• শিরোনাম

    জেলায় যথাযোগ্য মর্যদায় বিজয় দিবস উদযাপন

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১:১৪ পূর্বাহ্ণ

    জেলায় যথাযোগ্য মর্যদায় বিজয় দিবস উদযাপন

    কক্সবাজার জেলায় যথাযোগ্য মর্যদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তোপধ্বনীর মাধ্যমে দিবনের কার্যক্রম শুরু হয়। সকালে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ, বধ্যভূমিতে পুষ্পস্তবক অপর্ণ করা হয়। কক্সবাজার স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ, সালাম গ্রহণ, ডিসপ্লে, ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। শহীদ দৌলত ময়দানে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন।
    একইভাবে জেলাব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিজয় দিবস উদযাপন হয়। বিভিন্ন সাহিত্য, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, পেশাজীবী সংগঠন, সরকারি, বেসরকারি সংস্থা ব্যাপক কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপন করে মহান বিজয় দিবস।
    কক্সবাজার সরকারি কলেজ
    বর্ণাঢ্য আয়োজনে কক্সবাজার সরকারি কলেজে উদ্্যাপিত হয়েছে মহান বিজয় দিবস- ২০১৯। ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখ, সোমবার সকাল ৯ টায় বিএনসিসি সেনা ও নৌ শাখা, রেড ক্রিসেন্ট, রোভার স্কাউটের কুচকাওয়াজের মাধ্যমে জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে বিজয় দিবসের কর্মসূচির সূচনা হয়। এর পরপরই অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও কলেজের শিক্ষকবৃন্দসহ ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে বিশাল বিজয় র‌্যালি কলেজ হতে লিংক রোড হয়ে কলেজে শেষ হয়। এরপরই অনুষ্ঠিত হয় বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আয়োজিত বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা।
    সকাল সাড়ে ১০ টায় কলেজ মিলনায়তনে শুরু হয় বিজয় দিবসের আলোচনা সভা। আলোচনার শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠ করা হয়। মহান বিজয় দিবস- ২০১৯ উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোঃ হারুন অর রশীদ এর সভাপতিত্বে এবং ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক নুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর এ.কে.এম ফজলুল করিম চৌধুরী। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন- নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুুদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর আজীবনের লালিত স্বপ্ন, ক্ষুধা, বঞ্চনা ও দারিদ্রতা মুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে এগিয়ে এসে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
    এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর পার্থ সারথি সোম, শিক্ষক পরিষদ স¤পাদক মফিদুল আলম। বিজয় দিবস উদ্যাপন কমিটির পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ উল্লাহ। এতে আরো বক্তব্য রাখেন ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর হোসাইন আহমেদ আরিফ ইলাহী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অরুন বিকাশ বড়–য়া, উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রনজিত বিশ^াস, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মুজিবুল হক চৌধুরী, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেখ দিদারুল আলম, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ হাসানুল ফরহাদ, ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক উত্তম কান্তি দত্ত। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার সরকারি কলেজ রাষ্ট্রবিজ্ঞান ৩য় বর্ষের ছাত্র সাখাওয়াত হোসেন এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় বর্ষের ছাত্র নুরুল আবরার সাকিব।
    আলোচনা সভা শেষে মহান বিজয় দিবস- ২০১৯ উপলক্ষ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
    জেলা আইনজীবী সমিতির
    কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসের কর্মসূচীর মধ্যে ছিল সূর্যোদয়ের সাথে সাথে আইনজীবী সমিতি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৬.০১ মিনিটে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বেলা ১১ মিনিটে আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠান।
    আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি এডভোকেট আ.জ.ম মঈন উদ্দীন। সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ইকবালুর রশিদ আমিন এর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সর্বজনাব এডভোকেট মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ, এডভোকেট সৈয়দ মোঃ রেজাউর রহমান, এডভোকেট মোহাম্মদ রিদুয়ান আলী, এডভোকেট মোঃ হারেছ রহমান, এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ (৬), এডভোকেট মোহাম্মদ ইসহাক-১, এডভোকেট সুলতানুল আলম, এডভোকেট মোহাম্মদ তারেক, এডভোকেট মাহবুবুর রহমান, এডভোকেট আব্বাছ উদ্দিন চৌধুরী, এডভোকেট মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, এডভোকেট মোহাম্মদ বদিউল আলম সিকদার, এডভোকেট ফরিদুল আলম (পিপি) প্রমুখ।
    সভায় বক্তারা বলেন- বঙ্গবন্ধু আমাদের বিজয় দিয়েছেন, তাঁর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা আমাদের উন্নয়ন দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে মাননীয় জননেত্রী শেখ হাসিনা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, কেউ যেন তা বানচাল করতে না পারে সেজন্য আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
    আলোচনা সভা শেষে শহীদের আত্মার মাগফেরাত ও দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মৌলানা নুরুল হক।
    কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
    কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উদ্দীপনার সাথে পালিত হয়েছে মহান বিজয় দিবস। বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আবুল কাসেম এর নেতৃত্বে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিজয় দিবসের কর্মসূচী। এরপর বিশ^বিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন আহমদ এর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় শহীদমিনারে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্প মাল্য অর্পন করা হয়। সকাল দশটায় বিশ^বিদ্যালয় হল রুমে বিজয় দিবসের আলোচনা সভা, বীর মুক্তিযুদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আবুল কাসেম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা সভার উদ্বোধন করেন বিশ^বিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র ও কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান । বিশ^বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক তামান্না নওরিন জামান এবং সহকারী রেজিস্ট্রার কুতুব উদ্দিন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশ^দ্যিালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর আবদুল হামিদ, ডিন ড. জাকির হোসেন, রেজিস্ট্রার(ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার এহসান হাবিব, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এএসএম সাইফুর রহমান।
    আলোচনা সভায় কক্সবাজার জেলার দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল হোসেন চৌধুরী এবং মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহাজাহান কে সম্মননা স্মারক প্রদান এবং বিশ^বিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি এর পক্ষ থেকে নগদ অনুদান প্রদান করা হয়।
    আলোচনা সভার প্রধান অতিথি পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন,,মহান বিজয় দিবস বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ দিন। বহু সংগ্রাম, তাজা রক্ত, অনেক তাজা প্রাণ, মা-বোনদের সম্ভ্রমহানী এবং সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে বাঙালী জাতি লাভ করে তাদের প্রিয় স্বাধীনতা । স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে দেশ, গণতন্ত্র ও সরকার বিরোধী সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
    আলোচনা সভার উদ্বাধক বিশ^বিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে দখলদার পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর আত্মসম্পর্ণের মধ্য দিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চুড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়েছিল। ৯ মাস যুদ্ধ ৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই বিজয়। আজ গভীরভাবে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের সেই মহান শহীদদের আত্মত্যাগের কথা। স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে,যাঁর ডাকে সর্বস্তরের মানুষ সর্বাত্মক স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল এক অভিন্ন লক্ষ্যে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ^াসী জাতির জনকের কন্যা আজ ক্ষমতায়। তাঁর নেতৃত্বে বাংলদেশ আজ সারা বিশে^ উন্নয়নের রোল মডেল। সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতার ফসল এই বিশ^বিদ্যালয়। কক্সবাজারবাসী জন্য এই বিশ^বিদ্যালয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার।
    আলোচনা সভায় বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষকসহ বিপুল শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে বিশ^বিদ্যালয় হলরুমে এক মনোজ্ঞ সাংসকৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।।
    উখিয়া কলেজ
    কক্সবাজারের উখিয়া’র সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ উখিয়া কলেজে মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর প্রথম প্রহরে সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ, র‌্যালীত্তোর আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুুষ্ঠিত হয়।
    প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ফজলুল করিমের সভাপতিত্বে বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অজিত কুমার দাশ, অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আহমদ ফারুক, ইংরেজী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রফিকুল আলম চৌধুরী, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সবুজ শাহরিয়ার, রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ আলী, ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শাহ আলম, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগীয় প্রধান আলমগীর মাহমুদ, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক তহিদুল আলম, জীব বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. গিয়াস উদ্দিন, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ছৈয়দ আকবর প্রমুখ।
    শুরুতে পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থসমূহ থেকে পাঠ করা হয়। অনুষ্টান সঞ্চালনা ও মহান বিজয় দিবস বাস্তবায়নে দায়িত্বে ছিলেন অর্থনীতির প্রভাষক জালাল আহমদ, সমাজ বিজ্ঞানের প্রভাষক আমানত উল্লাহ সাকিব ও কম্পিউটার বিষয়ের প্রদর্শক প্লাবন বড়ুয়া।
    নাইক্ষ্যংছড়ি
    ইফসান খাঁন ইমন,নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে জানান
    বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় বিনম্র শ্রদ্ধা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে ৪৯তম মহান বিজয় দিবস। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করেছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
    সোমবার ( ১৬ ডিসেম্বর) ভোরে সূর্যোদয়ের আগে উপজেলা স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ, সকাল সাড়ে ৮ ঘটিকায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে নাইক্ষ্যংছড়ি ছালেহ আহাম্মদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন,কুচকাওয়াজ,শরীরচর্চা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠিানের আয়োজন করা হয়। বেলা ১২ টায় ঐ বিদ্যালয়ের হল রুমে বিজয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্বর্ধনা, পুরুষ্কার বিতরণ ও আলোচনা সভা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন কচির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল ৪ টায় প্রীত ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
    সকালে কুচকাওয়াজে অংশ নেয় বাংলাদেশ পুলিশ,আনসার, ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা। কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহন করেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যাপক মোঃ শফিউল্লাহ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিউলাহ বলেন, এই মাস বিজয়ের মাস দেশকে স্বাধীন করতে এদিনে চুড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি পায়। যারা এই দেশকে ভালোবেসে যুদ্ধ করেছে তাদেরকে জানায় লাখো সালাম। শিশুদেরকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সর্ম্পকে চেতনা জাগিয়ে তুলার আহ্বান জানান।
    এসময় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন থানা অফিসার ইনচার্জ( ওসি) আনোয়ার হোসেন, জেলাপরিষদ সদস্য ক্যনেওয়ান চাক, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মংহ্লা মার্মা,ভাইস চেয়ারম্যান মহিলা শামীমা আক্তার, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রাজা মিয়া,উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: ইমরান, ওসি (তদন্ত) কানু চৌধুরী নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা মাঈনুদ্দিন খালেদ, সভাপতি শামীম ইকবাল চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম কাজল,দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক জয়নাল আবেদীন টুক্কু, উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আব্দুর সাত্তারসহ বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বৃন্দ।
    বাংলাদেশ শিশু একাডেমি
    বাংলাদেশ শিশু একাডেমি কক্সবাজার জেলা শাখা কর্তৃক বিস্তারিত কর্মসূচীর মাধ্যমে মহান বিজয় দিবস/২০১৯ উদ্যাপন করা হয়। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি কক্সবাজার জেলা শাখার উদ্যোগে অনুর্দ্ধ ১৬ বছরের শিশুদের জন্য ১৩ ডিসেম্বর সকাল ৯.৩০ টায় শিশু একাডেমি কার্যালয়ে ৩ গ্রুপে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ক গ্রুপ বিষয় ‘উন্মুক্ত’ মাধ্যম: পেন্সিল স্কেচ, খ গ্রুপ বিষয় : জাতীয় স্মৃতিসৌধ মাধ্যম: পেন্সিল স্কেচ এবং গ গ্রুপে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ মাধ্যম: জল রং।
    ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬.৩০ টায় শহীদ দৌলত ময়দানে জেলা প্রশাসক কক্সবাজার মোঃ কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভা শেষে শিশু একাডেমি আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে সনদ ও পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি, সংসদ সদস্য (সদর-রামু আসন) সাইমুম সরওয়ার কমল ও বিশেষ অতিথি সংসদ সদস্য (মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসন) আশেক উল্লাহ রফিক, পুলিশ সুপার, কক্সবাজার এবিএম মাসুদ হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড: সিরাজুল মোস্তফা, অধ্যক্ষ, কক্সবাজার সরকারি কলেজ, একেএম ফজলুল করিম চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ আমিন আল পারভেজ, জেলা জাসদ সভাপতি নাইমুল হক চৌধুরী টুটুল, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সমশ্ব্যর চক্রবর্তী , বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল হোসেন এবং জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা আহসানুল হক প্রমূখ। সবশেষে শিশু একাডেমির শিশু শিল্পীদের অংশগ্রহনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
    এফ এম সুমন পেকুয়া থেকে জানান
    পেকুয়ায় যথাযোগ্য মর্যদায় মহান বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। সোমবার ১৬ই ডিসেম্বর পেকুয়া উপজেলা প্রশাসন নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করে। সকালে সুর্যোদয়ের সাথে সাথে পেকুয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, উপজেলা প্রশাসন, পেকুয়া থানা, উপজেলা আওয়ামী লীগও অংগ ওসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিএনপির অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা শহীদ মিনারে এসে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। সকাল ৯টায় পেকুয়া উপজেলা প্রশাসনের অয়োজনে আলোচনা সভা, কুচকাওয়াজ, স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহনে মনোরম ডিসপ্লে ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। এসময় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাঈকা শাহাদাত, উপজেলা চেয়ারম্যান ভারপ্রাপ্ত উম্মে কুলসুম মিনু, পেকুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল চেীধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব আবুল কাশেম, পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি কামরুল আজম, বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. কামাল হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ছাবের আহম্মদ, মুক্তিযোদ্ধা রমিজ আহমদ প্রমুখ। এসময় বক্তরা সবাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে দেশের সকল মানুষকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান। বিকেলে পেকুয়া উপজেলা প্রশাসন বনাম পেকুয়া বণিক সমিতির মধ্যকার এক ফুটবল প্রীতিম্যাচ অনুষ্টিত হয়। পুরো অনুষ্টান সঞ্চালনা করেন, পেকুয়া মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হানিফ চৌধুরীও বারবাকিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছির উদ্দিন । অনুষ্টানে পেকুয়া উপজেলা প্রশাসনের উর্ধতন ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ কুল কলেজের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও অবিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
    আল মাহমুদ ভূট্টো,রামু থেকে জানান
    ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস বাঙালী জাতির জাতীয় জীবনে এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। রামুতে দিনব্যাপী নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে। মহান বিজয় দিবস-২০১৯ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত নানা কর্মসূচীর মধ্যে ছিল সূর্যোদয়ের সাথে সাথে উপজেলা শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের শুভ সূচনা, মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকল সরকারি ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৯টায় রামু খিজারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অস্থায়ী জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ ও জাতীয় পতাকাকে সালাম গ্রহণ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার সদর-রামু আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা ও রামু থানার অফিসার ইনচার্জ মো.আবুল খায়ের। স্কুল, মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে, ক্রীড়ানুষ্ঠান ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। জাতির শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে এবং মুক্তিযোদ্ধা/শহীদের আত্মার শান্তি কামনা করে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, ক্যাং ও অন্যান্য উপসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা, বেলা ২.৩০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাচন অফিস কর্তৃক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের মাঝে স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হয়। রামু অফিসার্স ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয় মহিলা সমাবেশ ও মহিলাদের জন্য ক্রীড়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে রামু স্টেডিয়ামে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একাদশ বনাম উপজেলা নির্বাহী একাদশের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচে প্রচুর দর্শক সমাগম ঘটে। রাতে উপজেলা শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
    এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস পালন করা হয়।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ