সৃষ্টিকারি রেনিটিডিন তুলে নেয়নি

    শহীদুল্লাহ্ কায়সার | ০২ অক্টোবর ২০১৯ | ১১:৩৩ অপরাহ্ণ

    কোম্পানিগুলো ক্যান্সার সৃষ্টিকারি রেনিটিডিন তুলে নেয়নি

    জেলার ফার্মেসিগুলোতে এখনো শোভা পাচ্ছে গ্যাস্ট্রাইটিস (গ্যাস্ট্রিক) এর ওষুধ রেনিটিডিন। ট্যাবলেট, সিরাপ এবং ইনজেকশন। এই তিন আকারে বিক্রি হচ্ছে রেনিটিডিন। পরীক্ষায় এই ওষুধে দূরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারের উপাদান পাওয়া যায়। এই কারণে বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর গত ২৯ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে রেনিটিডিন বিক্রি নিষিদ্ধ করে। কিন্তু নিষিদ্ধের বিষয়টি সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পত্রাকারে জানানো হয়নি। এ কারণে রেনিটিডিন প্রত্যাহারে সরকারি এই দপ্তর জেলায় কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারছেনা।

    পাশাপাশি ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলো এই নিষেধাজ্ঞা মানছে না। ভারত থেকে কাঁচামাল সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতকৃত রেনিটিডিনে ক্যান্সার সৃষ্টিকারি উপাদান পাওয়া গেছে। এই অজুহাতে কোম্পানিগুলো দেশের বাজার থেকে রেনিটিডিন প্রত্যাহার করে নিচ্ছে না। কক্সবাজার জেলাও এর ব্যতিক্রম নয়।

    গতকাল ২ অক্টোবর এই প্রতিবেদককে মুঠোফোনে বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক মেজর জেনারেল মাহাবুবুর রহমান বলেন, সিভিল সার্জন কার্যালয়ে চিঠি পাঠানোর চেয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা উত্তম। এ জন্য শীঘ্রই পত্রিকার মাধ্যমে সকলকে সচেতন করতে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। ওষুধ কোম্পানিগুলোকেও শীঘ্রই বাজার থেকে এই ওষুধ তুলে নিতে হবে।

    কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, কক্সবাজার সদর হাসপাতালের স্টোরে রেনিটিডিন নেই। ২৯ সেপ্টেম্বরই হাসপাতালের ডাক্তারদের রেনিটিডিন ব্যবহার না করতে বলা হয়। রেনিটিডিন মানেই রেনিটিডিন। ট্যাবলেট, সিরাপ কিংবা ইন্জেকশন। যেভাবেই এর ব্যবহার হোক। উপাদান একই থাকবে। যেহেতু এই ওষুধে ক্যান্সারের ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেছে। তাই এর ব্যবহার না করাই ভালো।

    গত দুই দিন ধরে শহরের বিভিন্ন ফার্মেসি ঘুরে দেখা গেছে, ফার্মেসিগুলোতে এখনো শোভা পাচ্ছে রেনিটিডিন। ট্যাবলেট, সিরাপ এবং ইন্জেকশন এই তিন ধরনের রেনিটিডিন অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে। সিরাপ এবং ইনজেকশনের চেয়ে ট্যাবলেটের চাহিদা বেশি। যে কারণে ফার্মেসিগুলোতে ট্যাবলেট বেশি রয়েছে।

    কক্সবাজারের বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া রেনিটিডিন (জেনেরিক নাম) হলো, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস্ এর নিওট্যাক, বেক্রিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস্’র নিউসেপটিন-আর, অপসোনিন এর রেনিটিড, বায়োফার্মার এসিন,ইবনে সিনার ইনসিয়্যাক, এরিস্টোফার্মার লুমেরান, এসিআই’র জেনটিক্স, এসকে+এফ’র পেপটিল-এইচ, ইনসেপ্টা’র নিউফাস্ট, একমি’র রেনিডিন এবং রেনাটা’র নরমা-এইচ। এছাড়াও দেশের নামি-বেনামি বিভিন্ন কোম্পানির রেনিটিডিন বাজারে পাওয়া যায়। বেশি লাভের আশায় যা পল্লী চিকিৎসক এবং গ্রামে ফার্মেসি পরিচালনাকারীরা সাধারণ মানুষকে সেবনে প্রলুব্ধ করেন।

    শহরের বার্মিজ মার্কেট এলাকার শ্যামলি ফার্মেসির মালিক চন্দন দাশ বলেন, কাস্টমার চাইলে বিক্রি করি। স্বেচ্ছায় বিক্রি করি না। কোম্পানি থেকে কিছু বলা হয়নি। ক্যান্সারের উপাদান থাকার বিষয়টি প্রচার হওয়ায় রেনিটিডিন প্রায় বিক্রি হচ্ছে না ।
    কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট এসোসিয়েশন কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ দত্ত বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ হলে কিংবা ওষুধ প্রস্তুতে অনিয়ম হলে এর দায় কোম্পানির। আমাদের কাছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোন চিঠি আসেনি। কোন ওষুধ বাজার থেকেও তুলে নেয়া হয়নি।

    ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রিজেনটেটিভ এসোসিয়েশন (ফারিয়া) কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, কোম্পানির পক্ষ থেকে মার্কেট থেকে ওষুধ তুলে নেয়ার কোন ধরনের নির্দেশনা আমাদের কাছে নেই। এই কারণে আমরা ফার্মেসি থেকে রেনিটিডিন তুলে আনছি না। কোম্পানি থেকে বলা হলেই আমরা এই ওষুধ মার্কেট থেকে প্রত্যাহার করে নেবো।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ আবদুল মতিন বলেন, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত কোন চিঠি এখনো পায়নি। চিঠি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। গতকাল (দুপুর আড়াইটা) পর্যন্ত ওষুধ কোম্পানিগুলোকে ফার্মেসি থেকে রেনিটিডিন গ্রুপের ওষুধ প্রত্যাহার করার কোন নির্দেশনা প্রদান করেননি বলেও জানান সিভিল সার্জন।

    দেশবিদেশ/নেছার

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ