শুক্রবার ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

আজ বিশ^ শরনার্থী দিবস

ঝুলে আছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

শফিক আজাদ, উখিয়া   |   বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯

ঝুলে আছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ব শরণার্থী দিবস। বিশ্ব জুড়ে যখন বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, সাথে সাথে বাড়ছে শরণার্থীর সংখ্যাও। দিবসটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্ববহ। কারণ বাংলাদেশে বর্তমানে অবস্থান করছে ১১ লাখের বেশি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশেল পক্ষ থেকে জোর দাবী জানানো হলেও বিভিন্ন কারনে অকারনে মিয়ানমার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করছেনা। যার ফলে দীর্ঘ সময় ঝুলে আছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন। এদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছে স্থানীয় জনসাধারণ।
১৯৭৮ সালে প্রথম বাংলাদেশে মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশ করলেও, পরে কুটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে তারা নিজ দেশে ফেরত যান। এর পরে ১৯৯১ এর পর থেকে বড় আকারে তিন দফায় মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। গত বছরের আগষ্টের পরে খুবই স্বল্প সময়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে সাড়ে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থী। এই দফায় রোহিঙ্গা শরণার্থীর ঢলকে ইউএনএইচসিআর গত এক দশকের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থীদের ঢল হিসেবে চিহিৃত করেছে।
বিশ^ শরনার্থী দিবস সম্পর্কে মিয়ানমারের নাগরিকদের কোন প্রকার ধারণা নেই। কারণ এদের বিশের ভাগ অংশ নিরক্ষর। কুতুপালং রেজিষ্ট্রার্ড ক্যাম্পে অবস্থানকারী ১৯৯১ সালে মিয়ানমারের মংডু থেকে পালিয়ে আসা জাফর আলম (৫০)জানান, মংডু থাকাকালে তিনি চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। অল্প শিক্ষিত এ রোহিঙ্গা নেতা কুতুপালংয়ে আশ্রয় নিয়ে অনুমোদিত ফার্মেসিতে ছোটখাটো চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। মিয়ানমারের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রোহিঙ্গা নেতা জাফর আলমের সঙ্গে সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ হয়। তিনি জানান, মিয়ানমার সামরিক জান্তা রোহিঙ্গাদের কোনোদিন মেনে নেবে না। রোহিঙ্গাদের পক্ষে যারা কথা বলছেন তাদেরও বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘গত ২০১৮ সালের ২১ মার্চ মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট টিন চ’র পদত্যাগ, একইদিনে সংসদের স্পিকার উ উইন মিন্তের স্বেচ্ছায় পদত্যাগের কারণ রোহিঙ্গা ইস্যু।’
রোহিঙ্গা নেতা ডা. ফয়সাল আনোয়ার (৪৯) একজন চিকিৎসক। তিনিও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ের পক্ষে সামান্যতম কথা বলার লোক রয়েছেন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসিতে (এনএলডি)। এই দলটির কিছু নেতা আছেন তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে সোচ্চার। সংসদে এনএলডির কর্তৃত্ব থাকলেও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গিয়ে তারা কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারছেন না। যারা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে মুখ খুলছেন তাদের পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। এ নিয়ে মিয়ানমারের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থির হয়ে উঠেছে। যে কোনো সময়ে সেখানে আরও বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এ মুহূর্তে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রায় অনিশ্চিত বললে চলে।
কুতুপালংয়ের বনভূমিতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নেতা রশিদ আহমদ (৫৫) জানান, রোহিঙ্গারা যেসব গ্রামে বসবাস করত, সে গ্রামগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন স্থান থেকে রাখাইনদের নিয়ে এসে পুনর্বাসন করা হয়েছে। তাই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার সরকার ফিরিয়ে নেবে এ কথা বিশ্বাস করা যায় না। মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও রাখাইন উগ্রবাদীরা যে হিংসাত্মক আচরণ করছে তা বিশ্বের কোনো দেশে নেই। যে কারণে তাদের বাপ-দাদার ভিটেমাটি ফেলে এখানে চলে আসতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে যারা কথা বলছেন, মিয়ানমার সেনারা তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে দেশ ত্যাগে বাধ্য করছে। তাই প্রত্যাবাসন সম্পর্কে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আজ বৃস্পতিবার শরনার্থী দিবস ঠিক আছে। তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হওয়া রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি আমাদের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ায় আশ্রিত রোহিঙ্গারা বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। আর অবাধে বিচরণের সুযোগ পাওয়া রোহিঙ্গারা প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন স্থানে পাড়ি জমাচ্ছে।
জানতে চাইলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘মিয়ানমার প্রথমে বলেছিল, শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে। কিন্তু ওই শূন্যরেখায় অস্থির পরিবেশ সৃষ্টি করে পরিস্থিতি বিমূখ করে রেখেছে মিয়ানমার। মিয়ানমারের সার্বিক পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে বিশ্ববাসীকে এগিয়ে আসা ছাড়া আর কোনো পথ নেই। অন্যথায় প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ার পাশাপাশি এ অঞ্চলের পরিস্থিতি খারাপের দিকে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Comments

comments

Posted ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com