মঙ্গলবার ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

চকরিয়ার ফলাফলে অন্য উপজেলার নৌকার প্রার্থীরা হতাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯

চকরিয়ার ফলাফলে অন্য উপজেলার নৌকার প্রার্থীরা হতাশ

চকরিয়া উপজেলা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী বিপুল ভোটের ব্যববধানে পরাজিত হয়েছেন। আর জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল করিম সাঈদী। উপজেলা নির্বাচনে ২য় ধাপে এটি কক্সবাজার জেলায় প্রথম নির্বাচন। এই নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী পরাজিত হওয়ার কারনে জেলার অন্য উপজেলায় নৌকার প্রার্থীরাও অনেকটা হতাশ হয়ে পড়েছেন। নৌকা প্রতীকের অনেক প্রার্থীর পেটে শুরু হয়েছে রিতীমত কামড়ানিও।
তবে সব উপজেলার চিত্র একই রকম নাও হতে পারে। কারণ চকরিয়ায় নৌকা পরাজিত হয়নি, পরাজয়ের কারণ রয়েছে অনেক। তবে তৃতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে আরো ৬ টি উপজেলায়ও অনেক পরিবর্তন হতে পারে বলে ধারণা অনেকেরই । প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গতকাল অনুষ্টিত চকরিয়ার নির্বাচন হয়েছে সম্পূর্ণ অবাধ ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। এমন নির্বাচনের কারনে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে অনেকেরই ভুল ভেঙ্গেছে। বিশ্বাস জন্মেছে অনেকেরই কাছে-প্রশাসন চাইলেই নিরপেক্ষ এবং সুষ্টু নির্বাচন উপহার দিতে পারে-যেমনি গতকাল চকরিয়ায় হয়েছে। অনেকেই বলেছেন-দেখার মত একটা নির্বাচন হয়েছে।
‘নৌকার প্রার্থী হতে পারলেই জিতে যেতে পারে’- এমন আশা নিয়েই উপজেলাগুলোতে এত ব্যাপক সংখ্যক দলীয় লোকজন নির্বাচনের নেমেছিলেন। এমন কি শুধু নৌকার মাঝি হওয়ার জন্য অনেক প্রার্থী অনেক কিছু বিসর্জন ও ত্যাগ করেছেন। নৌকার টিকেট পেতে নানাভাবে অর্থও ব্যয় করেছেন। তারা মনে করেছিলেন সরকারি দলের প্রার্থী হতে পারলেই সরকার তাদের জিতিয়ে দেবেন।
এমন আশায় থাকা প্রার্থীরা এখন চকরিয়ার ফলাফল দেখে আশাহত হয়েছেন। সরকার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেয়ায় জনগণের রায় সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে চকরিয়ায়। এখানে নৌকা পরাজিত হয়নি। স্থানীয় এমপির দাদাগিরি থেকে শুরু করে দলীয় সমন্বয়হীনতা, দলীয় নেতা-কর্মীদের নেতিবাচক মনোভাব সহ আরো অনেক কিছুই কাজ করেছে। এমনকি সরকারি দলকে ডুবানোর জেদ ধরে অনেক ইউনিয়নে বিএনপি-জামায়াত কর্মীরাও নৌকা বিরোধী সেন্টিমেন্ট নিয়ে আনারস মার্কায় ভোট দিয়েছেন।
এমন কি আনারস প্রতীকের প্রার্থী সাঈদীর বিরুদ্ধে নানা সমালোচনা থাকা সত্বেও জনগণ দলীয় সমন্বয়হীনতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সরকারের প্রতিপক্ষের উস্কানীতে নৌকার বিরুদ্ধে ভোটাররা এমন জবাব দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান। এমপি জাফর আলমকে নির্বাচনী এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হলেও তিনি যাননি। তাই নির্বাচনের দিন এমপিকে প্রভাব বিস্তার করতে দেয়নি প্রশাসন। তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ফলে অন্য কেউ ভয়ে প্রভাব বিস্তার করে ভোট কারচুপি করার সাহসও করতে পারেনি।
নির্বাচন কমিশনের কড়াকড়িতে এমপি জাফরকে এলাকা ছাড়া হবার নির্দ্দেশনা পাবার পরই বাস্তবে চকরিয়ার ভোট পরিস্থিতি পাল্টে যায়। অথচ এর আগে নৌকা প্রতীকধারী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর পক্ষে যখন এমপি জাফর নির্বাচনী মাঠে সরব হন তখন আনারসের প্রার্থীর পক্ষে এজেন্ট হতেও অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন অনেকেই। আর পরবর্তীতে এমপি জাফরের বিরুদ্ধে যখন নির্বাচন কমিশন কঠোর পদক্ষেপ নেয় তখনই আবার পরিস্থিতি পাল্টে এজেন্ট বসতে না করা লোকজন রিতীমত মাঠে সাঈদীর জন্য ভোট চাইতেও প্রকাশ্যে নামেন।
নির্বাচনী কর্মকর্তা ও জেলা পুলিশ বিভাগ আগামিতে অন্যান্য উপজেলায় অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে কঠোর অবস্থানে থাকার ঘোষনা দিয়েছেন। সরকারের সুনাম অক্ষুন্ন রাখার জন্য কেন্দ্রে কাউকে প্রভাব বিস্তার করতে দেবেনা বলে জানান প্রশাসন। পুলিশ বিভাগ ও প্রশাসন তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালন করার যথার্থ প্রমান দিয়েছেন চকরিয়া নির্বাচনে। নির্বাচনে সরকারি কর্মকর্তাদের এমন দায়িত্ব পালনের কারনে অনেকটা ঘাবড়ে গিয়েছেন সরকারি দলের মনোনীত প্রার্থীরা। তারা ভাবছেন জনগণ ভোট না দিলে ভোট ছিনতাই বা কারচুপি করার কোন সুযোগ নেই।
ইতিমধ্যে কক্সাবাজার সদর রামু আসনের এমপি সাইমুম সরওয়ার কমলকে নির্বাচনি এলাকা ছাড়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন। এ থেকে বুঝা যাচ্ছে প্রত্যেক উপজেলায় নির্বাচন হবে সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ। আর কেউ বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে চাইলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। এমন কি পুলিশ গুলি করতে দ্বিধাবোধ করবেনা বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন।
জেলার অন্য ৭ উপজেলার মধ্যে উখিয়ায় বিনা প্রতিদন্ধিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে গেছেন। অন্য ৬ উপজেলার মধ্যে কক্সবাজার সদর, রামু, মহেশখালী, টেকনাফ, কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায় চেয়ারম্যান পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। চকরিয়ায় নিজ দলের মাঝে গ্রুপিং রয়েছে একই ভাবে জেলার অন্য উপজেলায় নিজ দলের মধ্যে গ্রুপিং রয়েছে। তাই চকরিয়ার মতো এসব উপজেলাও প্রভাব পড়তে পারে। এসব উপজেলা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীরা চকরিয়ার নির্বাচন নিয়ে হতাশগ্রস্থ হয়েছেন। তবে তারা প্রত্যেকে আশাবাদি ব্যক্তি ইমেজের কারনে উন্নয়ন প্রতীক নেীকা বিজয়ী হবে। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের জেলা নেতৃবৃন্দ বলেছেন, যারাই নির্বাচিত হোক না কেন সবাইতো দলীয় নেতা।

Comments

comments

Posted ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com