• শিরোনাম

    খুরুস্কুল আশ্রয়ণ প্রকল্প

    ক্ষতিপূরণ না দিয়ে ভিটে ও ফসলি জমির উপর সড়ক নির্মান

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

    ক্ষতিপূরণ না দিয়ে ভিটে ও ফসলি জমির উপর সড়ক নির্মান

    খুরুস্কুল আশ্রয়ণ প্রকল্পে যাতায়াতের লক্ষ্যে দ্রুত গতিতে সড়ক নির্মান কাজ চলছে। সড়কের জন্য নির্ধারিত রাস্তা না থাকায় স্থানীয়দের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমির উপর করা হচ্ছে এই সড়ক। এতে ফসলি জমি ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে ধানের ফসলির। মাথায় হাত দিয়েছেন কৃষকরা।। এই অবস্থায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। জমির মালিকরা নির্মানাধীন সড়কের উপর বসে, শুয়ে অনশন করেছেন। এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামবাসী জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি দায়ের করে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
    জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুত খুরুস্কুল বিশেষ আশ্রয়ন প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের জন্য নতুন সড়ক নির্মান কাজ দ্র্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। কিন্তু এর জন্য প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের জন্য সরকারি জমি না থাকায় স্থানীয়দের ব্যক্তিগত জমির উপর এই সড়ক নির্মান করা হচ্ছে। জমির মালিকদের কোন প্রকার নোটিশ না দিয়ে এবং ক্ষতি পূরণ না দিয়ে তাদের ভিটে ও ফসলি জমির উপর সড়কের নির্মান কাজ করাই বিক্ষুব্দ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। বিক্ষুব্দ এলাকাবাসী ১৯ নভেম্বর দুপুর ১২ টার দিকে নির্মানাধীন সড়কের উপর শুয়ে এবং বসে অনশন করে। বিকাল ৫টা পর্যন্ত সড়কের অনশন করার কারনে সড়ক কাজে ব্যবহৃত ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকে। আবার অনেক ট্রাক আটকা পড়ে। এর আগের দিন ১৮ নভেম্বর গ্রামবাসী জেলা প্রশাসসক বরাবর স্বারকলিপি দিয়েছেন। এতে তারা দাবি করেন, তাদের জমির উপর কোন রাস্তা হতে পারবেনা। রাস্তা করতে হলে আগে ক্ষতি পূরণ দিতে হবে। আর ইতিমধ্যে যাদের জমির উপর রাস্তা হয়েছে তাদের ন্যার্য্য ক্ষতিপূরন বুঝিয়ে দিতে হবে।
    এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি মেম্বার জয়র্ধন দে জানান, পঞ্চায়েত পাড়া থেকে হাফেজা পাড়া পর্যন্ত দুই গ্রামবাসীর জমির উপর দিয়ে এ রাস্তার নির্মান কাজ চলছে। এই দুই গ্রামের অধিকাংশ মানুষ গরীব অসহায়। তারা কৃষি কাজ করে তাদের জীবন নির্বাহ করেন। এখন তাদের কৃষি জমি রাস্তায় চলে গেলে না খেয়ে থাকতে হবে। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গরীবের জায়গা দখল করে ও কৃষি জমির উপর কোন উন্নয় কাজ না করার জন্য বলেছেন। এরপরও যেহেতু এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত মানবসেবামুলক একটি প্রকল্প তাই ক্ষতিগ্রস্থদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরন দিয়ে সড়ক নির্মান কাজ করা হোক।
    ক্ষতিগ্রস্থ অমলাংশু দে, দুলাল কান্তি দে, শিবুল কান্তি দে,বাঁশিরাম দে, আবু বক্কর ছিদ্দিকী, বজল করিম, দু:শাসন দে, নুনু কুমার আশ্চার্য্য, উমেশ দে, উপেন্দ দে, হোসেন, চিত্তরঞ্জন দে, দিলিপ দে, মৃদুল দে, সৈকত দে, উজ্জল দে, বিমল দে, কাজল কান্তি দে, কুঞ্জু কুমার দেসহ শতাধিক পরিবারের সদস্যরা নির্মানাধীন সড়কের উপর অবস্থান করে।
    ক্ষতিগ্রস্থ অমালাংশ দে জানান, তার বাপ দাদার ৪০ শতক জমির উপর সড়ক নির্মান করা হচ্ছে। চিত্তরঞ্জন দে জানান, ফসলি জমির উপর মাটি ফেলে ধানের ক্ষেত বিনষ্ট করা হয়েছে। ধার নিয়ে করা এই ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন লাভতো দুরের কথা ধারও শোধ করা যাবেনা। একদিকে জমি হারাতে হচ্ছে অন্যদিকে ক্ষতি হয়েছে ক্ষেতের।
    দুলাল কান্তি দে জানান, তার সীমানা বেড়া কেটে ফেলা হয়েছে। ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে ঘরের একাংশ। অন্যদের আশ্রয় দেয়ার জন্য সরকার এখন আমাদের আশ্রয়হীন করছে। ৫ শতকের ভিটে জমির ২ শতক রাস্তার জন্য নিয়েছে আর ৩ শতক জমিতে পরিবারের ৯ সদস্য নিয়ে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। পঞ্চায়েত পাড়ার মুখে থাকা দোকানগুলো ভেঙ্গে দিয়ে রাস্তা করা হলে না খেয়ে মরতে হবে বলে জানান দোকানিরা।
    কক্সবাজারের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুর রহমান জানান,খুরুশকুল আশ্রয়ণ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সড়ক নির্মান করা হচ্ছে। ১৮ ফুট প্রস্থত রাস্তা করা হবে। সড়কে স্থানীয়দেরও কিছু জমি রয়েছে। স্থানীয়রা জমি ছেড়ে দেয়ায় সড়ক নির্মান কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। এখন যদি স্থানীয়রা জমি ছেড়ে না দেয় বা বাধা দেয় তাহলে সড়ক নির্মান কাজ বন্ধ থাকবে। কারন জোর করে মানুষের ব্যক্তিগত জমির উপর সড়ক নির্মানের কোন আইন নেই।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ