বৃহস্পতিবার ২১শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

মাতারবাড়ীতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাথে জাইকা ও কোল পাওয়ার কতৃপক্ষের মতবিনিময়

ক্ষতিপূরণ, চাকুরী ও পূর্ণবাসন না করায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষোভ, সমস্যা নিরসনের আশ্বাস

মোহাম্মদ শাহাব উদ্দীন,মহেশখালী   |   মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৯

ক্ষতিপূরণ, চাকুরী ও পূর্ণবাসন না করায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষোভ, সমস্যা নিরসনের আশ্বাস

মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে জাইকা কতৃক কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ও স্থানীয় কমিউনিটিদের সাথে ১৬ এপ্রিল সকাল ১০ টায় মাতারবাড়ী মজিদিয়া মাদ্রাসায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ’র সভাপতিত্বে জাপানী উন্নয়ন সংস্থা জাইকা ও কোল পাওয়ার কতৃপক্ষের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন জাইকা ও কোল পাওয়ার কতৃপক্ষের প্রতিনিধি , স্থানীয় কমিউনিটি, মানবাধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। উক্ত অনুষ্ঠানে বেশ কজন শ্রমিককে ক্ষতি পূরণের চেক প্রদানও করা হয়।
প্রথমে কোল পাওয়ারের তত্ত্ববাধয়ক আ ন ম ওবাউল্লাহ সঞ্চালয়নায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন জাইকা প্রতিনিধি যথাক্রমে মিঃ হীরতা ,মোকাম্মেল উদ্দীন,ফুজি মাগুরি,কোল পাওয়ারের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ,কোল পাওয়ারের তত্ত¦বাধয়ক প্রকৌশলী আ ন ম ওবায়দুল্লাহ, মাতারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ,ধলঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান,জেলা পরিষদ সদস্য মাশরাফা জান্নাত,মাতারবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আবু হায়দার, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী মোহাম্মদ শাহাব উদ্দীন, হামেদ হোসাইন মেম্বার, ছকুনতাজ আতিক মেম্বার, মও মহসিন, জাকের হোসাইন, হুমাইয়রা বেগম প্রমুখ।
মাতাবারড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার মোহাম্মদ উল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর সম্প্রতি দেওয়া বক্তব্যের উধৃতি দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সাধারণ জনগনের ক্ষতিকরে উন্নয়ন চাইনা। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশমতে আমার মাতারবাড়ীর মানুষের ক্ষতিপূরণ,পূর্ণবাসন, চাকুরী নিশ্চিত করুন। লবণ চাষীরা ব্যাংক থেকে কর্জ নিয়ে চষাবাদ করেছিল। আজ তাদের জমিও নেই ক্ষতিপূরণরে টাকা ও ঠিকমত পাচ্ছে না । অপর দিকে ব্যাংক কতৃপক্ষ মামলা করায় আমার এলাকার লবণ চাষীরা বাড়ীতে পুলিশী গ্রেফতার আতংকে বাড়ী থাকতে পারছে না। কিছু শ্রমিক কে টাকা দেওয়া শুরু করলেও মাতারবাড়ীর প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিক ক্ষতি পূরণ পায় নাই। প্রকল্পের ২৫% কাজ শেষ হলেও উচ্ছেৎ কৃত ৪৫টি পরিবারকে কোন প্রকার পূর্ণবাসন,চাকুরী ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। কয়লা বিদ্যুৎ নির্মানে বাধঁ দেওয়ার ফলে বর্ষায় প্লাবিত হয় বাড়ীঘর। ফলে নৌকা নিয়ে চলাচল করতে শিক্ষার্থী বোঝায় নৌকা ডুবে আহত। এনমকি ওই পানিতে ডুবে বেশ কটি শিশুর মুত্যৃর ঘটনাও ঘটেছে। দ্রুত কালভার্ট ও স্লুইসগেইট তৈরী করার জোর দাবী জানান তিনি।
ধলঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বলেনঃ
ধলঘাটা-মাতারবাড়ীর শিক্ষিত সমাজ একেবারে হতাশ , চাকুরী না পাওয়ার কারণে। ধলঘাটার মাতারবাড়ীর ১০ থেকে ২০ জন ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা ছেলে থাকে তাদের চাকরী দেওয়ার আহবান জানান। সামনে বর্ষায় মাতারবাড়ী একপাশে ডুবে যাচ্ছে, ধলঘাটায় আরেক পাশে ডুবে যাচ্ছে তা দেখার কেউ নেই। কয়লা বিদ্যুৎ এর ১০নং গেইট নাছির মোহাম্মদ ডেইল থেকে ধলঘাটা যেতে যে সড়কটি রয়েছে তার দু পাশে দুইশ দুইশ চারশ ফুট গাইড ওয়াল করে দিলে আমদের ও আপনাদের চলাচলে সুবিধা হবে। তিনি আরো বলেন এলও অফিসে ঘুষ না দেওয়ার কারণে তার পরিবারের চেকও পাচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে।
মাশরাফা জান্নাত, সদস্য জেলা পরিষদঃ বলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়লা বিদ্যুৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আসা শ্রমিকরা মাতারবাড়ীতে নিজেকে অবিবাহিত বলে আমাদের মেয়েদের সাথে প্রতারণা করছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার আহবান জানান।
আবু হায়দার, সাধারণ সম্পাদক ,মাতারবাড়ী আওয়ামীলীগ বলেনঃ
কোল পাওয়ার কতৃপক্ষের ভবণ গুলো ৬ মাসে ১ বছরে ৫ তলা ভবণ তৈরী করা গেলে কেন ৪৫টি পরিবারের বাড়ী গুলো কেন নির্মান শেষ হচ্ছে না। মাতারবাড়ীর মানুষের চলাচলের ব্যবহারের জন্য ব্যবহৃত সড়কটি আপনারা ব্যবহার করেবড় বড় লরি, ট্রাক চলাচল করছে। ফলে সড়কে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। দ্রুত সময়ে আপনারা বিকল্প সড়ক তৈরী করার আহবান জানান। তা না হলে দাবী আদায়ে আন্দোলনে যাওয়ার হুশিয়ারী দেন।
মোহাম্মদ শাহাব উদ্দীন,সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী বলেন ঃ
মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক মোহাম্মদ শাহাব উদ্দীন বলেন, মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা বাসীর জন্য কোহেলিয়া নদী খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কোল পাওয়ার কতৃপক্ষ ড্রেজার দিয়ে মাটি ভরাট করার ফলে অতিরিক্ত বর্জ্য কূহলীয় নদীতে আসার কারণে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে মাতারবাড়ী-ধলঘাটার শতাধিক ট্রলার চলাচল করতে পারছে না। স্থানীয়রা ছোট ছোট জেলে পরিবার জাল দিয়ে মাছ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করত তারা আজ বেকার অসহায় হয়ে পড়েছে। নদীটি খনন করে নদীটি বাচাঁন। এছাড়াও কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মাতারবাড়ী –ধলঘাটা থেকে শ্রমিক নিয়োগের আহবান জানান।
হুমাইয়রা বেগমঃ
উচ্ছেৎকৃত ৪৫ পরিবারের পক্ষে হুমাইরা বেগম বলেন, ৬ মাসের মধ্যে পূর্নবাসন, প্রত্যাক পরিবারের একজন সদস্যকে চাকুরী, বাড়ীর ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ৪৫টি পরিবার উচ্ছেৎ করা হয়। অদ্যবদি ইউনিয়ন পরিষদ কতৃক ২০ কেজি কওে চাউল ছাড়া কোন প্রকার সহায়তা পায়নি। গত ৩ বছর ধর উচ্চ ভাড়া দিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছি। কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি বলেন আমাদের কে দ্রুত পূনবাসন,ক্ষীতপূরণ ও চাকুরী দিয়ে মানুষের মত বাচাঁর সুযোগ করে দেওয়ার জাইকা ও কোল পাওয়ার কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এছাড়াও অনেকে বক্তব্য রাখেন।
কোল পাওয়ার কতৃপক্ষের তত্ববাধয়ক আ ন ম ওবাইদুল্লাহ তিনি অভিযোগ গুলো শুনে দ্রুত সস্যসা সমাধান করার আশ^াস প্রদান করেন।

Comments

comments

Posted ১১:৫২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com