• শিরোনাম

    চকরিয়ায় নির্বাচনী সমাবেশে-ওবায়দুল কাদের

    জনসমর্থনহীন বিএনপি’র মরা গাঙ্গে আর জোয়ার আসবেনা

    মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া: | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১:১৬ পূর্বাহ্ণ

    জনসমর্থনহীন বিএনপি’র মরা গাঙ্গে আর জোয়ার আসবেনা

    বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর এই চকরিয়ায় নির্যাতনের ভারী বর্ষণ হয়েছিলো। আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা ঘর ছাড়া হয়েছিলো। মামলা-হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলো হাজার হাজার নেতা-কর্মী। সে কথা নিশ্চয় সবার মনে আছে। আমার নেতা-কর্মীরা দশ বছর ঈদের নামাজ পড়তে পারেনি। বাবার জানাযার নামাজ পড়তে পারেনি। পরে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশব্যাপী উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারন মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন হয়। শান্তির সুবাতাস ছড়ায় সারাদেশে। এ অবস্থায় বিএনপি জামায়াত অনেক চেষ্টা করেছে সরকার হটানোর আন্দোলন করতে। দশ বছরে বিশটি ঈদ অতিবাহিত হয়েছে। প্রতিবারেই ঈদের পরে আন্দোলন করে সরকার হটানোর ঘোষনা দিলেও ওই ঘোষনায় জনগণ সাড়া না দেয়ায় বাস্তবে রুপ নিতে পারেনি। গতকাল রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চকরিয়া পৌরশহরের শহীদ আবদুল হামিদ বাস টার্মিনালে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথি ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ এখন দেশের ১৬ কোটি মানুষের আস্তা অর্জন করেছে। আওয়ামীলীগের প্রতিপক্ষ বিএনপি ও জামায়াত। অথচ কোথাও কোথাও এমন অবস্থা চলছে আওয়ামীলীগের প্রতিপক্ষ কতিপয় আওয়ামীলীগারই। ওইসব নেতা-কর্মীকে নিজেদের সমালোচনা বন্ধ করে আওয়ামীলীগের উন্নয়ন ও প্রতিপক্ষের ব্যর্থতার কথা বলতে হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে হাজার হাজার মানুষ জাফর ভাইকে প্রার্থী চাই শ্লোগান শুরু করলে জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এখানকার নেতাদের আমলনামা জমা আছে। সংগৃহিত রয়েছে জরিপ রিপোর্ট। জনপ্রিয়তায় যে এগিয়ে রয়েছে তাকেই নমিনেশন দেয়া হবে। চকরিয়া-পেকুয়া আসনের প্রতি নেত্রীর সহানুভুতি রয়েছে। আপনার ঐক্যবদ্ধ থাকলে এই আসনে নৌকার প্রার্থী হতে পারে। আওয়ামীলীগ চকরিয়া উপজেলার সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাফর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত জনসভায় তিনি আরো বলেন, ঈদ যায় ঈদ আসে বিএনপির আন্দোলন আর আসেনা। এসময় তিনি বিএনপি’র উদ্যোশে বলেন, মরা গাঙ্গে কখনো জোয়ার আসবেনা। বিএনপি এখন মরা দল। বিএনপি দেওলিয়া হয়ে এখন ৩০ দলে যোগ দিয়েছে। যাদের কোন জনসমর্থন নেই। এমনকি ওই দলগুলোর মধ্যে এমন নেতাও আছে নির্বাচনে মেম্বারও হবেনা। তিনি প্রিন্ট মিডিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া আওয়ামীলীগের উন্নয়ন কর্মকান্ড ও জনসমর্থন নিয়ে ব্যাপক প্রচার করলেও কিছু কিছু প্রিন্ট মিডিয়া আওয়ামীলীগের জনকল্যানকর কাজগুলো চোখে দেখছেনা। কয়েকটি প্রিন্ট মিডিয়া বিভিন্ন দাবী দাওয়ার আন্দোলনে উস্কানিমূলক লিখে দেশে অশান্ত পরিবেশ ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের সেই অপতৎপরতা ব্যর্থ করে দিয়েছে শিক্ষার্থীদের দাবি ঠান্ডা মাথায় মেনে নিয়ে। চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী সঞ্চালনায় লাখো মানুষের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল মতিন কসরু,সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষযক সম্পাদক আবদুর সবুর, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তাফা, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মেয়র, মহেশখালী-কুতুবদিয়ার সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন, রেজাউল করিম, শফিকুর রহমান শফি, জেলার শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক খালেদ মোহাম্মদ মিথুন, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা রাশেদুল ইসলাম, চকরিয়া পৌরসভার মেয়র মো.আলমগীর চৌধুরী, আমিনুর রশিদ দুলাল, সরওয়ার আলম, ছৈয়দ আলম কমিশনার, এ্যাডভোকেট শহিদুল্লাহ, পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, মাতুমহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিন বাবুল, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু, সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ওসমান চেয়ারম্যান, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কাউছার উদ্দিন কছির, প্রমুখ। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে একটি নির্বাচন প্রচার টিম গত ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে সড়ক পথে চট্টগ্রাম পৌছে। গতকাল ২৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাচ্ছিল। পথে তিনটি পথসভায় যোগ দেন। তন্মধ্যে পূর্ব নির্ধারিত পথসভা হলেও দুপুর ১টা থেকে চকরিয়া-পেকুয়ার লাখো মানুষের উপস্থিতিতে চকরিয়া বাস টার্মিনালস্থ সভাটি বিশাল জন সমাবেশে পরিণত হয়। তীব্র ও ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করে দুপুর থেকে ঢাকডোল পিটিয়ে মিছিল সহকারে নারী-পুরুষরা সমাবেশে আসতে থাকে। অনেক মিছিল ব্যান্ড পার্টি জলের নৌকা কাদে বয়ে হাতে নানা লেখা সম্বলিত পোষ্টার-ফেস্টুন নিয়ে আসেন। সমাবেশ স্থল ছাড়াও পুরো পৌরসভা ব্যানার ও বিলবোর্ডে ছেয়ে যায়। সেসব ব্যানার-বিলবোর্ডে কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বাগত জানানোর সাথে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাফর আলমকে নৌকার মাঝি (প্রার্থী) হিসেবে পেতে দাবি জানানো হয়। সেই দাবি সমাবেশে চলাকালেও মিছিল-শ্লোগানের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতাদের জানান দেন নেতা-কর্মী-সমর্থকরা।

    দেশবিদেশ /২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮/নেছার

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ