শুক্রবার ২৭শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম
হতভাগি এনজিও কর্মীর দুই শিশুর এখন কি হবে ?

চাকুরি হারা এমএসএফ কর্মী মরিয়মের মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

দেশবিদেশ রিপোর্ট   |   শনিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

চাকুরি হারা এমএসএফ কর্মী মরিয়মের মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

একজন নারী এনজিও কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নানা কথা উঠেছে। ক্ষোভ বিরাজ করছে এলাকায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে এই নারী কর্মীর মৃত্যু নিয়ে। অভিযোগ উঠেছে, সীমান্ত বিহীন চিকিৎসা শ্লোগান নিয়ে এমএসএফ হল্যান্ড নামের একটি আন্তর্জাতিক এনজিও চাকুরিচ্যুত করার পরই এই নারী কর্মীর মৃত্যু ঘটে। মরিয়ম নামের এই নারী কর্মী চাকুরি করতেন এমএসএফ হল্যান্ড নামের এনজিওটিতে। বৃহষ্পতিবার তাকে আকস্মিক চাকুরিচ্যুত করা হয়। এর কয়েক ঘন্টা পর রাতেই বুকের ব্যথায় কাতর হয়ে পড়ে। গতকাল শুক্রবার সকালে তাকে কক্সবাজারে হাসপাতালে নেয়ার সময় তার মৃত্যু ঘটে।
জানা গেছে, মৃত্যুর শিকার এই নারীর নাম মরিয়াম বেগম। উখিয়া উপজেলার রাজা পালং ইউনিয়নের দরগাহবিল গ্রামের মৃত দুধু মিয়ার কন্যা তিনি। বেশ কয়েক মাস আগে হতভাগি এই নারীর বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। তার দুই সন্তান রয়েছে। দরিদ্র পরিবারের হতভাগি এই নারী চাকুরি নেন এমএসএফ হল্যান্ড নামের এনজিওটিতে। চাকুরির টাকায় দুই সন্তানের খাবার জুটত দরিদ্র পিতার ঘরে। কিন্তু চাকুরিচ্যুতির পর তার স্বপ্ন খান খান হয়ে যায় বেঁচে থাকার।
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী গতরাতে জানান, মরিয়ম নামের এনজিও কর্মীর মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। তিনি বলেন-‘আমি খবর নিয়ে জেনেছি, চাকুরিচ্যুতির পর মরিয়ম ঘরে এসে মন খারাপ করে শুয়ে পড়ে। রাতে এক পর্যায়ে বলে তার বুক ব্যথা করছে। তাকে কক্সবাজারে হাসপাতালে নেয়ার সময় গতকাল শুক্রবার সকালে তার মৃত্যূ ঘটে।’
এলাকার লোকজন জানান, মরিয়মের একজন মাত্র ভাই রশিদ। তিনিও মাত্র ৪ দিন আগে ভাগ্যের অন্বেষণে পাড়ি জমান সৌদি আরব। মরিয়মের মৃত্যুর পর গ্রামের লোকজনের ভাবনা হচ্ছে-হতভাগি মায়ের মৃত্যুর পর এই দুই শিশুর এখন কি হবে ? প্রসঙ্গত, গত বেশ কিছুদিন ধরে এনজিওগুলো স্থানীয় কর্মীদের ছাঁটাই করছে। এ কারনে উখিয়া-টেকনাফ তথা কক্সবাজারের স্থানীয় কর্মীদের ছাঁটাই বন্ধ করার জন্য এবং স্থানীয়দের চাকুরি নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রামে রয়েছে এলাকাবাসী। এমন সময়ে ঘটে যাওয়া নারী কর্মীর মৃত্যুর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
উখিয়া-টেকনাফ বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক নুর মোহাম্মদ সিকদার গতরাতে বলেন, মরিয়মের আকস্মিক মৃত্যুর খবর ফেসবুকে পেয়ে তিনি সরেজমিন এলাকায় গিয়ে ঘুরে এসেছেন। নুর মোহাম্মদ সিকদার জানান, আকস্মিক চাকুরি হারিয়ে স্বামী পরিত্যক্তা হতভাগি নারী তার দুই শিশু সন্তান নিয়ে কোথায় যাবেন-এমনই হতাশা কাজ করেছে বলে তিনি শুনেছেন।
তিনি বলেন, গত ২৮ বছর ধরে কক্সবাজার তথা উখিয়ায় রোহিঙ্গা নিয়ে কাজ করছে এনজিওটি। বরাবরই এনজিওটি অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার। এমনকি কুকুর মারার কাজটিও পর্যন্ত এই প্রতিষ্টানের কাছে বড় অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয়। অথচ এরকম একটি ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে এনজিওটির কর্মীরা সংবাদকর্মীদের কোন সাক্ষাৎ দিতে রাজি হয়না। এ কারনেই তাদের বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।

Comments

comments

Posted ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

প্রকাশক
তাহা ইয়াহিয়া
সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
01870-646060
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com