• শিরোনাম

    ঘুষের কোটি টাকা সহ সার্ভেয়ার আটক নিয়ে র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলন

    জেলা এল,এ অফিসের ভয়ঙ্কর জালিয়াতি ফাঁস

    শহীদুল্লাহ কায়সার | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ২:০১ পূর্বাহ্ণ

    জেলা এল,এ অফিসের ভয়ঙ্কর জালিয়াতি ফাঁস

    জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় দুর্নীতি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ নিজেদের অধিগ্রহণকৃত ভূমি ক্ষতিপূরণ নিতে গিয়ে এই অফিসে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। শুধুমাত্র বিপুল অংকের টাকা দিলেই মিলতো নিস্তার। কার্যালয়টির ভাষায় যা কমিশন। এই কমিশনের ভাগ অফিসটির পিয়ন থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায়ে পর্যন্ত চলে যায়। র‌্যাবের হাতে আটক এল.এ অফিসের সার্ভেয়ার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই তথ্য দিয়েছে।

    টাকা নেয়ার জন্য শহরে একটি অফিসও খুলেছে দুই সার্ভেয়ার ফরিদ এবং ওয়াসিম। শহরের বাহারছড়ায় খোলা সেই অফিসটিকে বাইরে থেকে বাসগৃহ মনে করতেন সবাই। কিন্তু ভেতরেই চলতো টাকার খেলা। এল.এ অফিসের সব ফাইলের কপিও রয়েছে এই অঘোষিত অফিসটিতে। যেখানে বসে আটককৃত ওয়াসিম ও পলাতক ফরিদসহ সার্ভেয়ার সিন্ডিকেটের সদস্যরা সাধারণ মানুষের ফাইল এনে টাকার ভাগ-বাটোয়ারার হিসাব করতেন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি র‌্যাবের অভিযানে এই অফিস থেকেই উদ্ধার করা হয় ৭ বস্তা জমির মূল্যবান কাগজপত্র।

    সবকিছু ঠিকঠাক হলে টাকার নিশ্চয়তার জন্য নেয়া হতো ব্যাংকের চেক। অনেক সময় টাকার অংক বসিয়ে নেয়া হতো ব্যাংক চেক। আবার মামলা একটু জটিল হলে নেয়া হতো ব্ল্যাংক অর্থাৎ শুধু সাক্ষরযুক্ত চেক। ব্র্যাক, সিটি এবং ডাচ-বাংলার মতো তফসিলি ব্যাংকের চেক নেয় তারা। যাতে পরবর্তীকালে তাদের সাথে কেউ প্রতারণা করতে না পারে। র‌্যাব অভিযানে এই ধরনের একাধিক ব্যাংক চেকও উদ্ধার করে। এভাবেই গত এক বছরের অধিক সময় ধরে বিপুল পরিমাণ অর্থের চেক নিয়ে পরে সেই টাকা ছাড়িয়ে নিয়েছে ওয়াসিম-ফরিদ সিন্ডিকেট।

    জানা গেছে, বিপুল পরিমাণ টাকা নিলেও এই সিন্ডিকেটের একার ভোগ করার সুযোগ ছিলো না। পদে পদে বিভিন্ন জনকে ম্যানেজ করতে হয় তাদের। টাকা দিয়েই চলে এই ম্যানেজের কাজ। রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ রয়েছেন এই তালিকায়। ওয়াসিম-ফরিদ সিন্ডিকেটের কাছ থেকে নিয়মিত ভাগের টাকা গ্রহণ করেন তারা।

    পরে সেই টাকার হিসাব লিখে রাখতেন একটি নোটবুকে। উদ্ধারকৃত নোট বুকগুলোতে যার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। যেখানে ওয়াসিম নিজ হাতে লিখেছে গত কয়েকমাসের মধ্যেই সে দুই কোটি টাকার মতো দিয়েছে। ম্যানেজ করার জন্যই দিতে হয়েছে এই টাকা। নোটবুকে এসব ব্যক্তিকে আত্মীয় উল্লেখ করেছেন। যাতে পরবর্তীকালে বিষয়টি কেউ বুঝতে না পারে। যদিও ওয়াসিমের নিজ বাড়ি বরিশাল জেলায়। কক্সবাজার জেলায় ভূমি অধিগ্রহণের তালিকায় থাকা কোন ব্যক্তি তার রক্তের এমনকি পারিবারিক আত্মীয়ও নন।

    এদিকে, সার্ভেয়ার ওয়াসিমকে আটকের সত্যতা গতকাল ২০ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে র‌্যাব-১৫। বেলা ১২ টায় শহরতলীর দক্ষিন মিঠাছড়ি এমিউজমেন্ট পার্ক এলাকায় র‌্যাব-১৫ এর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১৫ এর কমান্ডিং অফিসার উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ সার্ভেয়ার ওয়াসিমের আটক এবং প্রায় ৯৪ লাখ টাকা উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এবং তারাবনিয়ারছড়া এলাকায় দু’টি অভিযান পরিচালনা করেন র‌্যাব-১৫ সদস্যরা।

    অভিযানের শুরুতেই সার্ভেয়ার ফরিদের বাসা তল্লাশি করে বরিশাল মহানগরের নবগ্রাম রোডের, মনসুর কোয়ার্টারের বাসিন্দা ও কক্সবাজার ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার ওয়াসিমকে গ্রেফতার করেন র‌্যাব সদস্যরা। এরপর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ওই বাসা থেকে নগদ ৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। একই বাসায় ফরিদ উদ্দিনের শোয়ার ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় নগদ ৬১ লাখ ২০ হাজার ৫’শ টাকা। পরে সার্ভেয়ার ওয়াসিমের কথার সূত্র ধরে অভিযান পরিচালনা করা হয় শহরের তারাবনিয়ারছড়াস্থ কবরস্থানের রোডে। সেখানে সার্ভেয়ার ফেরদৌস খাঁনের বাসায় অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় নগদ ২৬ লাখ ৮৪ হাজার ৬’শ টাকা।

    সংবাদ সম্মেলনে উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ এই দুর্নীতিতে জড়িত উল্লিখিত ৩ সার্ভেয়ার ছাড়া অন্য কারো নাম প্রকাশে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। অধিকতর তদন্তে আরো অনেক সত্য বেরিয়ে আসবে। এ সময় ২০১৮ সালেও ওয়াসিম টাকা সহ দুদক’র হাতে ঢাকায় আটক হয়েছিলো বলে জানান তিনি।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ