রবিবার ৫ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

* ইয়াবা কারবারিদের সালাম দিবেন না * ইয়াবা কারবারিদের মনোনয়ন দিবেন না

টেকনাফের ‘ইয়াবা বাড়ী’ রিকুইজিশন করা হবে

দেশবিদেশ রিপোর্ট   |   বুধবার, ২৭ জুন ২০১৮

টেকনাফের ‘ইয়াবা বাড়ী’ রিকুইজিশন করা হবে

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের ‘ইয়াবা বাড়ীগুলো’ রিকুইজিশন করা হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক। সীমান্তের ইয়াবা কারবারিদের অবৈধ আয়ের টাকায় নির্মিত এসব বাড়ীর তালিকা করার কাজ শুরু হয়েছে। সীমান্তে নির্মিত কমপক্ষে দুই শতাধিক ইয়াবা বাড়ী গত মাসের মাদক নির্মুল অভিযান শুরুর পর থেকে একদম খালি রয়েছে। মাদক বিরোধী অভিযানের পর আত্মগোপনে রয়েছেন টেকনাফের চিহ্নিত ইয়াবা কারবারিরা। ইয়াবার টাকায় তৈরি তাদের বিলাস বহুল ওইসব প্রাসাদের তালিকা করার কাজ চলছে। মাদক বিরোধী অভিযানের পর থেকেই এসব ইয়াবা বাড়ীর মালিকগন পলাতক রয়েছেন। এসব বাড়ী রিকুইজিশন করে রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত সরকারি চাকুরিজীবীদের বসবাসের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবসে কক্সবাজারে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি জানান, ইয়াবা কারবারিদের অবৈধ আয়ে গড়া সহায় সম্পদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক বলেন, মাদক বিরোধী কর্মকান্ডের জন্য জেলা প্রশাসনের তরফে বিশিষ্ট নাগরিকদের সন্মাননা জানানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন- কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী হয়েও তিনি কোন ইয়াবা কারবারির জামিনের প্রার্থনা করেন না বা তাদের পক্ষে আইনী লড়াইয়ে যান না বলে তিনি জানতে পেরেছেন। অথচ একজন ইয়াবা কারবারির পক্ষে লড়রে অনেক টাকা পাওয়া সহজ। একজন আইনজীবী হয়েও তিনি টাকা রোজগারের লোভ সামলাতে পেরেছেন। এজন্যই এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফার মত পেশাজীবীকে সন্মাননা জানানো হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন বলেন, নাফ নদীর ওপারে যে সব ইয়াবা কারখানা রয়েছে সেইসব কারখানা থেকেই ইয়াবা পাচার হয়ে আসে। পুলিশ সহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারি সংস্থার সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় জোর তৎপরতা চালাচ্ছে যাতে ইয়াবার চালান পাচার প্রতিরোধ করা যায়।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট (এডিএম) আশরাফুল আফসার। বিয়াম ফাউন্ডেশন সম্মেলন কক্ষের সভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেন- ‘ইয়াবা কারবারিদের সামাজিকভাবে বয়কট করা প্রয়োজন। রাস্তায় তারা হাটলে যেন কেউ সালাম না দেয়। যে কোন অফিস-আদালতে বসতে চাইলে চেয়ারও তাদের দেয়া যাবে না। ইয়াবা কারবারিরা জনপ্রতিনিধি হতে চাইলে তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে দমন করতে হবে।’ সভায় আলোচনায় অংশ নিয়ে কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক তোফায়েল আহমদ নিজেকে উখিয়া-টেকনাফ সংসদীয় আসনের বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সরকারি দলের ভাবমুর্তি অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে কোন ইয়াবা কারবারিকে মনোনয়ন না দিতে দলীয় নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে কক্সবাজারের বিজিবি-৩৪ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মনুজুরুল হাসান খান, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাঃ মহিউদ্দিন আলমগীর, ট্যুরিস্ট পুলিশের এএসপি ফজলে রাব্বি ও কক্সবাজার মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক সোমেন মন্ডল বক্তৃতা করেন। সভায় মাদকের করাল গ্রাস থেকে ফিরে আসা ১০ জন যুবককে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন অতিথিরা। তারা নোঙ্গর নামের মাদক নিরাময় কেন্দ্রের চিকিৎসায় সুস্থতা ফিরে পেয়েছেন। পরে অতিথিরা রচনা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। এরপর বের করা হয় বর্ণাঢ্য র‌্যালী।

Comments

comments

Posted ৩:০১ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৭ জুন ২০১৮

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com