• শিরোনাম

    জাতিসংঘ সংস্থার উদ্যোগে ২ দিনের কর্মশালা

    জেলা প্রশাসক সহ ৪ কর্মকর্তার নামও নেয়া হয়নি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০২ অক্টোবর ২০১৯ | ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

    জেলা প্রশাসক সহ ৪ কর্মকর্তার নামও নেয়া হয়নি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে

    গতকাল মঙ্গলবার কক্সবাজারে শুরু হয়েছে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসকরণ বিষয়ক দু’দিনের এক কর্মশালা। শহরের কলাতলি ওয়েষ্টার্ণ বে হোটেলের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই কর্মশালাটির আয়োজক হচ্ছে আন্তর্জাতিক ৪ টি সংস্থা। এই সংস্থাগুলো যথাক্রমে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), জাতিসংঘ শরনার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) এবং বিশ^ খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউওএফপি)। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজন করা হয় এই কর্মশালা।

    কর্মশালার উদ্ভোধন করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন। তিনি উদ্ভোধনী অনুষ্টানের প্রধান অতিথি ছিলেন। অনুষ্টানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার, অতিরিক্ত শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোঃ শামসুদ্দৌজা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ইকবাল হোসেন। কর্মশালাটি নিয়ে গতকাল রাতে সংস্থাগুলোর পক্ষে একটি যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তি (বাংলা ও ইংরেজিতে) পাঠানো হয়েছে।
    সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রধান অতিথি অর্থাৎ কর্মশালাটির উদ্ভোধক এবং বিশেষ অতিথিদের কোন নাম-নিশানাও উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি উদ্ভোধনী অনুষ্টানের ব্যানারে পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়নি জেলার সর্বোচ্চ পর্যায়ের এসব পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের নামও। কক্সবাজারে পালিয়ে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিয়ে কর্মরত

    এসব আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মূলত কাজ করে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান মতে।
    অথচ এরকম একটি কর্মশালার অনুষ্টানের খবরটিতে সরকারি কর্মকর্তাদের নাম-নিশানা এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এখানে অবস্থান করেন বটে অথচ এখানকার সরকারি কর্মকর্তাদের নামধাম না নেয়ার উদ্দেশ্য কি ? এ রকম বিষয়টিকে সচেতন মহল সরকারি কর্মকর্তাদের সন্মান না জানানোর পর্যায়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উত্থাপন করেছে।
    নিন্মে সংস্থাগুলোর যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি হুবহু ছাপিয়ে দেয়া হল।

    সহযোগী সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর উদ্যোগে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য দ্বিতীয় ধাপে শুরু হলো দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসকরণ বিষয়ক কার্যক্রম। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), জাতিসংঘ শরনার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) এবং বিশ^ খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-এর উদ্যোগে এসব কার্যক্রম শুরু হয়।
    কক্সবাজার বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্যোগ-প্রবণ জেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম, যেখানে সাইক্লোন ও তার পাশাপাশি ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, আকষ্মিক বন্যা এবং ভূমিধ্বসের প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই জেলায় বার বার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রতিবছরই অনেকগুলো গ্রাম, খামার এবং মানুষজনের সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। এই দুর্যোগ মোকাবেলায় স্থানীয় জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একসাথে কাজ করে যাচ্ছে।

    প্রাথমিকভাবে এই কার্যক্রমের আওতায়, প্রথম ধাপে দুর্যোগের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে ২০১৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত উখিয়া ও টেকনাফ অঞ্চলে ৬০ টিরও বেশি সাইক্লোন শেল্টার সংস্কার করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে, সাইক্লোন শেল্টারগুলোকে সংস্কার করেআরও মজবুত করা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, দুর্যোগের প্রস্তুতি এবং সহনশীলতা এবং সামাজিক সংহতিকে আরও বাড়িয়ে তোলা হবে।

    আইওএম-এর বাংলাদেশ মিশনের উপ-প্রধান ম্যানুয়েল পেরেইরা বলেন, “এই অঞ্চলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করার জন্য সরকার, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং অন্যান্য সহযোগী সংস্থার সাথে যৌথভাবে আরও একটি কার্যক্রমে অংশ নিতে পেরে আইওএম অত্যন্ত সন্তুষ্ট।

    তিনি আরও বলেন, “অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তারা যেন দুর্যোগের প্রস্তুতি ও জীবন রক্ষাকারী কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে পারে, তা আইওএম-এর কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো ও প্রয়োজনে বাংলাদেশের জনগণ যেন নিজেই দুর্যোগ মোকাবেলায় এগিয়ে আসতে পারে, সে ব্যাপারে বাংলাদেশের কাছে আমরা দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
    ডব্লিউএফপি কক্সবাজারের ইমার্জেন্সি কো-অর্ডিনেটর পিটার গেস্ট বলেন, “এই সাইক্লোন শেল্টারগুলো সংস্কার করার মাধ্যমে প্রতিবছর দুটি সাইক্লোনের মৌসুমের সময় স্থানীয় জনগণকে সুরক্ষা দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আর কক্সবাজারে এই কার্যক্রম আমাদের দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করার কার্যক্রমেরই একটি অংশ।”

    তিনি আরও বলেন, “এই অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য দুর্যোগের প্রভাব কমানো ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে যেন মানুষ সহজে যেতে পারেÑ তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে জলবায়ূ পরিবর্তনের ফলে সৃষ্টি হওয়া আবহাওয়া বিষয়ক দুর্যোগের পরিমাণ দিন দিন বেড়ে চলেছে। আর এ কারণে, যেকোনো দুর্যোগের সময় দুর্যোগ মোকাবেলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়ানো আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
    এই কার্যক্রমের উদ্বোধনের পরে একটি দুই দিনব্যাপী দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস-বিষয়ক ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়, যার উদ্দেশ্য হলো, দুর্যোগ হ্রাস করার জন্য কাজ করছেÑ এমন স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে একটি যোগসূত্র তৈরি করা।

    কক্সবাজারে ইউএনএইচসিআর-এর হেড অব অপারেশনস্ মারিন ডিন কাজদোমকাজ বলেন, “প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়কালে আমাদের প্রস্তুতি-সংক্রান্ত সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করার জন্য ইউএনএইচসিআর ও তার সহযোগী সংস্থাগুলো নিরন্তরভাবে কাজ করে যাবে।”

    তিনি আরও বলেন, দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও দুর্যোগের প্রভাব কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে শরনার্থীদেরকে মাথায় রেখে এইধরণের সাড়াদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, যার ফলাফল এরইমধ্যে দেখা যাচ্ছেÑ বিগত বছরের তুলনায় এই বছর বর্ষার ফলে মানুষ, আশ্রয়স্থল ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি লক্ষণীয়ভাবে কমে এসেছে। যৌথ প্রকল্পের মাধ্যমে বন্যা, ভূমিধ্বস ও প্রাণহানির ঝুঁকি লক্ষ্যণীয়ভাবে কমিয়ে নিয়ে এলেও, জ্ঞান ও সর্বোত্তম কাজের অভিজ্ঞতা বিনিময়, সমন্বয়ের উন্নয়ন ও সিমিওলেশন এক্সারসাইজের মাধ্যমে আরও অনেককিছু করতে হবে।”
    জাতিসংঘের সংস্থাগুলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ও কক্সবাজার ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটির সাথে নিবিড়ভাবে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে, যেন স্থানীয় জনগণ আরও বেশি দক্ষতার সাথে বার বার ঘটতে থাকা দুর্যোগ মোকাবেলা করতে পারে। ###

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ