শনিবার ১৬ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

* লকডাউনের সুযোগে বিদেশী জাহাজ থেকে নিক্ষেপের সন্দেহ * সাগরের পরিবেশ দূষণেরও শংকা

জোয়ারে সৈকতে ভেসে আসছে বর্জ্য

দেশবিদেশ রিপোর্ট   |   সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০

জোয়ারে সৈকতে ভেসে আসছে বর্জ্য

সাগরের জোয়ারের পানিতে কক্সবাজার সৈকতে ভেসে আসা বর্জ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত দুই দিন ধরে সৈকতে ব্যাপক হারে ভেসে আসছে বর্জ্য। এমন সময়েই উদ্বেগজনক ঘটনাটি ঘটেছে যখন টানা ৬৫ দিনের জন্য বর্তমানে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে। এসব বর্জ্যের সাথে ভেসে আসছে সামুদ্রিক কাছিম, সাপ সহ অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীও। ভেসে আসা বর্জ্যের সাথে সবচেয়ে বেশী রয়েছে মদের খালি বোতল, প্লাষ্টিক সামগ্রী এবং সামুদ্রিক মাছ ধরার জাহাজে ব্যবহারের জাল সহ নানা সামগ্রী।
বর্জ্য নিয়ে সাগরের পরিবেশ দূষণেরও আশংকা দেখা দিয়েছে। ভেসে আসা বর্জ্যের সাথে আসছে সামুদ্রিক কাছিম, সাপ সহ নানা সামুদ্রিক প্রাণীও।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন নিজেও আকস্মিক এরকম একটি ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান-‘ কক্সবাজারের সৈকতে ভেসে আসা বর্জ্যগুলোর কিছু আইটেম আমি ভালভাবে দেখেছি। জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা প্লাষ্টিক সহ আরো অন্যান্য কিছু আইটেম দেখে আমার মনে হয়েছে এসব আমাদের দেশে ব্যবহৃত হয়না এবং এগুলো আমাদের দেশীয় পণ্য-সামগ্রীও নয়।’ তিনি বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কথাও জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক আরো জানান, গত ২০ মে থেকে সাগরে টানা ৬৫ দিনের জন্য মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে। সামুদ্রিক মাছের প্রজনণের এমন মৌসুমে গত কয়েক বছর ধরে সরকারি সিদ্ধান্তে এ সময়ে মাছ ধরা বন্ধ কর্মসুচি চলছে। আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত মাছ ধরা বন্ধ কর্মসুচি অব্যাহত থাকবে। সাগরে এখন কোন মাছধরার জেলে নেই। হাজার হাজার মাছ ধরার নৌকা না থাকায় বিশাল বঙ্গোপসাগরও এক প্রকার শূন্য রয়েছে।

এদিকে সাগরে যেমনি মাছ ধরা বন্ধ তেমনি দেশের স্থলভাগে চলছে করোনালয়ের লকডাউন পরিস্থিতি। এমন সুযোগে কোন বিদেশী জাহাজ থেকে গভীর সাগরে বর্জ্য নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে কিনা কক্সবাজার উপকুলের লোকজন এমনই সন্দেহ করছেন। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের কাছেও এমন সন্দেহের কথা স্থানীয়দের অনেকেই বলেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

কক্সবাজার মাছধরা নৌকা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন গতরাতে এ বিষয়ে জানান, সাগরে এবং স্থলভাগে চলমান লকডাউনের সুযোগে কোন বিদেশী জাহাজ থেকে এসব বর্জ্য নিক্ষেপ করা হয়ে থাকতে পারে। তিনি এরকমও সন্দেহ করছেন যে, চট্টগ্রাম বন্দরে যাতায়াতকারি কোন পণ্যবাহী জাহাজ থেকেও এ জাতীয় বর্জ্য নিক্ষেপ করার ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি জানান, লকডাউন এবং সাগওে মাছ ধরা নিষিদ্ধ হলেও দেশের খুলনা উপকুলের কিছু অসাধু জেলেরা সাগরে মাছ ধরে থাকে। তাদেও কোন নৌকা ডুবে গেছে কিনা সেরকমও হতে পারে।
আকস্মিক জোয়ারের পানিতে সৈকতে ভেসে আসা বর্জ্য নিয়ে সাগর পাড়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষের আশংকা কেমিক্যাল জাতীয় পদার্থ রয়েছে বর্জ্যরে সাথে। তাই যদি না হয় তাহলে কাছিম ও সামুদ্রিক সাপের মত প্রাণী কিছুতেই ভেসে আসত না। আবুল কালাম (৫০) নামের কক্সবাজারের হিমছড়ির একজন স্থানীয় বাসিন্দা তার পুরো পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সকাল থেকে হিমছড়ি সৈকতে ভেসে আসা বর্জ্যরে নানা পণ্য সংগ্রহ করছিলেন।

আবুল কালাম জানান, মাছ ধরার জাল নিয়ে নানা রকমের বর্জ্য সামগ্রী বেঁধে সাগরে নিক্ষেপ করা হয়েছে। তিনি প্রথমে মনে করেছিলেন, সাগরে বৈরি আবহাওয়ার কারনে হয়তোবা কোন মাছ ধরার নৌকা ডুবি হয়েছে-এসব সেই নৌকারই হতে পারে। কিন্ত পরে তিনি জানতে পারেন বর্তমানে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে। তিনি কিছু প্লাষ্টিক সামগ্রী দেখে জানান, এসব বিদেশী জাহাজে ব্যবহার করা হয়।

একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তা ইকতিয়ার উদ্দিন বায়েজীদ জানান, তিনি হিমছড়ি, কলাতলী থেকে কক্সবাজার শহর সংলগ্ন সেকতের কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত ভেসে আসা বর্জ্য প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সাগরে এমন সময়ে ¯œান করাও মোটেই নিরাপদ হবে না। সাগর পাড়ের বাহারছড়া এলাকার যুবক রাশেদুল আলম রিপন বলেন, শনিবার রাত থেকেই স্থানীয় লোকজন সৈকতে ভেসে আসা বর্জ্য লক্ষ্য করছেন। সেই সাথে সামুদ্রিক প্রাণী ভেসে আসার বিষয়টিও বেশ উদ্বেগের। শনিবার রাতে স্থানীয় যুবকরা বেশ কয়েকটি ভেসে আসা আধা মরা কাছিম সাগওে আবার ভাসিয়ে দিয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ইমরান জাহিদ খানের নেতৃত্বে গতকাল রবিবার সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির কর্মীরা প্রায় ২৫ টি জীবিত সামুদ্রিক কাছিম সৈকত থেকে উদ্ধার করে এগুলো পূণরায় গভীর সাগরে ছেড়ে দিয়েছে। সেই সাথে মৃত ৫ টি কাছিমও উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সাথে সামুদ্রিক বড় আকারে বেশ কিছু মৃত এবং জীবিত সাপও উদ্ধোর করা হয়েছে। সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির কর্মী মাহবুব আলম জানান,তারা গতকাল দিন ব্যাপি বর্জ্য সরানোর কাজ করছেন। স্থানীয় ভাঙ্গারীরাও বর্জ্য কুঁড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

Comments

comments

Posted ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com