• শিরোনাম

    এসব জনপ্রতিনিধি থানার উপর ব্যাপক প্রভাব খাটাবার প্রেক্ষাপটে উখিয়াতে কখনোই টেকনাফের মতন ইয়াবা উদ্ধার জোরদার করা সম্ভব হচ্ছে না!

    ‘গুটিকয়েক জন জনপ্রতিনিধির কাছে পুরো উখিয়াবাসী জিম্মি’

    নিজস্ব প্রতিবেক | ০২ জুলাই ২০১৯ | ১:১১ পূর্বাহ্ণ

    ‘গুটিকয়েক জন জনপ্রতিনিধির কাছে পুরো উখিয়াবাসী জিম্মি’

    কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী উখিয়া উপজেলায় ইয়াবা কারবারি এবং কতিপয় রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধি একাকার হয়ে রয়েছেন। এমন অভিযোগটি বেশ পুরানো। গুরুতর অভিযোগটি হচ্ছে, এসব জনপ্রতিনিধি এবং রাজনীতিকরা ইয়াবা কারবারিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন। এমনকি রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধিরা কারবারিদের যাবতীয় দায়-দায়িত্ব পর্যন্ত নিজের কাঁধে নিয়ে থাকেন।
    আইন শৃংখলা রক্ষাকারি সংস্থার সদস্যরা কোন কারবারিকে আটক করা মাত্রই এসব কথিত জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিকরা ছুটে যান তদবির করে তাদের ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য। আর আইন শৃংখলা রক্ষাকারি সংস্থার কর্মকর্তাদের কঠোর মনোভাবের কারনে বা অন্য কোন কারনে কারবারিদের ছাড়িয়ে নিতে না পারলে জনপ্রতিনিধি এবং কথিত রাজনীতিকরা রাগ-গোস্বা করে উঠে পড়ে লেগে যান। এমনকি এ অবস্থায় তখন আইন শৃংখলা রক্ষাকারি সংস্থার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কথিত রাজনীতিক এবং জনপ্রতিনিধিরা ‘ঘুষ গ্রহণের মত মিথ্যা অভিযোগ’ সম্বলিত ভিডিও ছাড়তেও দ্বিধাবোধ করেন না।
    শুধু তাই নয় কথিত রাজনীতিক এবং জনপ্রতিনিধিরা আইন শৃংখলা রক্ষাকারি সংস্থার সদস্য এবং কর্মকর্তাদের হেনস্থা করার কৌশল হিসাবে আটক ইয়াবা কারবারিকে একজন ভাল মানুষ সাঁজানোর জন্যও উঠেপড়ে লেগে যান। আটক ইয়াবা কারবারি কট্টর বিএনপি বা কট্টর সরকার বিরোধী হলেও তাকে সরকার সমর্থিত বানাতেও তারা ভুল করেন না। এমনকি ইয়াবা কারবারিদের পক্ষ নিয়ে কথিত জনপ্রতিনিধি এবং রাজনীতিকরা কারো সাথে কথিত জায়গা-জমির বিরোধ খুঁজে বেড়ান সরকার পক্ষকে ডুবিয়ে কারবারিকে কৌশলে বাঁচানোর জন্য।
    আবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সরকারের নানা পর্যায়ে পর্যন্ত ইয়াবা কারবারিদের দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ প্রেরণেও সহযোগিতা করে থাকেন। একজন বড় মাপের ইয়াবা কারবারিকে হাতেনাতে আটক করার পর উখিয়ায় এমন একটি ঘটনা ঘটেছে সাম্প্রতিক সময়ে। এ ঘটনায় একদম প্রকাশ্যে ইয়াবা কারবারির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতা। আবার ওই ইয়াবা কারবারি হচ্ছেন মার্কা মারা বিএনপি কর্মী।
    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গেল বছরের মে মাসে ইয়াবা পাচারের ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ইয়াবায় জিরো টলারেন্স এর ঘোষণার পর কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবা দমন জোরদার করা হয়। প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্স বাস্তবায়ন করতে গিয়ে খোদ উখিয়া-টেকনাফ আসনের দলীয় এমপি এবং ইয়াবায় তালিকাভুক্ত আবদুর রহমান বদিকে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী পর্যন্ত করা থেকে বিরত থাকেন। সর্বশেষ টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবা দমনে এ পর্যন্ত শতাধিক কারবারিকে ক্রসে ফেলা হলেও উখিয়ায় এ পর্যন্ত মাত্র দুই ভাই ক্রসে গেছেন। পুলিশের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্র্দ্দেশনায় উখিয়ায় ইয়াবা বিরোধী অভিযান জোরদার করা হলে কিছু দলীয় লোকজনের বাঁধার মুখে পড়তে হয়।
    এসব কারনেই উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ৯ জন ইউপি মেম্বারের মধ্যে ৮ জন ইয়াবা কারবারি হলেও তাদের বিরুদ্ধে তেমন ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছেনা। এমনকি পালংখালী ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার স্থানীয় পর্যায়ে একজন ইয়াবা ডন হলেও গত এক দশকেও তাকে আটক করা হয়নি। তেমনি আটক করা হচ্ছে না বিএনপি নেতা কামাল মেম্বার এবং কৃষকলীগ নেতা সুলতান মেম্বার সহ অন্যান্যদেরও। টেকনাফে পুলিশ সহ অন্যান্য আইন শৃংখলা রক্ষাকারি সংস্থার সদস্যরা ইয়াবা কারবার একটি সহনশীল পর্যায়ে নিয়ে আসলেও উখিয়া উপজেলায় তা কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছেনা।
    অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের সদস্যদের মানসিকভাবে দুর্বল করে ইয়াবা দমন অভিযান থেকে বিরত রাখার কৌশল হিসাবেই কথিত জনপ্রতিনিধি, কতিপয় রাজনীতিক ও ইয়াবা কারবারিরা একাকার হয়ে পড়েছেন। উখিয়ায় এসব কারনে ইয়াবা কারবার দমনে গতি ফিরছে না। প্রসঙ্গত, দৈনিক আজকের দেশবিদেশ পত্রিকায় গত ৬ মে ‘ইয়াবা অভিযানে টেকনাফে নির্বিঘœ হলেও উখিয়ায় পদে পদে বাঁধা’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনেই বলা হয়েছিল ইয়াবা কারবারি, কতিপয় রাজনীতিক ও জনপ্রতিনিধিদের একাকার হবার তথ্য।
    দেশবিদেশ পত্রিকার সেই প্রতিবেদনটি কিরকম বাস্তব ছিল তারই নমুনা হচ্ছে-উখিয়া-টেকনাফ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিহাদ আদনান তাইয়ানের একটি ফেসবুক ষ্ট্যাটাস। গতকাল সোমবার পুলিশের এই চৌকস কর্মকর্তা ইয়াবা কারবারে জোরদার করতে না পারার বিষয়টি নিজের ফেসবুক ষ্ট্যাটাসেই তুলে ধরেছেন। সেই ষ্ট্যাটাসটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হল।
    ‘গুটিকয়েক, হাতে গোণা ২/৩ জন জনপ্রতিনিধির কাছে আমার মনে হয় পুরো উখিয়াবাসী জিম্মি! এসব জনপ্রতিনিধি এবং এসব জনপ্রতিনিধির থানার উপর ব্যাপক প্রভাব খাটাবার প্রেক্ষাপটে উখিয়াতে কখনোই টেকনাফের মতন ইয়াবা উদ্ধার জোরদার করা সম্ভব হচ্ছে না! উখিয়াতে যদি কোন পুলিশ অফিসার নির্বিঘেœ দিন কাটাতে চায়, তার একমাত্র উপায় হচ্ছে এদের সাথে তাল মিলিয়ে চলা! এখানে ইয়াবা উদ্ধার অভিযান জোরদার করতে গেলেই হয় আপনাকে অপবাদের গ্লানি নিতে হবে কিংবা সবসময় একটা দুঃশ্চিন্তার মধ্যে দিয়ে সময় কাটাতে হবে, না হয় একটা চাপা ক্ষোভ নিয়ে! এমন অবস্থানে যতই কেউ শ্রেষ্ঠ অফিসারের তকমা পাক কিংবা সিনিয়র লেভেলের ভরসা বা বাহবা পাক না কেন, একধরনের অসহায়ত্ব আর মানসিক অশান্তি নিয়েই দিন কাটাতে হয়!! আফটার অল, অপবাদের চিন্তায় বা উটকো ঝামেলায় পড়ার চিন্তায় যদি নিজের ভেতর কাজ করার উৎসাহে ভাটা পড়তে থাকে, তাহলে তার থেকে কষ্ট একজন অফিসারের আর কিছুই হতে পারে না! সম্ভবত, খুব শীঘ্রই নিজ থেকেই ‘আই কুইট’ বলার সময় চলে আসবে, তারপরও আশা করি হয়ত ভালো কিছুই হবে,চেষ্টা করছি পজিটিভ থাকার, সিনিয়রদের ভরসায় মোটিভেটেড থাকার!! আল্লাহ ভরসা! ####

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ