শনিবার ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ শক্তিশালী হয়ে কক্সবাজার উপকুলে আঘাত হানতে পারে

দীপক শর্মা দীপু   |   শনিবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৯

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ শক্তিশালী হয়ে কক্সবাজার উপকুলে আঘাত হানতে পারে

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপটি ঘুর্ণিঝড়ে পরিণত হচ্ছে। বাংলাদেশ এই ঘুর্ণিঝড়টিকে নাম দিয়েছে ফনি। ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ শক্তিশালী হয়ে কক্সবাজার উপকুল এলাকায় আঘাত হানতে পারে।দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে এই লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
নিম্নচাপটি রোববারের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এ কারণে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ১ নম্বর দূরবর্তী সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর নাম হবে ‘ফণি’।
শুক্রবার বেলা দুইটায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, নিম্নচাপটি শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ২১৭০, কক্সবাজার থেকে ২০৮৫, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২১৮৫ এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২১৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।
নিম্নচাপ কেন্দ্রে ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা ও ঝোড়ো হাওয়া আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটে সাগর উত্তাল রয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌযানগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন বলেন, নিম্নচাপটি কাল শনিবার অথবা রোববার ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটা কতটা শক্তিশালী হবে বা তা সিডরের মতো প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে কিনা তা এর গতিপথের ওপর নির্ভর করবে। সকালে হালকা হিমেল হাওয়া, এরপর থেকে বেলা যত বাড়ে, সূর্যের তেজও তত বাড়ে। আকাশে বৈশাখের কালো মেঘের দেখা নেই, দেখা নেই কোন হালকা মেঘের, আছে শুধু গণগনে সূর্য। গত কয়েকদিনে সূর্যের তেজে পুড়ছে প্রাণীকূল। আগামি কয়েকদিন সূর্যের তেজ আরও বাড়বে। পড়বে তীব্র গরম। প্রকৃতি সঙ্গে সঙ্গে সাগরের লোনাজল টগবগ করছে। এই থেকে ঘূর্ণিঝড় হতে পারে। এমন আবাস দিয়েছে আবাহাওয়া অধিদপ্তর।
আবাহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমদ জানান, এ মাসের শেষ সপ্তাহের দিকে বিশেষ করে ২৯ এপ্রিল ঘূর্ণিঝড় রুপ নিতে পারে। যা আগামি মাসের ৩ অথবা ৪ মে’তে উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানতে পারে। কক্সবাজারে এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পড়বে।
কক্সবাজারে কমছেনা তাপমাত্রা। অব্যাহত রয়েছে মাঝারি তাপপ্রবাহ। তাপদাহে পুড়ছে জেলাবাসী। তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কক্সবাজারে ২৩ এপ্রিল ৩৭.১৬ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যা কক্সবাজারে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। একইভাবে ২৪ এপ্রিল ৩৬. ৮৬ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬.২৬ ডিগ্রি সেলিসিয়াস। গত ৪ দিন ধরে অব্যাহতভাবে ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলিসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যা মাঝারি তাপপ্রবাহের পর্যায়ের তাপমাত্রা। সম্ভাবনা রয়েছে ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলিসিয়াস তাপমাত্রা বয়ে যেতে পারে। যা তীব্র তাপপ্রবাহের পর্যায়ের পড়ে। সারাদেশে তাপমাত্রা গত কয়েকদিন ধরে একটু একটু বেড়ে ব্যারোমিটারের পারদে ৩৭ ডিগ্রি সেলিসিয়াসের ওপরে উঠে গেল। এই মাত্রা বেড়েই চলেছে।
কক্সবাজার আবাহাওয়া অফিসের সিনিয়র অভজারভার আরিফুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ মাত্রা ৩৭.১৬ ডিগ্রি সেলিসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭.০২ রেকর্ড করা হয়েছে ২২ এপ্রিল, আর ৩য় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৪ এপ্রিল। গতকাল রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬.২৬ ডিগ্রি সেলিসিয়াস। ক্রমান্বয়ে তাপমাত্রা বাড়তে পারে অন্তত আরো ৪ দিন। ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলিসিয়াস তাপমাত্রাকে বলা হয় মৃদু বা মাঝারি তাপপ্রবাহ। ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলিসিয়াস তাপমাত্রাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। কক্সবাজারে বর্তমানে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে চলছে। যা ক্রমান্বয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরো জানান, আগামি মে মাসের প্রথম দিকে ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাব রয়েছে। ঘুর্ণিঝড়টি শক্তিশালী হয়ে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাপপ্রবাহের কারনে জনজীবন দূর্বিষহ হয়ে ওঠেছে। শ্রমজীবী মানুষদের প্রতিদিন হিমশীম খেতে হচ্ছে তাদের কর্মক্ষেত্রে। একদিন কাজে গেলে পরের দিন আর কাজে যেতে পারেনা। শহরের রিক্সাচালক সাইফুল জানান, দিনে শুধুমাত্র ৪ থেকে ৬ ঘন্টা রিক্সা চালাতে গিয়ে হিমশীম খেতে হচ্ছে। আর এই ৬ ঘন্টা রিক্সা চালিয়ে সংসারের খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছেনা।
একইভাবে প্রত্যেক পেশাজীবীর মানুষরা গরমের কষ্টভোগ করে তাদের কর্মক্ষেত্রে সময় পার করছেন। কর্মক্ষেত্রে সবাই দুর্বল হয়ে পড়ছেন। শিক্ষার্থীদের অনেকে স্কুলে কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তবে বিভিন্ন কিন্ডার গার্টেন ও সরকারি প্রাইমারি স্কুলে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা থাকার কারনে কচি শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামুলক স্কুলে যেতে হচ্ছে।
এদিকে তীব্র গরমের কারনে আবাল বৃদ্ধ শিশু সবাই অসুস্থ্য হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে ডায়রিয়াসহ নান পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সবাই। জেলায় প্রত্যেক সরকারি হাসপাতালে রোগিদের ভীড় বাড়ছে। এমন কি জেলা সদর হাসপাতালে রোগিদের ঠাঁই দেয়া যাচ্ছেনা। একইভাবে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকেও এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তাপমাত্রা আরো বাড়লে বা এভাবে অব্যাহত থাকলে জীবনযাত্রা থেমে যাওয়াসহ ভয়াবহ পরিস্থিতির আশংকা করা হচ্ছে।

Comments

comments

Posted ১২:২২ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com