• শিরোনাম

    জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

    ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’তে ২৯ এপ্রিল আতংক

    দীপক শর্মা দীপু | ২৯ এপ্রিল ২০১৯ | ১:১১ পূর্বাহ্ণ

    ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’তে ২৯ এপ্রিল আতংক

    এপ্রিলের মাসের শেষের দিকে ঘুরপাক খাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’। গত তিনদিন ধরে আবাহাওয়া অফিস বার্তা দিয়ে যাচ্ছে সমুদ্রে সৃষ্টি হওয়া নি¤œচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। ২ নম্বর সতর্ক সংকেত দেয়া হয়েছে। ঝড়ো হাওয়া ঘন্টায় ৮৮ কিলোমিটার বৃদ্ধি পেতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি শক্তি সঞ্চয় করছে। রুপ নিতে পারে বিপদ সংকেতে। এই অবস্থায় কক্সবাজারের উপকুলবাসীরা ২৯ বছর পরও ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’তে ২৯ এপ্রিলের রুপ দেখতে পাচ্ছেন। তারা মনে করছেন,২৯ বছর আগে ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের মহাপ্রলয়ংকারি ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বে যে তীব্র তাপদাহের পর ঘুমোট পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং ক্রমান্বয়ে শক্তি সঞ্চয় করেছিল ঠিক তেমনি এবারে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’র পূর্বাভাসে এসব লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তাই উপকুলবাসীরা ২৯ এপ্রিলের আতংক ভুগছে ‘ফণি’তেও।
    এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো: আশরাফুল আফসারের সভাপতিত্বে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এ প্রস্তুতি সভায় আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও স্থানীয় এনজিওসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ‘ফণি’ মোকাবেলায় সবাইকে সতর্ক ও প্রস্তুত নেয়ার জন্য বলা হয়।
    আজ সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল। বাংলাদেশের উপকূলবাসীর স্বজন হারানোর দিন। ১৯৯১ সালের এ দিনে এক মহা প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে লন্ডভন্ড হয়ে যায় বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা। ভয়াল ২৯ এপ্রিল উপকূলবাসীর স্বজন হারানোর দিবস হিসাবে সবার কাছে পরিচিত। ২৯ এপ্রিলের কথা মনে পড়লেই স্বজন হারানোর কথা মনে পড়ে। এখনো কক্সবাজার জেলা সহ উপকূলীয় এলাকা অরক্ষিত এবং ঘূর্ণিঝড়-জ¦লোচ্ছাসের ঝুকি নিয়ে বসবাস করছে উপকূলের কয়েক লাখ মানুষ। ফলে ২৯ বছর চলতি বছর পর একই মাসে সৃষ্ট হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ নিয়ে আতংকগ্রস্থ হয়েছে ২৯ এপ্রিলের ক্ষতিগ্রস্থরা।
    আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণি যেভাবে এগিয়ে আসছে, তাতে এটি যদি বাংলাদেশের উপকূলে আসে, তবে সেটি হবে ৪ মে রাত অথবা ৫ মে’র দিন। আর ভারতের উপকূলে আঘাত হানলে আরো একদিন আগেই আঘাত হানবে। এক্ষেত্রে ৩ মে পর্যন্ত বর্তমানে যে তাপমাত্রা আছে, এমনই থাকবে। এসময় রাতের তাপমাত্রাও কমবে না বলে মনে করছেন তিনি। বলেন, রাতের বায়ুর তাপ ও জলীয় বাষ্পের তাপের তারতম্যের কারণে গরম অনুভূত হচ্ছে বেশি। রাতে জলীয় বাষ্প বেড়ে যাচ্ছে। জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি হলে শরীরের ঘাম বায়ু শুষে নিতে পারে না। এজন্যই বেশি গরম লাগে।
    ঘূর্ণিঝড় উপকূলের কাছাকাছি না আসা পর্যন্ত দেশজুড়ে কালবৈশাখীর তেমন সম্ভাবনা নেই। কোথাও কোথাও ঝড়, বৃষ্টি হবে তবে সেটা বড় আকারে নয়।
    ঘূর্ণিঝড় ফণি রোববার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৬ ৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৬২০ কিলোমিটার দক্ষিণে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৬৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৬৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
    ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এজন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে দুই নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।
    এদিকে দুইদিন কিছুটা তাপমাত্রা কম থাকলেও আবারও বেড়েছে তাপদাহ। একেবারে তীব্র তাপদাহের পর্যায়ে পৌঁছেছে রাজশাহীর তাপমাত্রা। দেশের উত্তরের এ জনপদে রোববার (২৮ এপ্রিল) মৌসুমের সর্বোচ্চ ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলিসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলিসিয়াস হলেই অবস্থাকে তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে গণ্য করে আবহাওয়া অধিদফতর।
    ব্যারোমিটারের হিসাব বলছে, ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল অঞ্চলের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি কোথাও কোথাও প্রায় তীব্র তাপদাহ বয়ে যাচ্ছে। তাপদাহের এই অবস্থা আরো পাঁচদিন বিরাজ করবে। এ সময় কমবে না রাতের গরমও।
    দেশের সবগুলো অঞ্চলের তাপমাত্রা রেকর্ড বলছে, রোববার চট্টগ্রাম অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রাঙামাটিতে ৩৬ ডিগ্রি, ঢাকায় ৩৬ ডিগ্রি (এ অঞ্চলের সর্বোচ্চ ফরিদপুরে ৩৭ ডিগ্রি), রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলিসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ