শনিবার ১০ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

গোয়ালিয়া ব্রীজের দুঃখে ঢাকা “সরকারের উন্নয়ন”

  |   বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

গোয়ালিয়া ব্রীজের দুঃখে ঢাকা “সরকারের উন্নয়ন”

দেশবিদেশ রিপোর্ট:
# মাত্র ২০ লাখ টাকার সংযোগ সড়কের অভাবে ৫ কোটি টাকার ব্রীজ ৫ বছরেও চালু হচ্ছে না
# ব্রীজটি চালু হলে মেরিন ড্রাইভ-গোয়ালিয়া-মরিচ্যা সড়কে সরাসরি যোগাযোগ হবে
# নিরসন হবে রেজু ব্রীজের যানজটেরও

বর্তমান সরকারের উন্নয়নে উন্নয়নে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে- দ্বিধাহীন কন্ঠে একথা বলছে আপামর লোকজনও। কিন্তু রামুর খুনিয়া পালং ইউনিয়নের গোয়ালিয়া এলাকায় নির্মিত ব্রীজটির কাছে গিয়ে ভিন্ন সুর শুনতে পাওয়া যায়। এলাকাবাসীর প্রশ্ন- উন্নয়নই যদি এভাবে এগিয়ে যায় তাহলে সরকারের ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ব্রীজ কি করে দীর্ঘ ৫ বছর ধরে অচল হয়ে থাকে ?

সরকার জনগনের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে টাকা দিতে কোন কার্পন্য করছে না। এটা সাধারণ জনগন বিশ্বাস করে। কিন্তু যারা উন্নয়ন কাজে জড়িত তারাই যদি কিনা কাজের গতি বাড়ানোর বদলে উল্টোটি করে বসেন সেটা তদারকির দায়িত্ব কার ? তৃনমূলে সরকারের শত শত কোটি টাকার উন্নয়নে কঠোর তদারকির অভাবেই প্রতিক্ষণে ভুক্তভোগি লোকজন সরকারের সমালোচনা করে চলেছেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল এ বিষয়ে জানান, ব্রীজটি’র সংযোগ সড়কের নির্মাণ ও অন্যান্য কাজ দ্রæত সম্পন্ন করার জন্য এলজিইডিকে অসংখ্য বার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। তবে শীঘ্রই এটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অসমাপ্ত ব্রীজ সংলগ্ন এলাকার একজন বাসিন্দা হচ্ছেন রামু কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল হক। শিক্ষাবিদ প্রফেসর আবদুল হক গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ব্রীজটির অসমাপ্ত কাজ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন-‘ব্রীজটির অসমাপ্ত কাজ নিয়ে আমার এলাকাবাসীর ক্ষোভের কোন অন্ত নেই। চীনের যেমন দুঃখ হোয়াংহু তেমনি আমাদের দুঃখও যেন এটি হয়ে পড়েছে।’ তিনি অতীব দুঃখের সাথে জানান, সরকারের চলমান উন্নয়ন কাজে কিঞ্চিৎ পরিমাণের সহযোগিতার হাতও যদি বাড়ানো যেত তাহলে দুই বছরের ভোগান্তির মেয়াদ বেড়ে ৫ বছরে এসে দাঁড়াত না। তার মতে সরকারের প্রদত্ত সুফল এসব কারনেই জনগনের কাছে সঠিকভাবে পৌছাচ্ছে না।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমার সাথে গতকাল বুধবার এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান-‘ গোয়ালিয়া ব্রীজটি নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগের শেষ নেই। প্রায় সময় উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকে। এর প্রেক্ষিতে আমি এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে আলাপও করেছি।’ ইউএনও বলেন, অসম্পন্ন কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে নির্বাহী প্রকৌশলী তাকে জানিয়েছেনও। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্ত করতে উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায়ও তাগিদ উঠেছে।

অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের চরম গাফেলতির কারনেই ব্রীজটির কাজ সম্পাদনের দুই বছরের স্থানে টানা ৫ বছর অতিবাহিত হচ্ছে। তারপরেও কোন কুল কিনারা হচ্ছে না। অথচ মাত্র বিশ লাখ টাকা ব্যয়ে সংযোগ সড়কের কাজটি করে দিলেই মরিচ্যা থেকে এ সড়কে মেরিন ড্রাইভের যোগাযোগ সহজ হয়ে পড়ে। আর মরিচ্যা-গোয়ালিয়া-মেরিন ড্রাইভের যোগাযোগ শুরু হলেই পর্যটন এলাকা রুপসী গোয়ালিয়া এলাকাটিতে উপচে পড়বে পর্যটকে। সেই সাথে মেরিন ড্রাইভের সোনারপাড়া-কোটবাজার সড়কের চাপও কমে যাবে।

এক্ষেত্রে সবচেয়ে যে বিষটি গুরুত্বপূর্ণ সেটি হচ্ছে, রেজু ব্রীজে এখন যে রকমের জ্যাম লেগে থাকে সেই জ্যাম সমস্যারও সমাধান হবে গোয়ালিয়া ব্রীজ চালু হলে। কেননা কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গা শিবিরে যাতায়াতকারি যানবাহনগুলো তখন কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের কোটবাজার-সোনারপাড়া এড়িয়ে মরিচ্যা-গোয়ালিয়া-মেরিন ড্রাইভ হয়ে যাতায়াত করতে পারবে। এসব যানবাহনগুলো রেজুৃ ব্রীজে আর আটকা পড়বে না।
জানা গেছে, কক্সবাজারের রামু উপজেলাধীন খুনিয়া পালং ইউনিয়নের গোয়ালিয়া পালং রেজুখালের উপরে মেরিন ড্রাইভ-গোয়ালিয়াপালং-মরিচ্যা সংযোগ ব্রীজটি ২০১৪ সালে ধ্বসে পড়ে। এর ফলে মরিচ্যা-উখিয়া-রামু’র জনগনের সাথে মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে কক্সবাজার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যান’র জোর তদবীরের কারণে ব্রীজটি এলজিইডি’র প্রকল্পভুক্ত হয়ে ডিপিপি’র অনুমোদন হয়। এলজিইডি’র বৃহত্তর চট্টগ্রাম সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় ৮৬ মিটার দৈর্ঘ্য প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রীজটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহবান করা হয়। এতে প্রায় ১৫ শতাংশ নি¤œ দরে কাজ বাগিয়ে নেন কিশোরগঞ্জ জেলার বড়বাজার ষ্টেশন রোডের মেসার্স সাহিলা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্টানের নামে।

অভিযোগ রয়েছে, মূলত লাইসেন্স ভাড়া করে ও অতিরিক্ত নি¤œ দর দিয়ে অতি লাভের আশায় কক্সবাজারের এক ঠিকাদার উক্ত কাজটি হাতিয়ে নেন। ২০১৬ ইং সালের ৪ জুলাই বহুল আকাঙ্খিত গোয়ালিয়া ব্রীজের কাজের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করা হয়। ২ বছরের মধ্যে ব্রীজটি চলাচলের উপযোগী করার কথা থাকলেও ঠিকাদারের গাফেলতি ও অবহেলার কারণে মন্থর গতিতে কাজ চালানো হয়। বার বার সময় বর্ধিত করে ৪ বছর সময় ক্ষেপন করে ব্রীজের ছাদ ঢালাই করলেও সংযোগ সড়কটির অভাবে গত ৫ বছরেও ব্রীজটির কাজ শেষ হয় নি। ফলে বিগত ৭ বছর ধরে ব্রীজটির সুফল থেকে এলাকাবাসী বঞ্চিত হচ্ছে।
গত ২ মাস আগে সর্বশেষ ব্রীজটির পরিদর্শনে আসেন এলজিইডির ঢাকা অফিসের বৃহত্তর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প-২ এর প্রকল্প পরিচালক মো: মহসিন। তিনি ১৫ দিনের মধ্যে ব্রীজটি চলাচল উপযোগী করার নিদের্শের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিশ্রæতি দিয়েও গত ২ মাসেও সংযোগ সড়কের নির্মাণ কাজে কোন উদ্যোগ নেয়নি। ফলে ব্রীজটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে।

ব্রীজ নির্মাণে অতিরিক্ত সময় ক্ষেপন ছাদ ঢালাইয়ের পরেও এপ্রোচ নির্মাণের দীর্ঘ কাল ক্ষেপনের কারণে এলাকাবাসীর দূর্ভোগ চরমে উঠেছে। এ বিষয়ে এলজিইডির রামু উপজেলা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম জানান, একাধিক পত্রের মাধ্যমে ঠিকাদারকে তাগাদা দেওয়ার পরও তারা কর্ণপাত করছে না। তিনি জানান, টেন্ডারে কাজ পাওয়া ঠিকাদারি সংস্থার স্থানীয় প্রতিনিধি আসাদ উল্লাহ নামের একজন তার সব কাজেই কাল ক্ষেপন করে থাকেন। উক্ত ঠিকাদারের আওতায় মনিরঝিল এবং টাইঙ্গাকাটা এলাকার আরো দুইটি ব্রীজের বিষয়েও উঠেছে একই অভিযোগ।

কক্সবাজারের এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে গতরাতে বলেন-‘ নানা অজুহাতে ঠিকাদারের কাজের বিলম্বের ফলে জনগনেরও ভোগান্তি বাড়ছে এটা সত্যি। তবে একটু টেকনিক্যাল সমস্যাও এখানে রয়েছে। এ কারনে কাজের বিলম্ব। তবে শীঘ্রই সংযোগ সড়কটির কাজ শেষ করা হবে।’ তিনি বলেন, ঠিকাদারকে বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে ব্রীজটির কাজ নিয়ে জড়িত ঠিকাদার আসাদ উল্লাহর সাথে যোগাযোগের জন্য গতরাত ৭-৫২ মিনিটে কয়েক বার তার মোবাইলে রিং দেয়া হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

এ কারনে ঠিকাদারের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।স্থানীয় খুনিয়া পালং ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদ জানান, ব্রীজটি অকেজো থাকায় দীর্ঘ ৭ বছর ধরে পর্যটকসহ হাজার হাজার জনগনের দূর্ভোগ চরমে উঠেছে। অসংখ্যবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাগাদা দেওয়ার পরও কাজটি শেষ না হওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হচ্ছে। রামু উপজেলা উন্নয়ন সমনস্বয় পরিষদে এ বিষযে লিখিত সিদ্ধান্তও হয়েছে। দ্রæত সংযোগ সড়কটি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তিনি দাবী জানান।

এডিবি/জেইউ।

 

Comments

comments

Posted ২:১৭ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com