• শিরোনাম

    খুরুশ্কুলে মায়ের সামনে পৈশাচিক কায়দায় বৈদ্যুতিক শক্ দিয়ে কিশোর হত্যা

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৫ নভেম্বর ২০১৮ | ১:২৪ পূর্বাহ্ণ

    খুরুশ্কুলে মায়ের সামনে পৈশাচিক কায়দায় বৈদ্যুতিক শক্ দিয়ে কিশোর হত্যা

    “আমার সন্তানকে তোরা খুন করিস না। মামুনের বাবা এখন সাগরে। তিনি এলেই আমি তোদের দাবি অনুযায়ী টাকা দেবো। আমার সন্তানকে একটু ছেড়ে দে”। মায়ের এমন বুকফাটা আর্তনাদেও মনে এতটুকু দয়ামায়া জাগেনি খুনীদের। উল্টো তাঁর সামনেই বৈদ্যুতিক শক দিয়ে খুন করলো সন্তানকে। পিশাচের দল হত্যার পর লাশ তুলে দিল মায়ের হাতে। হতভাগিনী মা সেই লাশ নিয়ে ছুটে এলেন হাসপাতালের বারান্দায়। হাসপাতালে এসে জানলেন তাঁর সন্তানের দেহে আর প্রাণ নেই।
    হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটলো কক্সবাজার শহরতলীর খুরুশ্কুলে। যে হত্যাকা- মধ্যযুগীয় কায়দাকেও হার মানায় । যাদের সাথে দুষ্টুমি করতে গিয়েছিল হতার শিকার কিশোর। তাদের হাতেই খুন হতে হলো তাকে। আর খুনের স্বাক্ষী হয়ে রইলেন কিশোরের হতভাগিনী মা। গতকাল রবিবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে খুরুশকুলের কোনারপাড়ায় ঘটলো এই নারকীয় হত্যাকা-।
    নিহত কিশোরের নাম মোঃ মামুন উদ্দিন (১৫)। সে খুরুশকুল ইউনিয়নের কোনার পাড়ার নবিউল হকের পুত্র। ৫ সন্তানের মধ্যে পিতামাতার একমাত্র পুত্র সন্তান। একমাত্র পুত্র সন্তানকে হারিয়ে নির্বাক মা হাজেরা খাতুন। গতকাল রাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গের সামনে বসে আছেন আনমনা হয়ে। কেউ গেলেই শুধু বলছেন, ‘অনেক আকুতি করেছিলাম। কিন্তু ওরা আমার সন্তানকে ছেড়ে দেয়নি।’ আমার সামনেই মারধর করার পর বৈদ্যুতিক শক্ দিয়ে খুন করলো।
    নিহত মামুনের এক চাচাতো ভাই জানিয়েছে, মামুন পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছিলো। কিছুদিন ধরে কক্সবাজার শহরের বাজারঘাটার একটি হোটেলে বয়ের কাজ করতো। গতকাল বিকেল ৫ টার দিকে ঘর থেকে বের হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই কোনারপাড়ার আলম মাঝির ছেলে আব্বাস, নুরুল হুদা, ভাক্কু, নবাব তাকে রাস্তা থেকে ধরে ভাক্কুর টমটমের গ্যারেজে নিয়ে যায়। একটি মেয়েকে ইভটিজিং করা সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। নিয়ে যাওয়ার পর বন্ধ করে দেয়া হয় গ্যারেজের দরজা। এরপর সেখানেই বেদম প্রহার করা হয়।
    বিষয়টি জানতে পেরে গ্যারেজে ছুটে আসেন মামুনের মা হাজেরা খাতুন। কিন্তু গেইট বন্ধ থাকায় গ্যারেজে ঢুকতে পারেননি। বাইরে থেকে আকুতি Ñ মিনতি করতে থাকেন সন্তানকে ছেড়ে দিতে। যে কোন ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হওয়ার শর্তে সন্তানকে ছেড়ে দিতে বলেন। এর কিছুক্ষণ পরে ক্ষোভের বশে মামুনকে বৈদ্যুতিক শক দেয় পিশাচের দল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মামুনের দেহ মায়ের হাতে তুলে দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা। এরপর মামুনকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে এলেও মা জানতে পারে অনেকই আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
    খুরুশ্কুল ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের এক সদস্য জানিয়েছেন, মামুন কয়েকজন সঙ্গীসহ টমটম নিয়ে গতকাল পিএমখালীর জুমছড়ি যায়। একটি মেয়ে সংক্রান্ত বিষয়ে তারা সেখানে গিয়েছিল। সেখানে গেলে স্থানীয় সন্ত্রাসী শিবলু তাদের ধরে ফেলে। মামুন পালিয়ে চলে এলেও অন্যদের রেখে দেয় শিবলু। পরে মামুনকে তার হাতে তুলে দেয়ার শর্তে তাদের ছেড়ে দেয়। এ সময় তাদের বহনকারী টমটমটি জোরপূর্বক নিজ জিম্মায় রেখে দেয় শিবলু। আর জানিয়ে দেয় মামুনকে তার হাতে তুলে দিলেই টমটম ফেরত দেয়া হবে। বিকেলের দিকে মামুনকে তার সঙ্গীরা ধরে শিবলুর কাছে যেতে বললেও সে রাজি হয়নি। এক পর্যায়ে তাকে নিয়ে যেতে জোরপূর্বক গ্যারেজে ঢুকানো হয়। কিন্তু এতেও মামুন রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর করা হয়। পরবর্তীকালে বৈদুতিক শক দেয় বলে শুনেছেন তিনি।
    কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক নূর উদ্দিন পারভেজ জানিয়েছেন, সন্ধ্যা ৬ টার দিকে মামুনকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষার পর দেখা গেল সে মৃত। তারপরও বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য ইসিজি করা হয়। ৬ টা ১৫ মিনিটে হাসপাতালের পক্ষ থেকে মামুনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মামুনের শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, শরীরের বাইরের অংশে আঘাতের কোন চিহ্ন তিনি দেখেননি। বৈদুতিক শকে কিশোর মামুনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা তাঁর।
    খুরুশ্কুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বলেন, আমি তখন ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে ছিলাম। কেউ আমাকে জানালে হয়তো নৃশংস মৃত্যুর এই ঘটনা ঘটতো না। দিনদুপুরে এ রকম জঘণ্য হত্যাকা- নিন্দনীয়। আমি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
    রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ নিহতের সুরতহাল রিপোর্ট প্রণয়ন করছিল। ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে কাউকে আটক করতে পারেনি কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ