শনিবার ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যে খুশি প্রধানমন্ত্রী, ধন্যবাদ জ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২০

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যে খুশি প্রধানমন্ত্রী, ধন্যবাদ জ্ঞাপন

জলবায়ু উদ্ভাস্তুদের জন্য কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলে নির্মিত বিশ্বের বৃহত্তম আশ্রয়ণ প্রকল্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মজিবুর রহমানের বক্তব্যে খুশি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সিরাজুল মোস্তফার সাড়ে ৭ মিনিট এবং মুজিবুর রহমানের সাড়ে ৪ মিনিটের বক্তব্য হাসি মুখে মন দিয়ে শুনেন শেখ হাসিনা। দুইজনের বক্তব্য অত্যন্ত গোছানো ও যথার্থ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
জলবায়ু উদ্ভাস্তুদের জন্য কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলে নির্মিত বিশ্বের সর্ববৃহৎ আশ্রয়ন প্রকল্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণের বিশ্বাস এবং সাহসের ঠিকানা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আপনার চৌকস নেতৃত্বে, আপনার সাহসিকতায় দুর্যোগ মোকাবেলা করে বারবার আমরা বিজয়ী হয়েছি। সমুদ্রের উপক‚লে আমাদের বসবাস।
আমরা কক্সবাজারবাসী ঝড়-তুফান অমান্য করে আপনার নেতৃত্বে সাহসিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছি।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভ‚মি কক্সবাজার। বাঁকখালী নদীর তীরে আপনার সুন্দর এবং অনন্য চিন্তা ধারা, একটি সফল সৃষ্টি এই আশ্রয়ণ প্রকল্প।
সুন্দর চিন্তা ভাবনা ছিল বলে বলেই এই ধরণের সুন্দর পরিকল্পনা করা আপনার পক্ষে সম্ভব হয়েছে। উপকারভোগীরা সবাই আনন্দিত। কক্সবাজারবাসী খুবই আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ।
তিনি বলেন, এখানে পর্যটকরা আসবে। বাঁকখালীর উপক‚ল দিয়ে যখন পর্যটকেরা কুতুবদিয়া-মহেশখালী পর্যটন স্পটে যায়, তখন তারা এই সুন্দর স্থাপনা দেখে বিমোহিত হয়। এই ধরণের চিন্তাধারা একমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনার মাথা থেকে আসছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এখানকার মেগা প্রকল্পগুলো সঠিকভাবে চলছে।
প্রশাসন, রাজনীতিবিদ ও স্থানীয়দের নিয়ে আমরা সুন্দরভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
জীবন জীবিকার জন্য আপনি যে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন; আমাদের যে নির্দেশনা দিচ্ছেন, সেভাবে চলছি। আমরা দশে মিলে কাজ করছি। কোভিট-১৯ মোকাবেলায় সমন্বিত কাজ করেছি। জনমত সৃষ্টি করতে পেরেছি। সে কারণে করোনা সংক্রমণ আমরা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। এখন জীবনযাত্রা স্বাভাবিকভাবে চলছে। কোন মানুষের মধ্যে আহাজারি, হাহাকার নেই। আমরা সবকিছু দেখে শুনে কাজ করে যাচ্ছি।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, সেনাবাহিনী অত্যন্ত যতেœর সাথে আশ্রয়ণ কেন্দ্রগুলো করছে। সবকিছু সুন্দর, সাবলীলভাবে আমরা সম্পন্ন করতে পেরেছি। সবাই আমাদেরকে সহায়তা করেছে। পরামর্শ দিয়েছে।
রোহিঙ্গা শিবির পর্যন্ত সম্প‚র্ণ নিরাপদ রয়েছে। আপনার ইন্সট্রাকশন মতে জেলা প্রশাসনসহ আমরা সবাই মিলে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। তা বিদেশিরাও দেখছে। সুন্দর ব্যবস্থাপনায়া আপনার নেতৃত্বে কাজ করতে পেরে আমরা সফল।
আপনি যা নির্দেশ দেন সে মতে যদি আমরা অনুসরণ করি; অনুভব ও বাস্তবায়ন করি, তাহলে প্রতিটি ক্ষেতে আমরা সফল হবো।
কিন্তু দুর্ভাগ্য, আপনি আমাদের নেত্রী। আপনি আমাদেও নেতা। আপনি চিন্তা ভাবনায়-কাজকর্মে অনেক দ‚র এগিয়ে গেছেন। আমরা আপনার সাথে এগিয়ে যেতে পারছি না। এটাই আমাদের ব্যর্থতা।
আমরা যদি আপনার কথা মতো এগিয়ে যেতে পারি, তাহলে প্রতিটি ক্ষেতে সফলকাম হবো।
৭ মিনিটের বেশী সময় ধরে এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফার বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শেষে ‘আমরা এগিয়ে যাব, এগিয়ে যাব’ বলে প্রধানমন্ত্রী তাকে ধন্যবাদ জানান।
কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমান বক্তব্যের শুুরুতেই
ারীরিক খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।তিনি মেয়র মুজিবের কাছে জানতে চান- শরীর কেমন?
এরপর মুজিবুর রহমান বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আমাকে মেয়র করেছেন। আমি কিন্তু কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এটি আপনার হাতে দেওয়া। এতে আমি গর্বিত। আপনার হাতে দেওয়ার চেয়ে আর বড় কিছু হতে পারে না। এজন্য আমি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ। আজীবন কৃতজ্ঞ।
আরেকটা কারণে আমি কৃতজ্ঞ, আমি যখন করোনা আক্রান্ত হয়েছি, তখন আপনি আমার দ্রæত চিকিৎসার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আপনি যদি সেদিন না বলতেন; আমি যদি কক্সবাজারে চিকিৎসা করতাম, হয়তো আমি পৃথিবীতে থাকতাম না। এজন্য আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা।
যে বিষয়টি আমি আপনাকে বলতে চেয়েছি, আজ থেকে ৬ বছর আগে জেলা আওয়ামী লীগকে গণভবনে ডেকে অনেক গুরুত্বপ‚র্ণ কথা বলেছিলেন। পার্টির কথা বলেছিলেন। এক পর্যায়ে বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করার কথা বলেছিলেন আপনি।
সেদিন আমি তাৎক্ষণিকভাবে বললাম যে- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি বিমানবন্দর করবেন, ঠিক আছে। কিন্তু পার্শ্ববর্তী কুতুবদিয়া পাড়ার বাসিন্দাদের কি করা হবে? সঙ্গে সঙ্গে আপনি বলেছিলেন যে, ‘তাদের জন্য আমি আশ্রয়ণ প্রকল্প করে দেব।’
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, সেই স্বপ্নের আশ্রয়ণ প্রকল্প শুভ উদ্বোধন করার জন্য আপনি গণভবন বসে আছেন। আমরা আশ্রয়ণ প্রকল্প কেন্দ্র প্রাঙ্গণে আছি। এজন্য আপনাকে কক্সবাজার জেলাবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি কক্সবাজার শহরকে আধুনিক করার জন্য যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেই সিদ্ধান্তের আলোকে আজকে কক্সবাজারের রাস্তায় রাস্তায়, মহল্লায় মহল্লায়, গ্রামে গ্রামে উন্নয়ন। সমস্ত এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে সব জেলায় কি হয়েছে সেটা আমি বলব না। আমার কক্সবাজার পৌর এলাকা হওয়ার কারণে বিত্তবানরা নিজ দায়িত্বে সহযোগিতা করেছেন। আইসোলেশন সেন্টারগুলোতে অনেকে হাইফ্লো নেজাল কেনোলা উপহার দিয়েছেন।
পৌর পিতা বলেন, আমার মা-বাবা ও মৃত স্ত্রীর জন্য আমি একটি নেজাল কেনোলা উপহার দিয়েছি। আমরা অনেক দ‚র এগিয়ে গিয়েছি। বঙ্গবন্ধুর সেই ঝাউবাগান বৃক্ষরোপন শুরু হয়েছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে একটা অনুরোধ করব- প্রশাসনকে আপনি বলে রাখবেন, যে কোন জায়গায় যেন জেলা আওয়ামী লীগকে প্রধান্য দেয়। আপনার সান্বিধ্যে এসে তারা উচ্ছ¡সিত, উজ্জীবিত ও উৎসাহিত হয়। আপনার সম্মানে যারা পাগলের মতো ছুটে যেতে চায়।
মেয়র বলেন- বঙ্গবন্ধু ৭ কোটি মানুষের জন্য ১৪ বছর জেল খেটেছেন। এই মানুষের জন্য আমি এবং আমার পরিবার করোনা আক্রান্ত হয়েছি। আমাকে নিয়ে গেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজে। আমার পুরো পরিবার লকডাউন। জেলা প্রশাসক মহোদয় প্রতিমুহুর্তে খোঁজ নিয়েছেন। এমনকি ঘরে চালডালশুদ্ধ পাঠিয়েছেন। এ জন্য জেলা প্রশাসকের প্রতি আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
আমি অনুরোধ করব, যে কোন অনুষ্ঠানে আমার জেলা আওয়ামী লীগকে প্রধান্য দেওয়ার জন্য। তাদের নিয়েই জেলায় যে কোন আন্দোলন করে থাকি।
আপনি এত সুন্দর, আপনি এত চমৎকার যে বিশ্ববাসী আপনাকে পছন্দ করে। শুধু বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ নয়। বিশ্বের সাতশ কোটি মানুষ আপনাকে পছন্দ করে।
প্রধানমন্ত্রী জবাবে বলেন- ওকে, ওকে। বসেন। নাইস হয়েছে। ঠিক আছে। ধন্যবাদ।
কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান প্রায় সাড়ে ৪ মিনিট বক্তব্য প্রদান করেন।

Comments

comments

Posted ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২০

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com