• শিরোনাম

    টেকনাফের এখনো হাজার হাজার টন অবিক্রিত লবণ

    জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ | ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ

    টেকনাফের এখনো হাজার হাজার টন অবিক্রিত লবণ

    টেকনাফসহ পুরো জেলায় হাজার হাজার মেট্টিক টন লবণ এখনো অবিক্রীত পড়ে আছে। মালিকরা এসব লবণ মাঠের আশে পাশে মজুদ করে রেখেছেন। উৎপাদন খরচের বিপরীতে লবণের মূল্য অনেক কম হওয়ায় বিক্রি না করেই তারা ওই লবণ রেখে দিয়েছেন। গত ২ মৌমুসের লবণ পর্যন্ত অবিক্রিত আছে বলে লবণ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছন। ব্যবসায়ীরা টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের দু,পাশে অবিক্রিত লবণ মওজুদ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে মজুদ রাখা লবণ লোকসানের কারণেই রেখে দিয়েছেন। গত দুই মৌসুমের অবিক্রিত লবণ পর্যন্ত এখনো পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখেছেন।

    বিসিক সুত্র জানায়,গত মৌসুমে কক্সবাজারে ১৮লক্ষ ২৪হাজার মেট্টিক টন লবণ উৎপাদন হয়েছে। বিক্রির পর বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে সাড়ে ৪লাখ মেট্টিক টন লবণ অবিক্রিত আছে। লবণ নিয়ে পরিস্থিতি এমন অবস্থায় গিয়ে দাড়িঁয়েছে খোদ কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা পর্যন্ত চাষে আগ্রহ হারাতে বসেছেন। কমমূল্যের কারণে হাজার হাজার মেট্টিক টন লবণ যেখানে অবিক্রিত মাঠে পড়ে আছে। সেখানে কিছু ষড়যন্ত্রকারী চক্র লবণকে পিয়াজেঁর মত কাহিনী বানানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। আসলে লবণ দাম একেবারেই কম।

    খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বর্তমানে প্রতিমণ লবণের মূল্য ১শ ৯০টাকা। তার মানে প্রতি কেজি ৫ টাকারো কম। প্রতিমণ লবণ উৎপাদনে কৃষকের খরচ পড়েছে ২শ টাকা। লবণ ব্যবসায়ী আব্দুল গাফফার ও আব্দুস ছালাম কালু জানান,উৎপাদনের চেয়ে মূল্য কম হওয়ায় বিগত মৌসুমের ১৫টন লবণ অবিক্রীত পড়ে আছে। খরচ না পোষালে কিভাবে লবণ ব্যবস্যা করব? প্রতি বছর লোকসান দিয়ে এভাবে ব্যবসা করা যায়না।

    হ্নীলা লবণ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হোছাইন মুহাম্মদ আনিম জানান,ন্যায্য মূল্য পাওয়ার আশায় গত মৌসুমে লবণ জমিয়ে বড় ধরণের ভূল করেছি। লবণ চাষ করে বর্তমানে লক্ষ লক্ষ টাকার ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েছি।
    হ্নীলা লবণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ছাবের খাঁন জানান,শুধু হ্নীলাতেই ১৫হাজার মেট্টিক টন লবণ অবিক্রিত পড়ে আছে। উৎপাদন খরচের চেয়ে মূল্য কম হওয়ায় লোকসান হচ্ছে বিধায় ওই লবণ এখনো জমা রেখেছেন। পরবর্তী মৌসুম চলে আসার সময় হলেও ব্যবসায়ীরা লবণ বিক্রি করতে পারছেন না। তিনি লবণের ন্যায্য মূল্য বৃদ্ধির জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বিসিক টেকনাফের ইনচার্জ মো: মিজানুর রহমান জানান,লবণ নিয়ে গুজব ছড়িয়ে লাভ নেই। মূল্য কম হওয়ায় টেকনাফেও ১৫হাজার মেঃ টন লবণ অবিক্রিত আছে। বিসিক কক্সবাজারের উপ মহাব্যবস্থাপক ছৈয়দ আহমদ জানান,বিশেষ একটি শ্রেণী ফায়দা লুটিয়ে সকারেক বিভ্রান্ত করার জন্য অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি আরো জানান,মূল্য না থাকায় শুধু কক্সবাজারসহ পুরো দেশে সাড়ে ৬ লাখ মেঃ টন লবণ অবিক্রিত আছে।
    দেশবিদেশ/নেছার

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ