• শিরোনাম

    বন্যাকবলিত চকরিয়া

    ঘরবাড়ি, সড়ক পলিমাটিতে একাকার, চরম দুর্ভোগে মানুষ

    নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া | ১৭ জুলাই ২০১৯ | ২:০৯ পূর্বাহ্ণ

    ঘরবাড়ি, সড়ক পলিমাটিতে একাকার, চরম দুর্ভোগে মানুষ

    চকরিয়ায় বন্যাকবলিত সিংহভাগ এলাকা থেকে বানের পানি নেমে গেলেও এখনো স্বাভাবিকতায় ফিরতে পারেনি মানুষগুলো। বাড়ির ভেতর, উঠান ও সড়কে একাকার হয়ে পড়েছে পলিমাটির কাঁদায়। তার ওপর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে দুর্ভোগের যেন সীমা নেই তাদের। এই অবস্থায় থাকা, খাওয়া, চলাফেরায় যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে বন্যাকবলিত এলাকার লাখো মানুষকে। তবে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলা বন্যাকবলিত বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে এই চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে।
    এদিকে অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকাগুলোতে এখনো বানের পানিতে তলিয়ে রয়েছে হাজারো বসতবাড়ি। একনাগাড়ে ১২দিন ধরে উঠানে ও বাড়ির ভেতর পানি জমে থাকায় দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছেন তারা। কোন কোন এলাকায় ৫-৬ ফুট আবার ১০ ফুট পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে রয়েছে গ্রামগুলো। উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের রসুলাবাদ, ডেইঙ্গাকাটা এলাকার হাজারো পরিবার মানবিক বিপর্যয়ের সম্মুখিন হয়ে দিনাতিপাত করছেন। এখনো এসব পরিবারের যোগাযোগের একমাত্র বাহন নৌকা।
    স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পিস ফাইন্ডারের প্রতিষ্ঠাতা ও শুভসংঘের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সমাজকর্মী আদনান রামিম ও নকীবুল মওলা জানান, সোমবার দিনভর তারা রান্না করা খিচুড়ি বিতরণ করেন লক্ষ্যারচর ও কাকারায়। কিন্তু বিকেলে দিকে তারা খবর পান বরইতলীর ডেইঙ্গাকাটা, রসুলাবাদের মানুষ মানবিক বিপর্যয়ের সম্মুখিন। তাই বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের বেশ কয়েকজন সদস্য মিলে চকরিয়া সদর থেকে রান্না করা খিচুড়ির প্যাকেট নিয়ে যান সেখানে। সন্ধ্যার দিকে নৌকায় চেপে ডেইঙ্গাকাটার কয়েকশ বাড়িতে গিয়ে পৌঁছে দেন খাবার। এ সময় ভুক্তভোগী মানুষগুলো তাদেরকে হাত তুলে দোয়া করেন।
    একনাগাড়ে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে সৃষ্ট বন্যায় সবকিছু ছারখার হয়ে যায় বন্যাদুর্গত মানুষগুলোর। একসপ্তাহর বেশি স্থায়ী হওয়া বানের পানিতে বাড়ির ভেতর, উঠানসহ সবখানে জমে যায় পলিমাটি। সেই পলিমাটি অপসারণে এখন সময় ব্যয় করতে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে নারীরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। তার ওপর বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় এই দুর্ভোগের যেন শেষ নেই তাদের।
    মাতামুহুরী নদী লাগোয়া বরইতলীর পহরচাঁদা বিবিরখিলের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, এখানে পলি ও ময়লাযুক্ত কাঁদামাটিতে সয়লাব হয়ে পড়েছে পুরো গ্রাম। আর সেই কাঁদামাটিতে একাকার হয়ে পড়েছে কোমলমতি শিশুরা। শিশুগুলো কাঁদামাটিতে খেলাও করছে। এতে নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
    উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের এসএমচর গ্রামটি একেবারে মাতামুহুরী নদী লাগোয়া। এই গ্রামের একটি বাড়ির মালিক আমিনুল ইসলাম। তাঁর স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৩৮) জানালেন, বাড়ির উঠানে এখনো জমে আছে দুই-তিন ফুট পানি। এতে চরম দুর্ভোগ পোঁহাতে হচ্ছে তাদের।
    একই এলাকার সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী মনুয়ারা বেগম বলেন, ‘ভয়াবহ বন্যায় একসপ্তাহ ধরে বানের পানিতে ভেসেছি। বাড়ির সিলিংয়ের (দরমা) ওপর কোনমতে ছেলে-সন্তানদের নিয়ে দিন কাটিয়েছি। বাড়ির ভেতর থেকে বানের পানি নেমে গেলেও এখনো উঠানে রয়ে গেছে দুই-তিন ফুট। কিন্তু বাড়ির ভেতর জমে যাওয়া কয়েক ফুট পলিমাটি অপসারণ করে যাচ্ছি। তার ওপর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগ আরো বেড়েছে।
    কাকারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শওকত ওসমান জানান, ‘বানের পানি নেমে গেলেও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন মাটির বাঁধ বা সড়কের ওপর দিয়ে চলাচলকারী মানুষগুলো। এতে আরো বেশি কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে সড়কগুলো। এই অবস্থায় চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয় মানুষগুলোকে। এখানে কিছুই করার থাকেনা।’

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ