রবিবার ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

শাহপরীর দ্বীপে সীমান্ত নিরাপত্তা বাঁধ নির্মাণে

চরের বালু ব্যবহার, কাজে ব্যাপক অনিয়ম

জাকারিয়া আলফাজ, টেকনাফ   |   বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল ২০১৯

চরের বালু ব্যবহার, কাজে ব্যাপক অনিয়ম

*strong>* বালু নিতে গিয়ে খুঁড়ে ফেলা হয় ক *স্থানও * পাশের ভূমি বিলীন হওয়া *আশঙ্কা * বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন

টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপে চরের বালু দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে বেড়িবাঁধ। ফলে নির্মাণাধীন এ বেড়িবাঁধের টেকসই ও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। অন্যদিকে সাগর ও নাফনদের মোহনায় নতুন করে জেগে ওঠা চরের বালু উত্তোলনের কারণে চর ও চরের পাশের ভূমি বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা যায়, ১৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত নিরাপত্তা উন্নত করার জন্য উখিয়া ও টেকনাফের নাফ নদের বরাবর পোল্ডার পুনর্বাসন প্রকল্প’র কাজ শুরু হয়েছে। কাজের সুবিধার্তে প্রকল্পটি একাধিক খন্ডে ভাগ করে দরপত্র আহবানের মাধ্যমে একাধিক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া হয়। সেখানে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে শাহপরীর দ্বীপ দক্ষিণ পাড়া থেকে জালিয়া পাড়া পর্যন্ত ৪ কিলোমিটারের বাঁধ নির্মাণের কাজটি পেয়েছেন শহীদ ব্রাদার্স ও গিয়াস কনস্ট্রাকশন।
সরেজমিনে গতকাল রোববার শাহপরীর দ্বীপ ঘুরে দেখা যায়, দক্ষিণ পাড়া থেকে জালিয়া পাড়া পর্যন্ত অংশে বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ ব্যাপক অনিয়মের মধ্যে চলছে। কাজের মান যেমন নি¤œমানের তেমনি কাজে দুর্নীতি ও অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে। বেড়িবাঁধের কাজে ব্যবহার করা ৎ হচ্ছে বাঁধের বাইরে নতুন করে জেগে ওঠা চরের বালু। এছাড়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি বাঁধের ভিতরের অংশ থেকেও নিচ্ছে বালু। বেড়িবাঁধ নির্মাণে যে মাটির ব্যবহার করার উল্লেখ ছিল তার পরিবর্তে বেশির ভাগ চরের বালু দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে স্থানীয় জনসাধারণ।
দ্বীপের বাসিন্দারা অভিযোগ করেছে, একটু দূর থেকে মাটি সংগ্রহ করতে হবে সেজন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাছের চর থেকে বালু তোলে বেড়িবাঁধে দিচ্ছে। এমনকি তারা বালু দিতে গিয়ে বাঁধের ভিতরের অংশের কবরস্থান পর্যন্ত খুড়ে পেলেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। এছাড়া চর থেকে বালু তোলে ফেলার কারণে জেগে ওঠা চরটি আবারও খালে পরিণত হচ্ছে এবং জোয়ারের সময় পাশের ভূমি ঘোলার পাড়ার অর্ধশতাধিক বাড়িঘর বিলীন হয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা থাকে।
দ্বীপের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ নির্মাণাধীন বাঁধটি একদিকে যেমন সীমান্ত নিরাপত্তা বাঁধ তেমনি দ্বীপবাসীর কাছে এটি রক্ষা বাঁধ। কিন্তু কাজের যে গতি এবং দুর্নীতি তাতে বাঁধটি টেকসই হবে বলে মনে হচ্ছেনা। এমনিতে শাহপরীর দ্বীপ বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে দীর্ঘদিন দ্বীপবাসী সীমাহীন কষ্টে ছিল, এরপর চলমান বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজে অবহেলা, গাফলতি ও অনিয়মের কারণে বাঁধের কাজ নি¤œমানের হলে সেটিও এক সময় বিলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
টেকনাফ উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাস্টার জাহেদ হোসেন বলেন, ‘কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে যে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে তার একটি অংশে চরম দুর্নীতি হচ্ছে। নাফের নদের একেবারে শেষ অংশে অর্থ্যাৎ শাহপরীর দ্বীপ দক্ষিণ পাড়া অংশে সাগরের ঢেউ থাকায় যেনতেন বেড়িবাঁধ সেখানে ঠিকবেনা, উপরন্তু সরকারের বিপুল টাকা গচ্ছা যাবে। আমরা সেখানে অনিয়মের কথা শুনেছি। বেড়িবাঁধ নির্মানে ঠিকাদারদের এসব গাফলতি ও দুর্নীতি রোধ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘ চরের বালু দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ এলাকাবাসী মেনে নেবেনা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বেড়িবাঁধের কাজে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করতে না পারলে প্রয়োজনে উর্ধ্বতন কর্তাদের দ্বারস্থ হবো।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা একাধিকবার কাজ পরিদর্শনে এলেও তারা বাঁধের কাজের অনিয়ম দেখেও না দেখার মতো করে চলে যায়। এ ক্ষেত্রে তাদের কেউ অভিযোগ জানালেও তারা তা তেমন আমলে নেননা বলে জানায়।
এব্যাপারে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) উপ সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে পাশের চরের বালু উত্তোলন না করতে একাধিকবার বলা হয়েছিল। খুব দ্রুতসময়ে আমি সেখানে গিয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
তিনি আরো বলেন, ‘ সীমান্ত নিরাপত্তা বাঁধ বা বেড়িবাঁধের কাজের মানে কোন ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম সহ্য করা হবেনা। অভিযোগের সত্যতা পেলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গিয়াস কনস্ট্রাকশনের স্বত্ত্বাধিকারী গিয়াস উদ্দীন বলেন, ‘শুরুতে অসতর্কতার কারণে চর থেকে বালু উত্তোলন করা হয়েছে এটা ঠিক, তবে পরবর্তীতে আমরা সেখানে চরের বালু না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চর থেকে বালু উত্তোলনের কারণে যেসব বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলোও ভরাট করে দেব।’
তিনি বলেন, ‘বালু দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে বলে এলাকাবাসী যে অভিযোগ করছে তা সঠিক নয়, যে পরিমাণ বালু দেয়া দরকার আমরা সেটুকুই দিচ্ছি। তবে কাজের মান বজায় রেখে টেকসই বাঁধ নির্মাণে আমরা আরো সচেষ্ট থাকব।’

Comments

comments

Posted ১:১০ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com