• শিরোনাম

    বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

    চকরিয়া-পেকুয়ায় খাবার ও পানীয়জলের সংকট

    মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া/ এফ এম সুমন, পেকুয়া | ১৩ জুলাই ২০১৯ | ১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

    চকরিয়া-পেকুয়ায় খাবার ও পানীয়জলের সংকট

    বানের পানিতে ভাসছে চকরিয়া ও পেকুয়ার মানুষ। দু’উপজেলার অন্তত ৮লাখ মানুষের মধ্যে আনুমানিক ৭০ শতাংশ মানুষ পানিবন্দী। রান্না করতে না পেরে কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষ দুদিন ধরে খাওয়া-দাওয়া করেনি। সাথে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানীয়জলের। পানির নিচে তলিয়ে থাকায় অভ্যান্তরীন সড়ক যোগাযোগ প্রায় বন্ধ। বেড়িবাঁধগুলো ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে অনেকেই খাবার সংগ্রহ করছে। টানা ৮দিনের বর্ষণে এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে এ অবস্থার সৃষ্টি। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত কমলেও পানি এখনো পুরোপুরি নেমে যায়নি।
    উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা হাল্কা শুকনো খাবার ও খিচুড়ি রান্না করে বানবাসি মানুষদের কাছে দিলেও তা পর্যাপ্ত নয়। বন্যা কবলিত এলাকাগুলোর মধ্যে সড়কের পাশে থাকা দুর্গতরা এসব শুকনো খাবার পেলেও বেশিরভাগ দূর্গতরা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন। তাই বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানি পৌছে দেয়ার দাবি জানান দূর্গতরা। তারা আরো অভিযোগ করেন, ভোটের সময় ভোট চাইতে আসলেও দু:সময়ে কোন জনপ্রতিনিধিকে কাছে পাওয়া যায়না।
    চকরিয়ার পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়ন এবং পেকুয়ার ৭টি মধ্যে ৩টি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। ১টি পৌরসভা ও ২২টি ইউনিয়নের মধ্যে শতাধিক গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে ২ থেকে ৩ ফুট পানি রয়ে গেছে।
    ওইসব পরিবারের লোকজন বলেন, বৃষ্টি কমলেও বন্যার পানি তেমন কমেনি। তাদের বাড়িতে পানীয়জল ও খাবার সংকট থাকলেও কোন নেতা বা জনপ্রতিনিধিরা খোঁজ-খবর নেয়ার গরজ করেনি। অনুরুপভাবে অধিক প্লাবিত অপর গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের অবস্থাও একই।
    গত শুক্রবার থেকে চকরিয়া-পেকুয়া, পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা ও আলীকদমে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। এই বৃষ্টির পানি রাতের দিকে মাতামুহুরী নদী দিয়ে নেমে আসে ভাটির দিকে। এসময় নদীর দু’কুল উপচিয়ে লামা-আলীকদম প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি চকরিয়ার সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, বরইতলী, সাহারবিল, চিরিংগা, কৈয়ারবিল, কোণাখালী, বিএমচর, ঢেমুশিয়া, পশ্চিম বড় ভেওলা, ফাঁসিয়াখালী ও পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা এবং পেকুয়া সদর, উজানটিয়া, মগনামাসহ বেশ ক’টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে যায়।
    কাকারা ইউপি চেয়ারম্যান শওকত ওসমান ও সুরাজপুর-মানিকপুরের ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক ও লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তাফা কাইছার জানান, বৃষ্টি কমলেও বন্যার পানি করেমনি। শতশত পরিবারে রান্নার কাজ বন্ধ রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে পানিবন্দি মানুষের মাঝে খিচুড়ি রান্না করে ও শুকনো খাবার দেয়া হচ্ছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়।
    চকরিয়া পৌরসভার মেয়র মো.আলমগীর চৌধুরী বলেন, টানা বৃষ্টিতে শতাধিক পরিবার জলাবদ্ধতার কাছে জিন্মি হয়ে পড়েছে। মাতামুহুরী নদীর পানি কমতে শুরু করলে পৌর এলাকার যেসব ওয়ার্ডে পানি আটকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে আশা করি ওইসব পানি দ্রুত নেমে যাবে।
    চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলুল করিম সাঈদী শুক্রবার সকালে থেকে তার নিজস্ব তহবিল থেকে বন্যা কবলিত এলাকায় চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌছে দিচ্ছেন।
    তিনি বলেন, বন্যার পানি কমে না যাওয়া পর্যন্ত দুর্গতদের শুকনো খাবারের পাশাপাশি চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেয়া হচ্ছে। বন্যা পানি নেমে গেলে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে করণীয় ঠিক করা হবে। অপরদিকে, পেকুয়া উপজেলার স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা নাছির উদ্দিন বাদশা বলেন, প্রতিবছর বর্ষা আসলেই বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বাড়ি-ঘর,স্কুল-কলেজ সব কিছু ঢলের পানিতে ডুবে যায়। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরহগী সব কিছু নষ্ট হয়ে যায়। তাই আমরা আর কিছু চাই না, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটিই দাবি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ।
    এব্যাপারে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান ও পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাবুব-উল করিম বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এসব শুকনো খাবার বন্যা কবলিত এলাকায় পৌছে দিচ্ছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। প্রশাসনের লোকজনও কাজ করছে। বন্যার পানি নেমে গেলে ক্ষয়-ক্ষতির দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
    এফ এম সুমন পেকুয়া থেকে জানান
    পেকুয়ায় টানা কয়েকদিনের অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও বেড়িবাঁধ উপচে পড়ে প্লাবিত হয়েছে উপজেলা সদরের টেকপাড়া, বলির পাড়া, সাকুর পাড়া, সিরাদিয়া, নন্দীর পাড়া, হরিনাফাড়ি, জালিয়াখালী, মেহেরনামা, মগনামা ইউনিয়নের কাঁকপাড়া শরৎঘোনা, মগনামা ঘাঁট, ফতাইলা মার পাড়া, ঘাট মাঝির পাড়া, দরদরিয়া ঘোনা, উজানটিয়া ইউনিয়নের পেকুয়ার চর সুতাচুরা, সকির পাড়া, টেকপাড়া, রাজাখালীর ইউনিয়নের সিন্দু পাড়া, বইশ্যা ঘোনা, বদি উদ্দিন পাড়াও শিলখালী ইউনিয়নের অধিকাংশ ঘরবাড়ি। ফলে পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজা?? মানুষ। সংকট দেখা দিয়েছে শুকনো খাবার ও নিরাপদ পানির। মানুষের চলাচল সহ দৈনিন্দিন কাজে দেখা দিয়েছে চরম স্থবিরতা। বেশি দূর্ভোগ পোহাচ্ছে স্কুল কলেজগামী ছাত্রছাত্রী, খেটে খাওয়া মানুষেরা। দূর্গতরা বলছেন বড়িবাঁধ পূর্ণ সংস্কার না করাও কিছু অসাধু সিন্ডিকেট মাছ ধরার জন্য স্লুইচ গেইটে জাল বসিয়ে পানি আটকে রাখার কারনে জলাবদ্ধতা নিরসন হচ্ছেনা। পেকুয়া টেকপাড়ার বাসিন্ধা আব্দুল আজিজ জানান, টানা বৃষ্টিতে আমাদের ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আমাদের পুকুরের মাছ ভেসে গেছে আমার ঘরে পানি ডুকেছে । তার মতো একই এলাকার জসিম উদ্দিন বলেন, টানাবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় আমাদের বাড়ি ঘরে পানি ওঠেছে তিনি অভিযোগ করেনে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট স্লুইচ গেটে জাল বসিয়ে পানি যেতে বাঁধা সৃষ্টি করেছে যার ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পেকুয়া সদর ইউনয়নের বাসিন্ধা তরুণ রাজনৈতিককর্মী এডভোকেট রাশেদ শুক্রবার দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছে এসময় তিনি বলেন, বেড়িবাঁধ পূর্ণ সংস্কার না করা এবং স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল মাছ ধরার উদ্দ্যেশ্যে পানি নিষ্কাশনের স্লুইচ গেটে জাল বসিয়ে পানি যেতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে যার ফলে জলাবদ্ধতায় কষ্ট পাচ্ছে মানুষ তিনি এ ব্যাপারে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জোর দাবী জানান। এদিকে মগনামার জলাবদ্ধতার বিষয়ে জানতে চাইলে মগনামা ইউপি চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম বলেন, আমাদের এখানে বেড়িবাঁধ এখনো অরক্ষিত। তাছাড়া মগনামায় যে পরিমান বৃষ্টিতে পানি হয় তা নিষ্কাশন করার মতো পর্যাপ্ত সুইচগেইট এখানে নেই। যার ফলে বৃষ্টি হলেই এখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তিনি আরো বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের একমাত্র উপায় তা হলো পর্যাপ্ত স্লুইচ গেইট স্থাপন । এবিষয়ে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহাবুব উল করিম জানান, আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য জরুরী ভিত্তিতে শুকনা খাবার ব্যবস্থা করেছি যা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ইউনিয়নে বিতরণ করা হয়েছে তবে আমরা আরো ত্রানের জন্য উর্ধতন মহলকে জানিয়েছি আশা করছি তা দ্রুত আমাদের কাছে আসবে। তবে আমরা যে স্লুইচ গেটে জাল বসানোর খবর পেয়েছি তা সাথেই সাথেই উঠিয়ে দিয়েছি। এরকম খবর পেলে অবশ্যই জরুরী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ