সোমবার ২৭শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

জাতীয় দলে খেলতে চায় সুমাইয়া

তারেকুর রহমান   |   সোমবার, ২৩ মে ২০২২

জাতীয় দলে খেলতে চায় সুমাইয়া

কক্সবাজারের মহেশখালী কালারমারছড়া ইউপির নয়াপাড়া এলাকার দরিদ্র পরিবারের সন্তান উদীয়মান ফুটবল খেলোয়াড় সুমাইয়া। কালারমারছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সে। বালিকা ফুটবলে তাকে চিনে না এমন লোক কক্সবাজারে কম পাওয়া যাবে। ঘরোয়া ফুটবলে নিজেকে নিয়ে গেছে অনন্য স্থানে। জাতীয় ফুটবল দলে খেলার স্বপ্ন বুনেছে স্বপ্নবাজ এই বালিকা।

শৈল্পিক খেলায় সুমাইয়া নিজের স্কুল, ইউনিয়ন ও উপজেলার গন্ডি পেড়িয়ে খেলেছে রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ফেনী ও ব্রাহ্মনবাড়িয়াসহ একাধিক জায়গায় মাঠের লড়াইয়ে অত্যন্ত দাপট খাটিয়ে চলছে প্রতিনিয়ত। ফুটবল টুর্নামেন্টের বিভিন্ন পর্যায়ে তার নৈপুন্যতা ছিল শীর্ষে। সে অল্প সময়ে নিজেকে পরিচিত করেছে জেলার আনাচে কানাচে। সপ্তম শ্রেণির এই অদম্য বালিকা খেলে জেলা মহিলা ফুটবল দলে। তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন মা-বাবা, স্কুলের শিক্ষক, এলাকাবাসী ও ফুটবল বিশ্লেষকরা। তার নৈপুন্যতার কারণে একাধিক ট্রফি, মেডেল ও প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার তার ঝুলিতে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও ক্রীড়া পরিদপ্তর আয়োজিত চলমান বঙ্গমাতা অনুর্ধ্ব-১৭ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে মহেশখালী উপজেলার হয়ে অংশগ্রহণ করেছে সুমাইয়া। উখিয়া উপজেলার সাথে অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত খেলে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয় এই ফরোর্য়াড।

কিন্তু তার স্বপ্ন রুখে দিচ্ছে দারিদ্রতা। জেলে বাবা সৈয়দ আলমের দিনে এনে দিনে খাওয়া পরিবারের মেয়ে সুমাইয়া। বাবা মাছ ধরতে যেতে না পারলে উপোস থাকতে হয় তাদের। ৫ সদস্যের পরিবারে অভাব অনটনে কেটে যায় দিন।

সুমাইয়ার বাবা সৈয়দ আলম বলেন, ‘সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারলে চুলায় আগুন জ¦লে। দুঃখ-কষ্টে পার করছি দিন। এর মধ্যে সুমাইয়ার বুট, জার্সি ও খেলার সরঞ্জাম কিনে দেয়া আমার সম্ভবের বাইরে। অনেকবার চাউল না কিনে মেয়ের ফুটবলের সরঞ্জাম কিনে দিয়েছি। সে যেহেতু খুব ভালো খেলে এলাকার সবাই তাকে খেলাধুলায় জড়িত রাখতে। কিন্তু আমি তো পারছি না। আমার দারিদ্রতার কাছে হেরে যাচ্ছে সুমাইয়া।’

তিনি বলেন, ‘সুমাইয়ার খেলা দেখে মুগ্ধ হয়ে উপজেলা-জেলার হয়ে তাকে খেলতে নিয়ে যায়। জেলার বাইরেও খেলে পুরস্কার জিতে আসে আমার সুমাইয়া। সে দিন দিন যত ভালো খেলছে তত তাকে নিয়ে আমার স্বপ্নটা বড় হচ্ছে। অভাব অনাহারে থাকলেও মেয়ের প্রতিভার কাছে এসব তুচ্ছ মনে হয় আমার কাছে। কিন্তু দিন শেষে সন্তানদের খরচের জন্য আটকে যাই আমি। আমার স্বপ্ন একদিন আমার মেয়ে জাতীয় দলে খেলবে। আমার সেই আশা আল্লাহ্ যেন পূরণ করেন।’

সুমাইয়া বলেন, ‘আমার জীবনটাই ফুটবলকে ঘিরে। খেয়ে না খেয়ে এই ফুটবল নিয়ে পড়ে আছি ছোট বেলা থেকে। আমার অনেক স্বপ্ন রয়েছে ফুটবল নিয়ে। জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন বুনছি । কিন্তু আমার জেলে বাবার পক্ষে আমার খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। অনেক সময় খেলাধুলার সরঞ্জাম কিনতে হয়। সেগুলো কিনে দিতে বাবার অনেক কষ্ট হয়। তারপরও স্বপ্ন লালন করছি। সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা পেলে জাতীয় দলে খেলতে পারবো। জাতীয় দলে খেলে আমি দেশের সুনাম বয়ে আনতে চাই।’

এ ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলুল করিম সাঈদী বলেন, ‘গরীবের ঘরে এমন প্রতিভাবান মেয়ে আল্লাহর অপূর্ব নিয়ামত। সুমাইয়ার খেলা দেখে মুগ্ধ না হয়ে কেউ থাকতে পারবে না। অসাধারণ খেলে মেয়েটা। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় তার শৈল্পিক খেলা সত্যিই উপভোগ করার মতো। তার নিঁখুত খেলা দেখে আমরা তাকে জেলা মহিলা ফুটবল দলে সুপারিশ করি। ছোট্ট এই মেয়ে এখন সে জেলা টিমে খেলছে। জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেলে মেয়েটি দেশের নাম উজ্জ্বল করবে।’

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘কক্সবাজার থেকে অনেক ভালো ভালো নারী খেলোয়াড় তৈরী হয়েছে। গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবলে দক্ষিণ এশিয়ার যে মুকুট পরেছে বাংলাদেশ, সেই সাফল্যের অন্যতম কারিগরও কক্সবাজারের মেয়ে সাহেদা আক্তার রিপা। সেও দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে গেছে। ঠিক তেমনি সুমাইয়াকে নিয়েও আমরা স্বপ্ন দেখি। সংশ্লিষ্টদের নজরে সুমাইয়ার বিষয়টি আসলে হয়তো সেই জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাবে। অনেক কষ্ট করে সুমাইয়াদের সংসার চলে। জেলে বাবার পক্ষে আসলে সুমাইয়ার খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা সুমাইয়ার বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সাথে বসে আলাপ করবো।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাহিদ ইকবাল বলেন, ‘সুমাইয়ার বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আছে। তার প্রতিভাকে মূল্যায়ন করবে জেলা প্রশাসন। বর্তমানে সে বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছে। টুর্নামেন্ট শেষে তার বিষয়টা জেলা প্রশাসন দেখবে।’

গরীব পরিবারের মেয়ে হলেও হাল ছাড়েনি সুমাইয়া। জাতীয় দলে খেলার এক বুক স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সে। নিয়মিত অনুশীলন ও খেলার মধ্যে যাচ্ছে তার সময়। বাফুফে যদি সুমাইয়ার মতো মফস্বলের নারী খেলোয়াড়দের নজরে আনে তাহলে বাংলাদেশ ফুটবলে বিশ্বের মাঝে আরো এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

Comments

comments

Posted ২:২৮ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৩ মে ২০২২

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

প্রকাশক
তাহা ইয়াহিয়া
সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
01870-646060
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com