• শিরোনাম

    মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা ও মারধর

    চকরিয়া থানার ৬ পুলিশ সদস্য সাময়িক বহিষ্কার

    দেশবিদেশ রিপোর্ট | ০৬ মার্চ ২০২০ | ১১:৩৪ অপরাহ্ণ

    চকরিয়া থানার ৬ পুলিশ সদস্য সাময়িক বহিষ্কার

    কক্সবাজারের চকরিয়ায় প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বাঙ্গালীর বাড়িতে হামলা, মারধর, লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনায় গতকাল শুক্রুবার ৬ জন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৩ জন উপ পুলিশ পরিদর্শক ও অপর ৩ জন কনষ্টেবল। ঘটনার ব্যাপারে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়েছে।

    সাময়িক বহিষ্কৃতরা হচ্ছেন চকরিয়া থানার উপ পরিদর্শক কামরুল ইসলাস, উপ পরিদর্শক তুষ্ট লাল বিশ্বাস ও সহকারি উপ পরিদর্শক জেড রহমান এবং তিনজন কনস্টেবল। এর আগে বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যায় সাময়িক বহিষ্কৃত ৬ জন সহ থানার ১০ জন পুলিশ সদস্যকে চকরিয়া থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
    এদিকে স্বাধীনতার মাস মার্চে কক্সবাজারের চকরিয়ায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে পুলিশের অমানবিক হামলার ঘটনায় এলাকার সচেতন মহলও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বাঙ্গালী ছিলেন স্থানীয় একটি যুদ্ধাপরাধী মামলার বাদী। ওই মামলায় এলাকার ৩৭ জন স্বাধীনতা বিরোধী আলবদর-রাজাকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। গত তিন বছর আগে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে পর্যন্ত আসামীদের পক্ষ থেকে উক্ত মুক্তিযোদ্ধাকে স্বাধীনতা বিরোধীরা হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে।

    স্থানীয় লোকজন মনে করছেন, এমন একটি ঘটনার নেপথ্যে স্থানীয় স্বাধীনতা বিরোধীদের হাত থাকতে পারে। গত দু’সপ্তাহ আগে একই ইউনিয়নে প্রয়াত নুরুল আলম চেয়ারম্যানের ঘরের সীমানা দেয়াল ভাঙ্গার একটি ঘটনায়ও স্থানীয় জামায়াত নেতা গোলাম মোস্তফা কায়সারের সংশ্লিষ্টতার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার জ্যেষ্ট সন্তান এবং লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউল করিম সেলিম অভিযোগ করেন, স্থানীয় ই্উপি চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা গোলাম মোস্তফা কায়সারের সাথে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সখ্য রয়েছে। এমন সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন জামায়াত নেতা কায়সার।
    তবে এ বিষয়ে জামায়াত নেতা গোলাম মোস্তফা কায়সার গতকাল সন্ধ্যায় মোবাইলে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি উল্টো বলেছেন-‘আমি জামায়াতের রাজনীতি করি। এজন্যই আমার বিরুদ্ধে এসব বলা হচ্ছে। তদুপরি স্থানীয় আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি জাফর আলমের সাথে আমার অত্যন্ত সুসম্পর্ক রয়েছে। আমার প্রতিপক্ষ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোকজনের সন্দেহ আমি যে কোন সময় আওয়ামী লীগে যোগদান করব তাই এসব অভিযোগ করা হচ্ছে আমার বিরুদ্ধে।’

    কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন গতকাল সন্ধ্যায় এ বিষয়ে জানান-‘ আমি নিজেও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার ঘরে দিন দুপুরে পুলিশের হামলা সহ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের মারধরের ঘটনার জন্য আমি ইতিমধ্যে দুঃখ প্রকাশ করে পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছি।’
    পুলিশ সুপার ঘটনার ব্যাপারে বলেন, সাগর নামের একজন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারের ঘটনা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটির বাড়ি সংলগ্ন অপর একটি বাড়িতে সন্ত্রাসী সাগরের আতœীয় স্বজনরা পুলিশের উপর চড়াও হয়ে মারধর করে। এ ঘটনাটিকে স্থানীয় লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি গোলাম মোস্তফা কায়সার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অতিরঞ্জিত করে তথ্য প্রদান করেন।

    স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানের দেয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা মোঃ হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থলে ১০ সদস্যের পুলিশ প্রেরণ করেন। পুলিশ সুপার প্রাথমিক অনুসন্ধান করে জানান, যে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দ্দেশে যাওয়া পুলিশের দলটি ভুলক্রমে সন্ত্রাসী সাগরের বাড়ির পরিবর্তে প্রয়ত মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বাঙ্গালীর বাড়িতে ঢুকে ভাংচুর চালায়।

    এদিকে মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বাঙ্গালীর জ্যেষ্ট সন্তান রেজাউল করিম সেলিম থানা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যে, পুলিশের হামলায় তার বাড়ির খোয়া গেছে ৩৫ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৪ লাখ টাকা। পুলিশের মারধরে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী, ছেলে, পুত্রবধু, নাতি-নাতনিসহ সাত সদস্য আহত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নে মাঝিরঘাট পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

    আহতরা হলেন- প্রয়াত বীরমুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বাঙ্গালীর স্ত্রী ও লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নেচারা বেগম (৬২), পুত্রবধু চকরিয়া মহিলা কলেজের প্রভাষক ফরিদা ইয়াসমিন (২৮), মোরশেদুল আলম শিফাত (২৮), তার স্ত্রী সাবানুর শাভা (১৯), পুত্র বধু শাহানা আক্তার শানু (৩২ ),পুত্র বধু ফাতেমা ইয়াসমিন, বাড়িতে আসা মেহমান হাসান আবুল কাশেম, নাতি আরশেনুল করিম সোহা (৯) ও নাতনি আনোয়ার মোস্তাফিজ (১৪)। তন্মধ্যে গুরুতর আহত মুরাদুল করিম সিপাতকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের অন্যান্যরাও চকরিয়া উপজেলা হাসপাতারে ভর্ত্তি রয়েছেন। তিনি জানান, আগামী রবিবার আদালতে এ ঘটনার বিষয় নিয়ে মামলা দায়ের করা হবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ