• শিরোনাম

    চীন-ভারতের সোডিয়াম লবণ চাষীদের পথে বসিয়েছে

    দেশবিদেশ রিপোর্ট | ০৬ মার্চ ২০২০ | ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

    চীন-ভারতের সোডিয়াম লবণ চাষীদের পথে বসিয়েছে

    শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত সোডিয়াম সালফেট দেদারছে ব্যবহার করা হচ্ছে চীন ও ভারত থেকে আমদানী করা সোডিয়াম সালফেট লবণ। ভারতের চেয়ে চীনের আমদানী করা সালফেট লবণ দেখতে অধিকতর সাদা। চীন ও ভারত থেকে আনা এই সালফেট লবণ দামেও সস্তা। কক্সবাজারে উৎপাদিত লবণ একটু কালছে এবং ভিজা। কিন্তু চীন ও ভারতের সালফেট লবণ যেমনি সাদা তেমনি শুকনা, ঝরঝরে এবং কার্যকরও।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাছের খামারের খাদ্য তৈরি করতে ভারত এবং চীনের আমদানী করা সালফেট ব্যবহার করা হয়। সাগর থেকে আহরিত ছোট আকৃতির মাছ সহ সামুদ্রিক হরেক রকমের পঁচা (মানুষের খাবার অনুপযোগি) মাছ এবং শামুক নিয়ে মাছের খামারের এসব খাদ্য তৈরি করা হয়।
    ভারত ও চীনের সালফেট লবণের দাম হচ্ছে ৭৪ কেজির এক বস্তার দাম ৫৮০ টাকা। অপরদিকে কক্সবাজারের উপকুলীয় মাঠে উৎপাদিত লবণের এক বস্তার দাম ৬৫০ টাকা। প্রতি বস্তায় ৭০ টাকা কম হওয়ার কারণেই সালফেট লবণ ব্যবহার করা হয় মাছের গুঁড়ি খাবারে। মাত্র ৭০ টাকা মূল্য কম হবার কারনে মাছের খাবারে শিল্প করাখানায় ব্যবহারের নামে আমদানী করা লবণ নামের সালফেট ব্যবহারে খাবার প্রস্তুতকারকরা বেশী উৎসাহী।

    ভারত ও চীন থেকে আমদানী করা এসব সালফেট অতিরিক্ত ব্যবহারের কারনে আমদানী কারকরাও মহাখুশি। নিজের দেশের উৎপাদিত লবণ বাদ দিয়ে মাত্র ৭০ টাকা সাশ্রয় করতে গিয়ে মাছের খাবার প্রস্তুতকারকরা দেশবাসীর বারটা বাজিয়ে দিচ্ছেন। একদিকে আমদানী করা শিল্প কারখানার লবণ মাছের খাবারে ব্যবহার করায় দেশীয় লবণ বিক্রি হচ্ছে না। উৎপাদিত লবণ বিক্রি না হওয়ায় দিন দিন দাম কমছে। এতে করে লবণ চাষীদের কোমর ভাংছে। অপরদিকে শিল্প কারখানার লবণে প্রস্তুত করা খাবারের মাছ মানবদেহে গিয়ে মারাতœক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু এসব যেন দেখার কেউ নেই।
    বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতি সুত্রে জানা গেছে, আমদানি কারকরা একদম বিনা বাধায় মিসডিকলারেশনের মাধ্যমে সোডিয়াম সালফেট আমদানি করছেন। ব্যাংক সমূহ প্রতিনিয়িত এলসি খুলেই আমদানির সুযোগ করে দিচ্ছে আমদানি কারকদের। সমিতির সভাপতি নুরুল কবির জানান, এই পণ্যটি ইভাপোরেটেড লবণ সাদৃশ্য হবার কারনে সরাসরি প্যাকেটজাত হয়ে খাদ্য লবণ হিসাবে বাজারজাত হয়ে যাচ্ছে। যা মানব স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর-জানান তিনি।

    নুরুল কবির জানান, গার্মেন্টস শিল্পে সোডিয়াম সালফেট এর প্রয়োজন নেই। কিন্তু গার্মেন্ট শিল্প কারখানার জন্যও আমদানি করা হচ্ছে সোডিয়াম সালফেট। অথচ সরকার চাইলেই একটি মাত্র চিঠি ইস্যুর মাধ্যমে সালফেট আমদানি বন্ধ করতে পারে দেশীয় লবণ শিল্পের স্বার্থে। তদুপরি সোডিয়াম সালফেট, কষ্টিক সোডা উৎপাদনের জন্য এবং বিভিন্ন রপ্তানীমুখি শিল্পের জন্য লবণ আমদানিতে বিডা এবং সরকারের অন্যান্য সংস্থা আমদানির অনুমতি দিয়ে থাকে। মিল মালিক সমিতি এক্ষেত্রেও জাতীয লবণ কমিটি, শিল্প মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি বাধ্যতামূলক করতে পারে। বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতি এসব দাবি লিখিতভাবে জানিয়েছে শিল্পমন্ত্রীর কাছে।
    এদিকে লবণ চাষীরা লবণের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে মাঠ ছেড়ে পালাতে শুরু করেছে। টেকনাফ উপকুলের সাবরাং এলাকার লবণ চাষী এবং টেকনাফ উপজেলা পরিষদ ও সাবরাং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শফিক মিয়া গত বছরের মৌসুমে তার নিজস্ব জমিতে উৎপাদিত প্রতি কেজি লবণ বিক্রি করেছেন ৬ টাকা ৭৫ পয়সা দামে। এতে করে তিনি উৎপাদন খরচ মিটিয়ে কেজি প্রতি কমপক্ষে এক টাকা পর্যন্ত লাভ করতেন।

    কিন্তু এবার তিনি প্রতি কেজি লবন বিক্রি করছেন কেজি প্রতি মাত্র ৪ টাকা দরে। এতে করে তার উৎপাদন খরচে কেজিতে দুই টাকারও বেশী ক্ষতি গুণতে হচ্ছে। তিনি বলেন, গেল মৌসুমের চাইতে এবারের মৌসুমে নানাভাবে উৎপাদন খরচও বেশী। এমন অবস্থায় টেকনাফ উপকুলের অনেক চাষী ইতিমধ্যে মাঠ ছেড়ে দিয়েছে।
    কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা এবং মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক এসব বিষয়ে গতরাতে বলেন-‘ লবণ শিল্প কেবল মাত্র কক্সবাজারের উপক’লীয় এলাকার হত দরিদ্র লবন চাষীদের স্বার্থ রক্ষা করেনা। এ শিল্প স্বার্থ রক্ষা করে গোটা দেশের ১৬ কোটি মানুষের। তাই আমরা দেশের মানুষের স্বার্থে দেশকে লবণে স্বয়ং সম্পূর্ণ করার জন্য এ মুহূর্তে চীন ও ভারত থেকে অহেতুক সোডিয়াম সালফেট লবণের নামে সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি বন্ধ করার দাবি জানচ্ছি।’ ###

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ