• শিরোনাম

    চৌফলদন্ডি-খুরুস্কুল সেতু পর্যটনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা!

    সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও | ২৬ জুন ২০১৮ | ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

    চৌফলদন্ডি-খুরুস্কুল সেতু পর্যটনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা!

    কালের খেয়াঘাট, মালকাবানু-মনুমিয়ার প্রেমের লোকজপুরাণ ও পদচারণাধন্য পূণ্যতীর্থ ওই জনপদে লুকিয়ে রয়েছে প্রেম-প্রমোদ-পর্যটনের অপার সম্ভাবনা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে শোভিত কক্সবাজা সদরের চৌফলদন্ডি-খুরুস্কুল সেতু। সদর উপজেলার এপাড়ে খুরুস্কুল ইউনিয়ন এবং ওপাড়ে চৌফলদন্ডি ইউনিয়ন। সৌন্দর্যে শোভিত একটি জনপদ পুরো আটটি ইউনিয়নকে এক করেছে। দিগন্ত রেখায় মহেশখালী চ্যানেলের সৌম্য সুনীল স্বচ্ছ জলরাশি, অদূরে বাঁকখালী ও বঙ্গোপসাগরের মিলনমুখ, উপকণ্ঠে সমুদ্র শহর কক্সবাজার।

    একটু তফাতে জোয়ার ভাটার অরণ্য ও বৈচিত্রময় জলজীবনের আনন্দ বেদনার দৃশ্যকাব্য। বিস্তীর্ণ লবণ ক্ষেতের রূপালী শস্যসহ সব মিলিয়ে সমস্ত সম্ভাবনা ও সৌন্দর্য হেলেনিক নান্দনিকতায় আবর্তন করছে চৌফলদন্ডী-খুরুস্কুলের উপকূলঘেরা সাগর, বাঁকখালী নদী ও মহেশখালী চ্যানেলের মোহনা থেকে খোসাডাঙ্গা দিগন্তের অবারিত জলভূমি সমাহার। আঁকাবাঁকা বাঁকখালী নদীর দু’পাশে শত শত কেওড়া, বিহিন্দা গাছ আর মাছ ধরা নৌকার সারি। নির্মিত ব্রীজের উভয় পাশের জেলেদের বৈচিত্রময় জীবন ও জীবিকা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর (রাখাইন) অস্থিত্বের লড়াই, জীববৈচিত্র, বিস্তৃত জল প্রান্তের সুপ্ত সম্ভাবনাকে জাগিয়ে দিয়েছে। এই সেতুর দু’পাশে যুক্ত হয়েছে জল নির্ভর পর্যটনের আরেক নতুন মাত্রা। চৌফলদন্ডী-খুরুস্কুল সেতুর ফলে সুবিধাবঞ্চিত বৃহত্তর জনসংখ্যা অধ্যুষিত এলাকা ও অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র ঈদগাঁও থেকে কক্সবাজার জেলা শহরের দুরত্ব অনেক কমে গেছে। এছাড়া কমে গেছে উপকূলীয় এলাকা চৌফলদন্ডী, পোকখালী, ইসলামাবাদ, ইসলামপুর ও ভারুয়াখালীসহ অপরাপর এলাকার গণমানুষের দীর্ঘপথ পরিভ্রমণ করে জেলা শহরে যাতায়াত করার ঝক্কি-ঝামেলা। এছাড়াও লবণ, কাঠ, চিংড়ি, শুটকি, নাপ্পি ও নানা জাতের মাছের পোনাসহ পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় অর্জিত হয়েছে যুগান্তকারী সাফল্য। সেতুর পার্শ্ববর্তী মহেশখালী চ্যানেল,বাঁকখালী ও বঙ্গোসাগরের মিলনমুখ অবধি এবং পূর্বে খুরুস্কুল থেকে চৌফলদন্ডী হয়ে ইসলামপুর পর্যন্ত উপকূলীয় খোসাভাঙ্গা দিগন্তের বিকশিত হবে পর্যটন শিল্প। পর্যটন শিল্পখাতে বৈদেশিক বিপুল বিনিয়োগে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ উপকূলীয় জনপদের জীবনযাত্রায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে এবং চৌফলদন্ডী-খুরুস্কুল সেতুটি যেন ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য একটি খোরাক বলে মত প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

    এই খুরুস্কুল-চৌফলদন্ডি সেতু কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ৫ কি.মি দূরে অবস্থিত। নদীর স্বচ্ছ জলরাশি, ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি, কোমল বাতাস আর জেলেদের সারিবদ্ধ নৌকা , যা দেখলে হৃদয় ভরে যায়। যার অদুরে খুরুস্কুলে গড়ে উঠছে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রতিশ্রতি আশ্রয়ন প্রকল্প, চৌফলদন্ডিতে রাখাইন পল্লী, বৌদ্ধ মন্দির, বাঁকখালী নদীর তীর ঘেষা এলাকার নয়নাভিরাম দৃশ্যকে ঘিরে রয়েছে পর্যটন শিল্পের উজ্জ্বল সম্ভাবনা। খুরুস্কুল ও চৌফলদন্ডি ইউনিয়নের পাশ ঘেষে প্রবাহিত পাহাড়িয়া খড়¯্রাোতা বাঁকখালী নদী। সেতুর উপর দাঁিড়য়ে দিনের বেলায় লোভানদীর স্বচ্ছ পানিতে সূর্যের অবিকল প্রতিবিম্ব মাথার উপড়ে ক্যাপ এবং রঙিন চশমা দিয়ে কাবু করা হয়। কিন্তু পানির সূর্যকে ছায়া দেওয়া খুবই কঠিন। সে এক অপরূপ দৃশ্য। সূর্য ডোবার সাথে সাথেই জোনাকী পোকার মতো পুরো জনপদের বিজলী বাতি আর মাছ ধরার নৌকাগুলোর বাতি গুলো জ্বলে। চাঁদনী রাতে নবরূপ যৌবনে ভরে উঠে বাঁকখালী নদীর উপর নির্মিত সেতু। প্রকৃতির অঢেল সম্ভারে সমারোহ, পাখ-পাখালির কলকাকলিতে মুখরিত চৌফলদন্ডি-খুরুস্কুল এলাকা সম্পদের সমৃদ্ধ। প্রতি বছর এই এলাকাগুলো হতে কোটি কোটি টাকার চিংড়ি, লবণ, শুটকি ও নাপ্প্ী দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।

    চৌফলদন্ডীর সচেতন মহলের মতে, চৌফলদন্ডী-খুরুস্কুল সেতুটি নির্মানের ফলে বৃহত্তর ঈদগাঁও বাসীর ভাগ্যন্নোয়ন হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা ও যোগাযোগ ক্ষেত্রেসহ মানুষের জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধি ও সর্বোপরি সুযোগ সুবিধা সহজলভ্য হয়েছে। নান্দনিক সেতুকে ঘিরে পর্যটন এলাকা হিসেবে রুপ নিচ্ছে। চৌফলদন্ডীর সেতু দেখতে আসা কয়েকজন যুবক জানান, পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত নোনাজল খ্যাত পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সন্নিকটে সৌন্দর্য্যের আরেকটি মনোমুগ্ধকর স্পট সেতুটিও ভ্রমণ পিপাসুদের মাঝে আনন্দের খোরাক বটে। এটি দেখে সত্যি মন জুড়িয়ে যায়। ব্রীজের দু’পাশের চিত্র যেন অতুলনীয়। এ বহুল প্রত্যাশিত চৌফলদন্ডী-খুরুস্কুল সংযোগ সেতুর এক পাশে গেঁথে আছে স্বপ্নময় পর্যটন শিল্প বিকাশের সম্ভাবনা আর অন্যপাশে গ্রামীন জনপদের নাগরিকদের মান উন্নয়ন। যা বদলে দিচ্ছে এতদঅঞ্চলের সমৃদ্ধির মানচিত্রও অর্থ-বাণিজ্যের। বিশেষ করে সরকারী ছুঠির দিনগুলোতে হাজার হাজার লোক এই সেতুর উপর ভীড় জমায়, আনন্দ করে, আনন্দের মেলা বসায়। সূদীর্ঘ পরিকল্পনা ও নকশা করে প্রাকৃতিক পরিবেশে তৈরি করেছিল এই সেতু। সেতুর উপর দিয়ে গাড়ী চলাচল ও লোকজন যাতায়াত করে। সেতুটি দেখতে খুবই ভালো লাগে।

    স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৪ বছর পরও এখানকার মানুুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন হয়নি। অথচ প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যে ভরপুর এ এলাকা। মেঘমুক্ত আকাশে বিকেল বেলা সূর্যের আলো যখন সোনালী আভার সৃষ্টি করে, তখন প্রেমিকরা পলকহীন দৃষ্টিতে ঐ এলাকার দিকে চেয়ে থাকেন। প্রকৃতির হাতে অঢেল সম্ভারে সাজানো নদী, সবুজের সমারোহ, সম্পদ ও সৌন্দর্যের লীলাভূমি খুরুস্কুল-চৌফলদন্ডি সেতুর সংযোগ স্থল এলাকাটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলার অনুকূল পরিবেশে রেখেছে।

    দর্শনার্থীরা জানান, কম খরছে দৃষ্টিনন্দন চৌফলদন্ডী সেতুসহ আশপাশের নজরকাড়া জায়গায় ঘুরে কিছুটা হলেও ভ্রমণের তৃপ্তি মেটাচ্ছে প্রত্যান্ত গ্রামীণ জনপদেও লোকজনসহ দুরদুরান্ত থেকে আগত ভ্রমন পিপাসুরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেতুর উপর লাইটিং ব্যবস্থা, আপপাশের নদীর উপর ভাসমান রেস্তোরা, নৌ বিহার আয়োজন সহ আরো ব্যাপক পরিসরে উদ্যোগ নেওয়া হলে এই চৌফলদন্ডি-খুরুস্কুল সেতু এলাকাটি হতে পারে পর্যটন শহরের ভিতর আরো একটি মিনি পর্যটনের সৌন্দর্যময় স্পট। প্রসংগত, কক্সবাজার সদরের বৃহত্তর ঈদগাঁওয়ের সাথে জেলা শহরের দুরত্ব কমানো, কৃষি পণ্যের সহজ বাজারজাতকরণ এবং আর্থ সামাজিক অবস্থা ও জীবন জীবিকার ব্যাপক উন্নয়নের লক্ষ্যে খুরুস্কুল ও চৌফলদন্ডির বুক চিড়ে বয়ে যাওয়া খুরুস্কুল-চৌফলদন্ডি-ঈদগাঁও সড়ক নির্মাণের দাবী ছিলো দীর্ঘদিনের। পর্যটন নগরী কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডি-খুরুস্কুল সেতু এখন পর্যটকদের ঘুরে বেড়ানোর আদর্শ পর্যটন স্পট হিসাবে গড়ে উঠেছে। এবারের ঈদে পর্যটকদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছিল চৌফলদন্ডি-খুরুশকুল ঁেতুর পর্যটন স্পটটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার সফরে এসে প্রায় ৩০কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত খুরুস্কুল-চৌফলদন্ডি সেতুটি উদ্বোধন করেন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ