• শিরোনাম

    সাহারবিলের শীল পাড়া সড়কটি রক্ষায় অবশেষে কাজ শুরু পাউবো’র

    চকরিয়ায় মাতামুহুরীর ভাঙন

    ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া | ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১:১৩ পূর্বাহ্ণ

    চকরিয়ায় মাতামুহুরীর ভাঙন

    অবশেষে দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মাতামুহুরী নদীর ভাঙন থেকে চকরিয়ার সাহারবিলের শীলপাড়াসহ একাধিক ইউনিয়নের চলাচল পথটি রক্ষায় কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। গতকাল সরজমিন কাজ তদারক করেন ঢাকা থেকে আসা কাজী তোফায়েলের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল।

    একনাগাড়ে ২১ বছর ধরে মাতামুহুরীর অব্যাহত ভাঙনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়া চকরিয়ার সাহারবিলের শীল পাড়াসহ তীরবর্তী সড়কটি রক্ষায় অবশেষে কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামের পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজটি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেয়। এরই প্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে প্রকল্প তৈরিপূর্বক ১ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়ে ঠিকাদার নিয়োগের পর গত দশদিন ধরে কাজ শুরু করেছে। কাজটি শুরু হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগী জনগণের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ জাফর আলম কাজটি দ্রæতসময়ে বাস্তবায়নের জন্য ব্যক্তিগতভাবে অনেক চেষ্টা-তদবিরও করে আসছিলেন। একইসাথে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচী পালন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কালের কণ্ঠ শুভসংঘ।
    পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, কাজটি আগামী বর্ষামৌসুমের আগে বাস্তবায়নের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। সিডিউলের শর্তানুযায়ী কাজের মান বজায় রেখে নদীতীরের শীলপাড়াসহ সড়কটি রক্ষায় বালুভর্তি ১৬ হাজার জিও ব্যাগ ডাম্পিংসহ আনুষাঙ্গিক অন্যান্য কাজ বাস্তবায়ন সম্পন্ন করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    প্রকল্পের অধীনে যেসব কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে তন্মধ্যে রয়েছে, ১৭৫ কেজি ওজনের বালুভর্তি ১৬ হাজার ৫০০টি জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ডাম্পিং, ৫০ কেজি ওজনের  ২৫ হাজার নতুন গানিব্যাগ ডাম্পিং করা হবে নদীতে। এছাড়াও সেন্টসিমেন্ট মিশ্রিত ৭৫ কেজি ওজনের ২৫ হাজার গানিব্যাগ প্লেসিং করা হবে তীরে।
    এদিকে ঠিকাদার কাজের মান যথাযথভাবে করছে কী-না তা সরজমিন দেখতে অকুস্থলে যান পানি উন্নয়ন বোর্ডের অভ্যন্তরীণ কমিশনের প্রধান কাজী তোফায়েল আহমদের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল। এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী, সেকশন অফিসার (এসও) শাহ আরমান সালমান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
    এ প্রসঙ্গে সেকশন অফিসার শাহ আরমান সালমান বলেন, ‘অব্যাহত ভাঙনের মুখে বিলিন হওয়া নদীতীরের যে স্থানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হবে সেই স্থানটি একেবারে সরু। তাই বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও নতুন গানিব্যাগ ডাম্পিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নদীতীরে প্লেসিং করা হবে সেন্টসিমেন্ট মিশ্রিত গানিব্যাগ।

    তিনি জানান, এই কাজে ডাম্পিং করা হবে বালুভর্তি ১৬ হাজার ৫০০ জিও টেক্সটাইল ব্যাগ। ইতোমধ্যে ৪ হাজার বস্তা বালু ভর্তি করা হয়েছে। বাকী ১২ হাজার ৫শ বস্তা বালুভর্তির পর ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষ এসব ব্যাগ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। এর পর অনুমতি মিললেই নদীতে ডাম্পিং করা হবে বালুভর্তি জিও ব্যাগ। তবে ঠিকাদার কর্তৃক কোন ধরণের অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হবে তা কঠোরভাবে নজরদারি করা হবে। যাতে জনগণ এই কাজের দীর্ঘস্থায়ীভাবে সুফল পায়।’
    স্থানীয় বাসিন্দা ও শুভসংঘ চকরিয়ার সভাপতি আবুল মাসরুর আহমদ, সমাজকর্মী হোসাইন উজ-জামান, ছাত্রলীগ নেতা হুমায়ুন কবির চৌধুরী বলেন, ‘ভাঙনের কবলে পড়া নদীতীরের স্থানটি একেবারে সরু হওয়ায় ঠিকাদার নিয়োজিত শ্রমিকদের সুবিধার্থে কয়েকশ বস্তা বালু ভর্তি করে সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহারের জন্য তীরে রাখা হয়। কিন্তু আমাদের মনে হয়েছিল, জিও ব্যাগের বদলে চাউলের বস্তায় বালু ভরে ডাম্পিং করা হবে। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় সেই ভুল ভেঙেছে সকলের। এতে আশা করছি, কাজের মান বজায় রেখে শিডিউল মোতাবেক যথাযথভাবে কাজটি সম্পন্ন করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড শেষপর্যন্ত কঠোর নজরদারি করবেন।’

    প্রসঙ্গত গত ২১ বছর ধরে অব্যাহত ভাঙনের কবলে পড়ে মাতামুহুরী নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার শুধুমাত্র সাহারবিল ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডেরই শীল পাড়ার অন্তত ২০০ বসতবাড়ি। বসতবাড়ি হারানো এসব পরিবার মাথা গোঁজার জন্য ভূমি না থাকায় অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে শীল পাড়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের দুটি মন্দিরও। বর্তমানে শীল পাড়ার অবশিষ্ট যেসব বসতবাড়ি (প্রায় ৫০ পরিবার) বিদ্যমান রয়েছে তাও ভাঙনের কবলে ছিল। ইতোমধ্যে এই পাড়ার ওপর দিয়ে বিদ্যমান সাহারবিল শীল পাড়া সড়কটিও নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায়। যে সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতেন আশপাশের বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ। সেইসাথে এই সড়কের ওপর দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতেন অন্তত পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। কিন্তু এই সড়কটি নিয়ে কারোরই যেন মাথাবাথ্যা ছিল না। মাতামুহুরীর করাল গ্রাসে ভাঙন অব্যাহত থাকায় একেবারেই যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় শীল পাড়া সড়কটিতে। এই অবস্থায় সড়কটির উপকারভোগী এবং শীল পাড়ার ৫০ পরিবারের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এনিয়ে নদীতীর রক্ষায় মানববন্ধন কর্মসূচী, স্মারকলিপি প্রদানসহ নানা কর্মসূচী পালন করে স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন শুভসংঘ।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ