• শিরোনাম

    খুটাখালীর পাহাড়ে ১০ হাজার পরিবার ঝুঁকিতে!

    সেলিম উদ্দীন,ঈদগাঁও, | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ

    খুটাখালীর পাহাড়ে ১০ হাজার পরিবার ঝুঁকিতে!

    চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীতে পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করছে অন্তত কয়েক হাজার পরিবার। এসব পাহাড়ে কম করে হলেও ১০ হাজার ঝুঁকিপূণ বসতি রয়েছে। কোথাও উঁচু পাহাড়ের টিলায় এবং পাদদেশে বসতি স্থাপন করে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন এসব পরিবার। খুটাখালী ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুর রহমান বলেন, পাহাড় ঘেরা সেগুন বাগিচা, মেদাকচ্ছপিয়া, পুর্ব পাড়া, দরগাহ পাড়া, নাছিরেরজুম, থমতলা ইউনিয়নেরই অংশ। তবে সেখানে ইউনিয়নের কয়েকশ ভোটার পরিবার-পরিজন নিয়ে পাহাড়ি জায়গায় বসতি নির্মাণ করে রয়েছে। এসব পরিবারকে অনেক আগে থেকেই তাগাদা দেয়া হয়েছে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে দূরে থাকতে। বিষয়টি মাসিক আইন-শৃঙ্খলা ও সমন্বয় সভায়ও উত্থাপন করেছি। তিনি আরো বলেন, ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকাই পাহাড়ি। সেখানে যুগ যুগ ধরে বসবাস করছে এখানকার মানুষ। এখানে পাহাড় ধসের তেমন ভয় না থাকলেও রয়েছে বড় বড় গাছ পড়ে প্রাণহানির আশঙ্কা।

    এর পরেও যেসব এলাকার মানুষ চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পাহাড়ের উঁচুতে এবং পাদদেশে বসবাস করছেন তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। সরজমিন ইউনিয়নের পাহাড় বেষ্টিত বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, পাহাড়ি এসব গ্রামে চলাচলের জন্য ইট বা কার্পেটিং কোন ধরণের রাস্তা নেই। বৃষ্টি হলেও মারাত্মকভাবে পিচ্ছিল হয়ে উঠে পাহাড়ি এসব রাস্তা। তাছাড়া উঁচু পাহাড়ে বসবাসকারী লোকজন উঠা-নামা করার সময় পড়ে গিয়ে হাত-পা ভেঙে যায়। এই অবস্থায় লাগাতার ভারী বর্ষণ শুরু হলে বন্দি থাকা ছাড়া কোন উপায়ান্তর নেই বলে জানালেন বসবাসকারী অনেকে। ইউনিয়নের নয়াপাড়া থমতলা এলাকার গৃহবধু লিমাবেগম বলেন, আমাদের বাড়ি ভিটে পাহাড়ের ওপরে হলেও এখানে টিউবওয়েল নেই। তা প্রতিদিন একশ ফুট নিচে গিয়ে টিউবওয়েল থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করে আনতে হয়। অন্যান্য সময় তেমন সমস্যা না হলেও বর্ষা মৌসুমে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় নিচ থেকে পানি আনতে কি যে যন্ত্রণা ভোগ করতে হয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    দরগাহ পাড়া গ্রামের দিনমজুর আবদু ছালাম বলেন, বিকল্প কোন জায়গা না থাকায় ঝুঁকি হলেও পাহাড়ের উঁচু টিলাতে বসবাস করতে হচ্ছে পরিবার-পরিজন নিয়ে। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশ্রাব আহমেদ বলেন, বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ এবং অবৈধভাবে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে। ইতোপূর্বেও এখানকার অনেক এলাকায় পাহাড় নিধনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে মামলা দেওয়া হয়েছে এবং জরিমানাও আদায় করা হয়েছে। যেসব এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতি রয়েছে তাদের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে যৌথ অভিযান চালানো হবে। বিশেষ করে পাহাড় নিধনকারীদের একটি তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চকরিয়াকে দেয়া হয়েছে। ওই তালিকা অনুযায়ী পূণরায় অভিযান চালানো হবে। এ ব্যাপারে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দিন মো: শিবলী নোমান বলেন, যেসব ইউনিয়নগুলোতে পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে মানুষ বসবাস করছে তাদেরকে স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে। এর পরও যারা পাহাড় নিধন করে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    দেশবিদেশ /০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮/নেছার

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ