মঙ্গলবার ১৯শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

সংস্কারের পর মুহূর্তেই আগের অবস্থায় সড়ক

ক্ষত-বিক্ষত পর্যটন শহরের প্রধান সড়ক

শহীদুল্লাহ্ কায়সার   |   শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ক্ষত-বিক্ষত পর্যটন শহরের প্রধান সড়ক

ক্ষত-ব্ক্ষিত অবস্থায় কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়ক। ধীরে ধীরেই সৃষ্টি এই অবস্থার। দিন দিন যা আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে ভঙ্গুর এই সড়ক সংস্কার করা হচ্ছে। কিন্তু এক ঘণ্টা যেতে না যেতেই সংস্কারকৃত অংশ আগের চেহারায় ফিরে যাচ্ছে।
শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। বিপুল সংখ্যক মানুষ এই ক্ষত- বিক্ষত সড়কের কারণে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। কিন্তু দেখার যেন কেউ নেই। বিটুমেন,কংক্রিটের এই সড়কের অনেক স্থানে অস্তিত্বই লোপ পেয়েছে। পরিণত হয়েছে গ্রাম্য ইটের সড়ক। যা মাঝারি আকারের যানবাহন চলাচলেরও অনুপযুক্ত।

দীর্ঘদিন এই সড়ক সংস্কারের দায়িত্ব ছিলো সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপর। ২০১৮ সালে যা কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)’র কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে কউক এই সড়কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে। চলতি বছরেই দ্বিতীয়বারের মতো সংস্কার কাজ পরিচালনা করছে কউক। গত কয়েকদিন ধরে যা অব্যাহত রয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে আমরা শহরের প্রধান সড়ক সংস্কারের দায়িত্ব কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)’র কাছে হস্তান্তর করেছি। বর্তমানে কউক সড়ক সংস্কারের কাজ পরিচালনা করে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে থাকার সময় সংস্কারের নামে যা করা হতো। বর্তমান সময়েও তার ব্যত্যয় ঘটছে না। যাচ্ছেতাই সংস্কার কাজ চালাচ্ছে। ফলে বছর কিংবা মাসব্যাপী স্থায়ীত্ব থাকা দূরে থাক। কয়েকঘণ্টার মধ্যেই সংস্কারকৃত অংশ পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসছে। গত কয়েকদিনের মধ্যে এই সড়কের উপর দিয়ে চলাচল করলে যা স্পষ্ট বোঝা যাবে।
গতকাল প্রধান সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, কউক’র উদ্যোগে সড়কটির সংস্কার কাজ পরিচালনা করছে। শুধুমাত্র সড়কের বড় বড় গর্তগুলোই ইট আর পাহাড়ি মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। এ জন্য সড়কের বিভিন্ন স্থানে রাখা হয়েছে নি¤œ মানের ইট। নি¤œমানের এসব ইট ব্যবহার করেই করা হচ্ছে সড়ক সংস্কার। পাশাপাশি রোলার কোস্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে।

গত কয়েকদিনে বার্মিজ মার্কেট, কালুর দোকান, রুমালিয়ারছড়া এবং আলী জাঁহাল ও সাবমেরিন কেবল স্টেশন সংলগ্ন সড়কের অংশ সংস্কার করা হয়। ইট আর পাহাড়ি মাটি দিয়ে করা এই সংস্কারের স্থায়িত্ব নেই বললেই চলে। সাবমেরিন কেবল স্টেশনের সামনের অংশের গর্তে গতকাল ইটের টুকরা আর পাহাড়ি মাটি দেয়া হয়। এরপর সড়ক সমান করার জন্য রোলার কোস্টার চালানো হয় সড়কের উপর। রোলার কোস্টার চলতেই ইটের টুকরোগুলো গুড়িতে পরিণত হয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই যে সংস্কার কাজের অস্তিত্বই বিলুপ্ত হবে। সাবমেরিন কেবল স্টেশন সংলগ্ন সড়ক ছাড়াও উল্লিখিত সড়কগুলোতে পরিচালিত সংস্কার কাজের চিত্রও একই।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কউক সদস্য (প্রকৌশল) লে. কর্নেল আনোয়ার উল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বাজেট কম। কোনমতে সড়ক সচল রাখার চেষ্টা করছি।’ বিটুমেন দিয়ে করতে পারলে ভালো হতো। সড়ক সংস্কারের ১ নং ইট ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গতকাল প্রধান সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, সড়কটির প্রায় পুরো অংশই ক্ষতিগ্রস্ত। শহরের বার্মিজ মার্কেট, কালুর দোকান, তারাবনিয়ার ছড়া (ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট), আলীর জাঁহাল, সিটি কলেজ গেইট, সাবমেরিন ক্যাবল, ও বাসটার্মিনাল সংলগ্ন অংশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সড়কের উল্লিখিত অংশে সৃষ্টি হয়েছে মাঝারি আকারের খানাখন্দ। আলীর জাঁহাল ও সিটি কলেজ গেইটের সামনের অংশে বিটুমেন আর কংক্রিটের অস্তিত্বই নেই। পাকা সড়ক পরিণত হয়েছে ইটের গ্রাম্য সড়কে।

হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য উপযুক্ত এই সড়ক। নিয়মিত এই সড়কের উপর দিয়ে চলাচল করে ভারী যানবাহন। যে কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি। শহরে ট্রাক প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু সন্ধ্যার পর এমনকি দিনের বেলাতেও সেই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা থাকে না। ইস্পাত, চালসহ বিভিন্ন ভারি সামগ্রী বহনকারী যানবাহন সড়কের উপর দিয়ে শহরে প্রবেশ করে। যার ফলে সড়কের স্থায়িত্ব কমে যাচ্ছে। প্রশাসনিকভাবে এ ব্যাপারে কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় না। ফলে ভারী যানবাহনগুলো নির্বিঘেœ শহরে প্রবেশ করতে পারে।

যেসব স্থানে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে ঃ
বাস টার্মিনাল থেকে হলিডে মোড়। শহরের প্রধান সড়কের প্রায় ৫ কিলোমিটার। এই অংশের বাস টার্মিনালস্থ ফিলিং স্টেশনের সামনের অংশ, বিজিবি ক্যাম্প, সাবমেরিন ক্যাবল স্টেশন, সিটি কলেজ গেইট, আলীর জাঁহাল, টিএমসি, রুমালিয়ারছড়া হাশেমিয়া মাদ্রাসা, টেকনিক্যাল স্কুল (ভোকেশনাল), তারাবনিয়ার ছড়া, কালুর দোকান, টেকপাড়া বায়তুল ইজ্জত জামে মসজিদ, বার্মিজ মার্কেট, ফায়ার সার্ভিস, লালদিঘির পূর্ব পাড় থেকে থানা রোড, ঝাউতলা সংলগ্ন প্রধান সড়কের বিভিন্ন স্থান।

Comments

comments

Posted ১:৫১ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com