• শিরোনাম

    চেয়ারম্যান মিরানের কাছে জিম্মি এলাকার মানুষ

    নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া | ২৪ আগস্ট ২০২০ | ১০:৫৪ অপরাহ্ণ

    চেয়ারম্যান মিরানের কাছে জিম্মি এলাকার মানুষ

    চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আলোচিত মিরানুল ইসলাম মিরান সালিশ বৈঠকে বিভিন্ন জনকে মারধরের ঘটনাটি নতুন নয়। সালিশের নামে লোকজনকে ধরে এনে মারধর করা চেয়ারম্যান মিরানের নৈমত্তিক ঘটনা ছিলো। এ কারণে তিনি নানাভাবে সমালোচিত হয়েছিলেন। কিন্তু চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা হওয়ায় ভয়ে শত অন্যায়ও মুখ খুলতে সাহস করেনি কেউ। অনেকটা চেয়ারম্যানের কাছে জিম্মি ছিলো এলাকার মানুষ।
    জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৪ মে হারবাং শাহ ছুফি মাজারের খাদেম মো.ফয়েজ আহমদকে সালিশ বৈঠকের নাম করে বাড়িতে ডেকে নিয়ে মারধর করার অভিযোগ রয়েছে। মারধরের পর মাজারের খাদেম গুরত্বর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তিনি মারা যান। এঘটনায় চেয়ারম্যান মিরানের বিরুদ্ধে কক্সবাজারের আদালতে একটি হত্যা মামলাও দায়ের করেন খাদেমের পরিবার । এই মামলাটি এখনো বিচারাধীন।
    মৃত খাদেম মো.ফয়েজ আহমদের ছেলে মোহাম্মদ শাহজাহান শাহ্ জানান, আমার বাবাকে সালিশ বৈঠকের নামে বাড়িতে ডেকে নিয়ে চেয়ারম্যান মিরান নিজ হাতে লাঠি দিয়ে ব্যাপক মারধর করেন। এরপর বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। বেশ কয়েকদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর তিনি মারা যান। এঘটনায় চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম মিরানসহ দুইজনকে আসামী করে কক্সবাজার আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি এখনও বিচারাধীন রয়েছে।
    আরো জানা গেছে, হারবাং লালব্রীজ এলাকার বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন, সোহেল উদ্দিন, ৭নং ওয়ার্ডের রাশেদ প্রকাশ কালো ড্রাইভারকে সালিশ বৈঠকের নামে মারধর করেন। এছাড়াও গত ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে অর্থাৎ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলনের আগ মুহুর্ত্বে হারবাং স্টেশনের মানসিক ভারসাম্যহীন দেলোয়ার হোসেন নামের এক যুবককে মারধরে অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনা নিয়েও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন চেয়ারম্যান মিরান। কিন্তু চেয়ারম্যান হওয়ায় কেউ মুখ খুলতে সাহস করেননি।
    এরকম শতশত লোককে সালিশ বৈঠকের নামে যখন তখন গায়ে হাত তুলতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে চেয়ারম্যান মিরানের বিরুদ্ধে। কিন্তু স্থানীয় আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় কেউ সাহস করে মুখ খুলতো না।
    হারবাং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মিরানুল ইসলাম মিরান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে বেশ বেপরোয়া হয়ে পড়েন। তিনি ধরা কে সরা জ্ঞান করতে শুরু করেন। তিনি প্রায়’শ সালিশ বৈঠকের নাম করে অসহায় লোকদের উপর চড়াও হতেন। নিজ হাতে আইন প্রয়োগ করতেন। তিনি নিজেকে এই রাজ্যের রাজা ভাবতে শুরু করেন। তার হাত থেকে রেহায় পায়নি মানসিক ভারসাম্যহীন লোক থেকে শুরু করে ধার্মিক লোকজনও। তারপরও সব কিছুর একটা শেষ রয়েছে।
    সর্বশেষ গত শুক্রবার চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে গরু চুরির অপবাদে মা-মেয়েসহ পাঁচজনকে রশি দিয়ে বেঁেধ নির্যাতন করে স্থানীয় লোকজন। পরে তাদের রশি দিয়ে বেঁধে প্রকাশ্যে সড়কে ঘুরিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম মিরান পরিষদে নিয়ে গিয়ে দ্বিতীয় দফায় মারধর করেন। এতে তারা অসুস্থ হয়ে যায়। এ সংবাদ পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করেন।
    পরে গরু চুরির অভিযোগ এনে স্থানীয় বাসিন্দা মাষ্টার মাহমুদুল হক শুক্রবার রাতে বাদি হয়ে চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরের দিন শনিবার সকালে আসামীদের আদালতে উপস্থিত করা হলে মামলার প্রেক্ষিতে আদালত তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।
    তবে এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে ভাইরাল হয়ে পড়লে সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এতে বেশ বেকায়দায় পড়েন চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম মিরান।###

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ