মঙ্গলবার ২২শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

গ্রাহকদের দুর্ভোগের কথা শুনতে চায় না কর্তৃপক্ষ লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কবলে জেলাবাসী

গ্রাহকদের দুর্ভোগের কথা শুনতে চায় না কর্তৃপক্ষ লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কবলে জেলাবাসী

তারেকুর রহমান   |   রবিবার, ০৬ জুন ২০২১

গ্রাহকদের দুর্ভোগের কথা শুনতে চায় না কর্তৃপক্ষ লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কবলে জেলাবাসী

ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন কক্সবাজারবাসী। রাত-দিন প্রখর গরমে নাজেহাল হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। প্রচন্ড গরমে বৈদ্যুতিক পাখা কিছুটা স্বস্তি দিলেও লোডশেডিং কেড়ে নিচ্ছে সেই স্বস্তি। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজার হাজার গ্রাহকের। উন্নয়নের অজুহাতে মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগ উঠে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা যেন কক্সবাজারের নিত্যদিনের ঘটনা। কখনো রেল লাইনের কাজে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ঘোষণা দিয়ে, আবার কখনো ঘোষণা ছাড়াই লাইন সংস্কারের নামে সারা দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এছাড়া আকাশে সামান্য মেঘ দেখা দিলে কিংবা সামান্য বৃষ্টি বা হালকা বাতাস হলে তো কথাই নেই- কয়েক ঘণ্টার আগে বিদ্যুতের দেখা মেলে না। এভাবে দিনে-রাতে অন্তত ৭/৮ বার বা তার চেয়েও বেশি লোডশেডিংয়ের হয়রানীর শিকার হচ্ছে কক্সবাজারবাসী।
সাধারণ মানুষের অভিযোগ, প্রতিনিয়ত রাত-দিন একাধিকবার বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার কারণে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি। নষ্ট হচ্ছে ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি। শহর ছাড়াও গ্রামে-গঞ্জে বছরজুড়ে রয়েছে এই সমস্যা। এসব থেকে পরিত্রাণ চায় জনসাধারণ।
শফিউল আলম নামের এক গ্রাহক বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এমন সমস্যায় ভোগছি। কিন্তু কোন প্রতিকার পাচ্ছি না। বিদ্যুতের এ ভেল্কিবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। সমস্যা নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করা হলেও তারা কথা বলতে চান না।’
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বেলাল উদ্দিন নামের এক যুবক তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন- ‘বিদ্যুৎ নিয়ে কি আমরা শান্তি পাবো না? কারণ কী এতো লোডশেডিং হওয়ার?
জিয়াউল হক নামের আরেক গ্রাহক জানান, ‘লোডশেডিংয়ের কথা অফিসে জানালে লাইন কেটে দেয়ার হুমকি দেয় তারা। অথচ বিলম্ব না করে প্রতিমাসে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করি।’
তীব্র গরমেও দফায় দফায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ। আর সমস্যার প্রতিকার চাইতে বিদ্যুৎ অফিসের দেওয়া মোবাইল নম্বরে কল দিয়েও সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।
কক্সবাজার পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আক্তারুজ্জামান লস্কর জানান, ‘ কক্সবাজারে আগে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি (এরপর পৃষ্ঠা ২, কলাম ১)
গ্রাহকদের দুর্ভোগের কথা শুনতে
ছিল না। এখন রেল লাইনের কাজ চলায় একটু সমস্যা হচ্ছে। দিনের বেলায় হয়তো লোডশেডিং হয় না কিন্তু সন্ধ্যা ৬ টা থেকে ১২/১ টা পর্যন্ত আমাদের ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ১ ঘন্টা করে লোডশেড দিতে হয়। দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ২টি সাকির্ট থেকে বিদ্যুৎ আসে। একটা সাকির্ট বন্ধ করে আরেকটা সার্কিট দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। আমাদের মতে, গ্রাহকের চাহিদার তুলনায় দিনের বেলা ঠিক আছে রাতের চাহিদা পুরোপুরি পূরণ হয় না।
তিনি আরও জানান, ‘কক্সবাজার জেলায় রাতের বেলায় পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা ১৫০ মেগাওয়াট। এখানে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি)। বাকি ১০০ মেগাওয়াট পল্লীবিদ্যুতের (আরইবি)। আর দিনের বেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ১১০ মেগাওয়াট যেখানে ৩৫ মোগওয়াট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি)।
আক্তারুজ্জামান জানান, ‘টেকনাফে বিদ্যুতের চাহিদা ২০ মেগাওয়াট, উখিয়ায় ২৩, সদরে শহর বাদে অন্যান্য এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ মেগাওয়াট, রামুতে পিডিবি ছাড়া পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১০ মেগাওয়াট। চকরিয়াতে ২০, পেকুয়ায় ৮ আর মহেশখালীতে ১৮ মেগাওয়াট পল্লীবিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে।’
পুরো জেলায় কিন্তু বিদ্যুতের অভাব নেই। রেলওয়ের কাজে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হওয়ায় এমন সমস্যা হচ্ছে। এলাকার উন্নয়নের জন্য একটু কষ্ট হলেও একটু সহ্য করতে হবে। আর গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন জিএম আক্তারুজ্জামান লস্কর।
কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের গনি জানান, ‘রেল লাইন নির্মাণ কাজে বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য গ্রাহকদের একটু অসুবিধা হচ্ছে। দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ২টি সার্কিট রয়েছে। তার যেকোন একটি বন্ধ করে সঞ্চালন লাইন স্থানান্তর করতে হয়। তখন চাহিদার চার ভাগের তিন ভাগ অর্থাৎ ১২০ মেগাওয়াট থেকে মাত্র ৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া যায়। বাকী ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায় না। ফলে অনেক সময় এ ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লোডশেড করতে হয়। দোহাজারী-কক্সবাজার রেল লাইন নির্মাণ কাজে ২টি গ্রীড লাইন পড়েছে। এই ২টি গ্রীড লাইন সরানোর কাজ করতে আগামী জুলাই পর্যন্ত সময় লাগবে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের কক্সবাজার শহরের লাবনী পয়েন্ট থেকে লিংকরোড পর্যন্ত ৪ লেনের সড়ক উন্নয়ন কাজের জন্য বিদ্যুতের লাইন ও খুঁটি সরাতে শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়। একাজ চলতি জুন মাসের মধ্যে শেষ হবে। চলতি সপ্তাহে খুঁটি ও সঞ্চালন লাইনের কাজ একটু জরুরীভাবে শিফটিং করতে গিয়ে শহরে ঘন ঘন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে এ পরিস্থিতি এখন প্রায় সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। সরকারি এমন বড় প্রকল্প ও উন্নয়নমূলক কাজগুলো সমাপ্ত হলে বিদ্যুতের এই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে বলে জানান তিনি। সেই সাথে উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার কারণে জনসাধারণের সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন প্রকৌশলী আবদুল কাদের গনি।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রক্রিয়া ৩টি বিভাগের সাথে সম্পৃক্ত। পিজিসিবি দোহাজারী থেকে ২টি সার্কিটের মাধ্যমে কক্সবাজার গ্রীড উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ নিয়ে আসে। সেখান থেকে পিডিবি (বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড) এবং আরইবি (পল্লী বিদ্যুৎ) চাহিদা মতো গ্রাহকদের সরবরাহ দিয়ে থাকে।

Comments

comments

Posted ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ০৬ জুন ২০২১

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com