• শিরোনাম

    প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন

    খুনি-দুর্নীতিবাজ, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের জোটে রাজনীতি কোথায়?

    দেশবিদেশ ডেস্ক | ২২ অক্টোবর ২০১৮ | ১১:৫৪ অপরাহ্ণ

    খুনি-দুর্নীতিবাজ, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের জোটে রাজনীতি কোথায়?

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যদি সংলাপে বসার জন্য সরকারকে চিঠি দেয় তাহলে কী করবেন জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, চিঠি তো পাইনি, পেলে দেখা যাবে। তবে এই জোটের নেতাদের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘খুনি, দুর্নীতিবাজ, মানি লন্ডারিংকারী, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীরা যেখানে এক সেখানে রাজনীতিটা কোথায়? আমি দেখছি, কয়েকটা স্বার্থান্বেষী গ্রুপ এক হয়েছে।’
    সোমবার (২২ অক্টোবর) সৌদি আরব সফর বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিতকরণ বিষয়ে গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
    সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক মাহবুব হাসান প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, যুক্তফ্রন্ট এর আগে ৪ দফা দাবি জানিয়েছিল, এখন তারা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে সাত দফা দাবি জানিয়েছেন। ঐক্যফ্রন্টের এই সাত দফা দাবিতে আপনি কিভাবে দেখছেন?
    সরাসরি এ প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে স্মিত হেসে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগে তারা চার দফা দাবি করেছেন, এখন সাত দফা করছেন। আমি অপেক্ষা করে আছি দফাটা আরও কতদূর যায়। তারপর আমি আমার বক্তব্য দেবো।’
    পরে সমকালের সাংবাদিক অমরেশ রায় জানতে চান ড. কামাল হোসেন এবং বিএনপির নেতৃত্বে যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন হয়েছে সেই জোটের নেতৃবৃন্দ সরকারের সঙ্গে সংলাপে বসার একটা দাবি জানাচ্ছেন। সরকারকে সংলাপে বসার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিও দেবেন তারা। নির্বাচনের মাত্র দুই থেকে আড়াই মাস বাকি। এ অবস্থায় সংলাপে বসা সম্ভব কিনা। আর তারা চিঠি দিলে সরকারের মনোভাবটা কি?
    এর উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিঠি তো এখনও পাইনি। চিঠি না পাওয়া পর্যন্ত কোনও মনোভাব তৈরিই হয়নি তো জবাব দেবোটা কী বলেন।
    তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের জোট করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন জোট করেছেন কার সঙ্গে? ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা সাজাপ্রাপ্ত যে আসামি তার নেতৃত্বে যে দল তার সঙ্গে। মানি লন্ডারিংয়ে যে অভিযুক্ত, এতিমের টাকা আত্মসাতের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত তার সঙ্গে। আবার এতিমের অর্থ আত্মসাতের মামলা যিনি করেছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে যিনি উপদেষ্টা হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন তিনিও এই ঐক্যের সঙ্গে আছেন। এরা সব এক হয়েছে। যুদ্ধাপরাধী, সাজাপ্রাপ্ত তারা এর মধ্যে আছে। রাজাকার, আলবদর বাহিনী সৃষ্টি করে ১৯৭১ সালে যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে তারাও এই গ্রুপে আছে। দুর্নীতিতে যারা চ্যাম্পিয়ন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস যারা সৃষ্টি করেছে, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে যারা মানুষ হত্যা করেছে সেই মানুষ হত্যাকারী এরা সব এক হয়েছে। তাদের ঐক্য হয়েছে। খুনি, দুর্নীতিবাজ, মানি লন্ডারিংকারী, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী এরা যেখানে এক সেখানে রাজনীতিটা কোথায়? আমি তো রাজনীতিটা খুঁজে পাচ্ছি না। আমি দেখছি, কয়েকটা স্বার্থান্বেষী গ্রুপ এক হয়েছে।’
    ড. কামাল হোসেনের উদ্দেশে এসময় তিনি বলেন, ‘এত নীতিকথা বলেন, তিনি তো আমাদের সংবিধানের তিনি প্রণেতা। ৭২ এর সংবিধানটা তিনি প্রণয়ন করেছিলেন। সংবিধান প্রণেতা হয়ে ড. কামাল হোসেন ৭২ এর সংবিধানের কোনও কোনও অনুচ্ছেদে এখন আপত্তি জানান কেন? তার হাতে সৃষ্টি, তিনি এখন আবার আপত্তি করেন কি কারণে? এটা কি তার গণতান্ত্রিক চিন্তা ভাবনার ঐতিহ্য?’
    এসময় আবারও তিনি ঐক্যফ্রন্টের চিঠির প্রসঙ্গে বলেন, ‘চিঠি তো পাইনি, চিঠি পেলে দেখা যাবে। কিন্তু যারা আমাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছে, সেই খুনিদের নেতৃত্বে, দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত তার নেতৃত্বে ড. কামাল হোসেন গং ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এখানে আমার তো কিছু বলার নেই। বাংলাদেশের মানুষই বিচার করবে। আর বাংলাদেশের মানুষ যদি তাদের চায়, চাইবে আমার কোনও আপত্তি নেই।’
    এরপর তার নেতৃত্বাধীন সরকারে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেটা প্রমাণ করার দরকার ছিল যে আমি উন্নয়ন করতে পারি দেশের, সেটা আমি করেছি। এটুকু আমরা দাবি করতে পারি। আমরা দিনবদল করতে পেরেছি। যেটুকু বাকি আছে, আরেকবার ক্ষমতায় এলে সেটুকু আমরা করতে পারবো, এ বিশ্বাস আমার আছে। অন্তত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। এতে কোনও সন্দেহ নেই। এটুকু করতে পারবো, এ বিশ্বাস আমার আছে।’

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    মাতারবাড়ী ঘিরে মহাবন্দর

    ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ