• শিরোনাম

    কোর্ট হাজতে পুলিশের হাতে আইনজীবী লাঞ্চিত

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৬ জুলাই ২০১৯ | ১:৪২ পূর্বাহ্ণ

    কোর্ট হাজতে পুলিশের হাতে আইনজীবী লাঞ্চিত

    কক্সবাজার জেলাপ্রশাসক কার্যালয় সংলগ্ন কোর্ট হাজতে আইনজীবী-পুলিশ ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় কোর্ট পুলিশের হাতে নিগ্রহের শিকার হয়েছেন মাহামুদুল হক মাহমুদ ও জিয়াউদ্দিন বাবলু নামে দুই আইনজীবী। গতকাল ১৫ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
    জানা গেছে, চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফে আত্মসমর্পণকারী ১০২ ইয়াবা কারবারিকে গতকাল আদালতে হাজির করা হয়। হাজিরা পরবর্তী বেশ কয়েকজন কারবারিকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। ওই সময় জোবায়ের নামে আত্মসমর্পণকৃত এক কারবারিকে পরে কারাগারে পাঠানোর জন্য কোর্ট হাজতে রেখে দেয়া হয়। বিকেল ৫ টার দিকে কারা হাজতে জোবায়েরের সঙ্গে স্বাক্ষাৎ করতে যান আইনজীবী মাহামুদুল হক মাহমুদ। ওই সময় পুরনো মামলার আইনজীবী ফি সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে হাজতি জোবায়েরের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। সেখানে দায়িত্বরত এস.আই হাসান, এ.এসআই হুমায়ূনসহ জসিম ও বাবুল নামে কোর্ট পুলিশের দুই সদস্যও এই আইনজীবীর সঙ্গে বাক-বিত-ায় জড়িয়ে পড়েন। তাঁরা হাজতখানা থেকে বের করে দিতে চাইলে অ্যাড.মাহামুদ নিজের পেশাগত পরিচয়ের বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কিছুক্ষণ উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় চলে। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত পুলিশ সদস্যরা অ্যাড. মাহমুদকে ও অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন বাবলুকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি হাতকড়া পড়িয়ে হাজত সংলগ্ন কক্ষে আটকে রাখেন। ঘটনার কথা জানার পর পুুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা ঘটনাস্থলে ্উপস্থিত হন। এরপর লাঞ্ছনার শিকার আইনজীবীদ্বয়কে মুক্ত করে দেয়া হয়।
    এই বিষয়ে জানতে চাইলে লাঞ্ছনার শিকার অ্যাডভোকেট মাহামুদুল হক মাহমুদ বলেন, আত্মসমর্পণ করে হাজতে থাকা জুবাইরের সঙ্গে ইয়াবাসহ আটককৃত আলম ও আফসার আমার মক্কেল। আদালতের মাধ্যমে আমি তাদের জামিন মঞ্জুর করি। ওই মামলায় জুবাইরের কাছে আমার আইনজীবী ফি বকেয়া থাকায় তার সঙ্গে হাজতখানায় কথা বলি। জুবাইরের ভাই ইমাম হোসেন ও তার পার্টনার ইমাম হোসেনের উপস্থিতিতে বাকি টাকা চাইলে ইমাম হোসেন আমাকে ধাক্কা মারে। এরপরই জুবাইরের ইশারায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা আমাকে মারধর করে হাতকড়া লাগিয়ে আটকে রাখে।
    বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকের কার্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, তিনি (কোর্ট ইন্সপেক্টর) ছুটিতে রয়েছেন। পরে এস.আই হাসান নামে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ অফিসারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে গণমাধ্যমে আমি কোন বক্তব্য দিতে পারবো না।
    জানতে চাইলে পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, কয়েকজন আইনজীবী কক্সবাজার সদর কোর্ট পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে মারামারির ঘটনা ঘটিয়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের পোশাক ছিড়ে ফেলেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
    কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইকবালুর রশিদ আমিন সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভুল বুঝাবুঝির কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। আগামি পরশু (১৭ জুলাই) বিষয়টি সুরাহার জন্য আমরা বৈঠক করবো। আশাকরি ওই বৈঠকে বিষয়টি সুরাহা হয়ে যাবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ