• শিরোনাম

    উপজেলা ঘোষনা বার বার উপেক্ষিত, সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছে গণমানুষের দাবী

    কড়ি-পাইপ-হাটখলা বাজার এখন বিশাল ঈদগাঁও বাজার!

    সেলিম উদ্দীন, ঈদগাঁও | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

    কড়ি-পাইপ-হাটখলা বাজার এখন বিশাল ঈদগাঁও বাজার!

    কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁও বাজার সৃষ্টির গোড়ার কথা ইতিহাসের কোথাও সুস্পষ্ট ভাবে লিখা নেই। এমনকি এতদাঞ্চলের বাস্তব ইতিহাস সুসংবদ্ধভাবে কোথাও লিপিবদ্ধ নেই। কক্সবাজারের ইতিহাস বইটিতে ঈদগাহ’র ইতিহাস প্রাধান্য পেয়েছে মাত্র কয়েকটি লাইন। স¤্রাট শাহ সুজার গতিপথ ও অবস্থানই মূলত ঈদগাঁওর ইতিহাসে প্রাধান্য পায়। শাহ সুজার পূর্বে ঈদগাঁওর পূর্বের নাম ছিল নয়াবাদ। স¤্রাট শাহ সুজার পদচারনা এবং ঈদের নামায আদায়কে ঘিরে নয়াবাদ নামকরণটি পাল্টে গিয়ে ঈদগাঁও নামে ইতিহাসে স্থান পায়। আরো অজানা ইতিহাস কালের বিবর্তনে স্মৃতির ডায়রি থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। তেমনি একটি ইতিহাস হচ্ছে বাজার স্থানান্তরের ইতিহাস।
    সংরক্ষিত তথ্য সূত্র না থাকলেও এলাকার অতি বয়োবৃদ্ধ কালের প্রত্যক্ষদর্শী মুরব্বীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ব্রিটিশ আমলে ঈদগাঁও বাজারটি বর্তমান ইসলামাবাদ ইউনিয়নে নদীর উত্তর তীরবর্তী খোদাইবাড়ি নামক স্থানে ছিল। বাজারটি কোন অজানা দূর্ঘটনায় পুড়ে গেলে নাম পাল্টে পুরা হাটখলা নামে রুপ নেয়। সে সময়ে মুদ্রার প্রচলন ছিল না। মুদ্রার পরিবর্তে কড়ি নিয়ে লেনদেন চলতো বলে জানা যায়। তাই কড়ির বাজার হিসেবে পরিচিত। কালক্রমে বাজারটি চলে যায় একই ইউনিয়নের হিন্দু পাড়ার পার্শ্ববর্তী জায়গায় মমতাজ মেম্বারের বাড়ির পার্শ্বে। যার নাম ছিল মিনি বাজার। পরবর্তীতে স্থানান্তরিত হয় বর্তমান জালালাবাদ ইউনিয়নের তেলি পাড়া সংলগ্ন জলদাশ পাড়ায়। সেখানে বেচাকেনা চলে দীর্ঘদিন। তথনকার সময়ে এলাকার কোথাও কোন টিউবওয়েল (নলকুপ) ছিলনা এবং চিনতওনা। নদীর বালুচরে গর্ত খুড়ে বেশিরভাগ লোকজন খাবার পানি সংগ্রহ করতো। এমনি সময়ে তৎকালীন সরকার আমলে বর্তমান ঈদগাঁও বাজারের যেখানে জনকল্যান পরিষদ ও পাঠাগার রয়েছে সেখানে জনস্বার্থে একটি টিউব ওয়েল স্থাপন করলে বিভিন্ন স্থানের লোকজন তা দেখতে ভীড় জমায়। কারণ তখন টিউবওয়েল থেকে পানি উঠার ব্যাপারটি দেখেনি লোকজন। অবাক দৃষ্টিতে লোহার পাইপ দিয়ে মাটি থেকে কিভাবে পানি উঠে সে দৃশ্য এক পলক দেখার জন্য দিন দিন জনসমাগম ঘটতে থাকে। এভাবে জনসমাগম হতে থাকলে পার্শ্ববর্তী জলদাশ পাড়া হতে ব্যবসায়ীরা টিউবওয়েলটির আশেপাশেই ভাসমান পসরা নিয়ে ব্যবসা শুরু করে। ধীরে ধীরে চাউল,তরিতরকারী,মাছ ইত্যাদির বাজার বসে যায়। মোটামুটি ছোটখাট একটি বাজার হয়ে গেলে এ বাজারটির নাম বসে যায় পাইপ বাজার। অনেকে স্থানীয় ভাষায় পাইক বাজার বলতো। ছোট্ট এ বাজারে বোম্বা ও চেরাগ ছিল রাতের আলোর উৎস। পিডিবি বা পল্লী বিদ্যুৎ ছিল না। বর্তমান কালিবাড়ির পার্শে¦ মোহন দাশ নামক এক জমিদারের কাচারি বাড়ি ছিল। সে সময় বর্তমান প্রধান সড়ক অর্থাৎ ডিসি সড়কটি ছিল না। বাংলাদেশ স্বাধীনের পর সর্বপ্রথম বাজারের পশ্চিমে এজাহার হাজীর একটি চা দোকান এবং পরবর্তীতে বাদল রায় নামক এক হিন্দু ভদ্রলোক একটি চা দোকান শুরু করে। লোকজন আস্তে আস্তে উক্ত সড়ক সমুহ আবিষ্কার করতে শুরু করে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও চাহিদার ফলে একের পর এক দোকান গড়ে উঠতে থাকে। বিশিষ্ট জমিদার বর্তমান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খান বাহাদুর মোস্তাক আহমদ চৌধূরীর দাদা খান বাহাদুর মোজাফ্ফর আহমদ চৌধুরী এম ই স্কুল নামে একটি স্কুল প্রতিষ্টা করেন। যা বর্তমানে ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। এছাড়া তার দাদী আলমাছ চৌধুরানীর নামানুসারে ঈদগাঁও আলমাছিয়া ফাজিল মাদ্রাসাও প্রতিষ্টা করেন। আশেপাশে কবিরাজ বাড়ি, বঙ্কিম বাড়ি ও রমজান মিয়ার স-মিলসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা গড়ে উঠে। এক সময় পাইপ বাজারটি সম্প্রসারন হতে খাকে। পরে মাছ বাজারটি বর্তমান মাছ বাজারের জায়গায় চলে গেলে পাইপ বাজারটি হয়ে যায় লাকড়ির বাজারে। তখন ইউনিয়নগুলো অবিভক্ত থাকায় বাজারটি ঈদগাঁও বাজার হিসেবে প্রতিষ্টিত হয়। ৮০র দশকে ইউনিয়ন বিভক্ত হয়ে ইসলামাবাদ, জালালাবাদ ও ঈদগাঁও এ ৩ ইউনিয়নে রুপ লাভ করে। ইউনিয়ন বিভক্তির রুপকারের অন্যতম ছিলেন সাবেক ইসলামাবাদ চেয়ারম্যান জাফল আলম। বাজারের এক অংশ ঈদগাঁও ও আরেক অংশ জালালাবাদ ইউনিয়নের অন্তভুক্ত। নদীর উত্তর পাড়ের অংশ ইসলামাবাদে পড়েছে। যদিওবা বহৃত্তর বাজারটি ৩ ইউনিয়নের অন্তভুক্ত তবুও পরিচিতি বা সঙ্গত কারণে ঈদগাঁও বাজার হিসেবেই চলে আসছে। এ পর্যন্ত জালালাবাদ অংশের স্থানটি জালালাবাদ বাজার হিসেবে কোন দাবীও উঠেনি।
    দেশবিদেশ /২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮/নেছার

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ