• শিরোনাম

    আজ আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস :* সহজলভ্যতার কারনে কমছে না মাদকসেবীর সংখ্যায় আবার চাহিদা থাকায় সীমান্তে * পাচার অব্যাহত য় হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা, মদ-গাঁজা, ফেন্সিডিল

    টেকনাফে অর্ধশতাধিক মাদক আখড়া

    নুরুল করিম রাসেল, টেকনাফ | ২৬ জুন ২০১৯ | ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ

    টেকনাফে অর্ধশতাধিক মাদক আখড়া

    টেকনাফে অর্ধশতাধিক মাদকের আখড়ায় হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে ইয়াবা, ফেন্সিডিল, মদ-গাঁজা, বিয়ার সহ নানা মাদকদ্রব্য। এসব মাদক আখড়ায় কখনো প্রকাশ্যে কখনো গোপনে পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল অবলম্বন করে মাদক বিকিকিনি অব্যাহত রেখেছে পাইকারী-খুচরা মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা। গত এক বছর যাবত সীমান্ত এলাকা টেকনাফসহ দেশব্যাপী মাদক বিরোধী সাঁড়াশী অভিযান অব্যাহত থাকলেও খুচরা মাদক বিক্রি ও সেবনকারীদের দৌরাত্ম থেমে নেই। টেকনাফসহ সাড়া দেশে অভিযানের পূর্বে যে দামে মাদক বিক্রি হতো এসব মাদকের মধ্যে বিশেষ করে ইয়াবার সহজলভ্যতার ফলেও চাহিদাও কমছে না, আবার চাহিদা না কমার ফলে সীমান্ত দিয়ে সরবরাহও একি আছে। তবে মাঝেমধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, র‌্যাব-পুলিশ-বিজিবিসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর অভিযানে শৃংখলা বাহিনীর অভিযানে মাদকসহ বিক্রেতা আটক হলেও পুনরায় সেসব স্থানে মাদক বিক্রি শুরু হয়। এভাবে টেকনাফে অর্ধশতাধিক মাদক আখড়ায় মাদক বিক্রি অব্যাহত রয়েছে।
    পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত এক বছরে দেশে মাদক পাচার আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। মাদকের চাহিদা না কমার কারনে পাচার অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশে মাদকসেবী ও খুচরা মাদকস্পট গুলোতে তেমন জোড়ালো কোন অভিযান না থাকায় মাদকসেবীরা নির্বিঘেœ মাদক সেবন করে যাচ্ছে।
    কক্সবাজারের মাদক নিরাময় কেন্দ্র ফিউচার লাইফ এর পরিচালক জসিম উদ্দিন কাজল জানান, মাদকের সহজলভ্যতার কারণে মাদকসেবীর হার আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
    বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও শিশু মাদকসেবীদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান তিনি। এই শিশু ও নারীদের শতভাগ ইয়াবা সেবী। আর চাহিদার কারনে মাদকের পাচার অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
    টেকনাফ মাদকদ্র্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আব্দুস সালাম জানান, মাদক নিমুলে আমরা আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মাদকের আখড়া গুলোতে আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে থাকি। অভিযানে মাদকবিক্রেতা ও সেবনকারী আটকের পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করে থাকি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর টেকনাফ সার্কেল অফিসের সদস্যরা গত ৬ মাসে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮৫ হাজার ২শ ৯৭ পিচ ইয়াবা, ৪৩১ লিটার চোলাই মদ, ১৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে। এসব অভিযানে ৮৮ জনকে গ্রেফতার করে ৬৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
    টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাস এর কাছে মাদক আখড়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, পাইকারী-খুচরা, বড় ইয়াবা ব্যবসায়ী, গডফাদার সবাইকে আইনের আওতায় আনতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। প্রসঙ্গত মাদক বিরোধী অভিযানে টেকনাফে প্রায় ৮০ জনের মতো মাদক ব্যবসায়ী আইন শৃংখলা বাহিনী ও নিজেদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।
    টেকনাফস্থ ২ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে.কর্ণেল ফয়সাল হাসান খান জানান, সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার কমেছে বলে মনে হচ্ছে না। গেল মাসে বিজিবি ২০ লাখের মতো ইয়াবা উদ্ধার করেছে বলে তিনি জানান।
    অনুসন্ধান চালিয়ে টেকনাফে যেসব মাদকস্পটের সন্ধান পাওয়া গেছে সেগুলি হচ্ছে :
    পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড নাইট্যংপাড়ার শিয়াইল্যাঘোনা এলাকায় হামিদ হোসেনের ছেলে মো. হোছন, উত্তর নাইট্যংপাড়ার মো. করিমের স্ত্রী নুর বেগম, মৃত শহর মুল্লুকের ছেলে ইমাম হোসন, বরফ কলের পাশে ফারুকের মেয়ে রুজিনা, মধুমিতা সংলগ্ন আনোয়ারের মেয়ে কালুনী, বাস টার্মিনাল এলাকায় ছিদ্দিক আহমদের ছেলে লিয়াকত আলি (ইয়াবা), পিতা আব্দু করিমের ছেলে রশিদ উল্লাহ (ইয়াবা), হারুন, কাউন্সিলর শাহ আলমের বাড়ির পাশে আহমদ হোসেনের ছেলে ভুলু প্রকাশ ভুইল্যার বিরুদ্ধে খুচরা ইয়াবা, বিদেশী ও চোলাই মদ, বিয়ার, গাঁজা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
    ২ নং ওয়ার্ড পুরাতন পল্লান পাড়ার হালিমানি, অলি, গফফার ড্রাইভারের মেয়ে, জহির ড্রাইভারের বিরুদ্ধে খুচরা ইয়াবা ও (কিছুদিন আগে গ্রেফতার হয়েছে) বিদেশী ও চোলাই মদ, বিয়ার, গাঁজা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া উপজেলা সংলগ্ন ফকিরা মুড়া, বৈদ্য ঘোনা, চাইল্যাতলী, গুলি খাইয়া পাহাড়ে, নুর আহমদের ঘোনা, ডাকাত আমির আহমদ ঘোনা, আনু ফকির ঘোনা প্রভৃতি পাহাড়ী এলাকায় এলাকায় অসংখ্য মাদক আস্তানা গড়ে উঠেছে যেখানে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়রা ঝুপড়ি ঘর তৈরী করে খুচড়া ইয়াবা বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। এদের মধ্যে মোহছেনা ও তার মেয়েরা উল্লেখযোগ্য।
    পুরান পল্লান পাড়া কাস্টমস অফিস গলির আনারকলি, মছন, আবুল, রবি আলম, নুর হাসন, আব্দুর রহমান, আতুড়ি, রফিকা মাদক বিক্রি করে যাচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
    কাইয়ুকখালী পাড়ার খুচরা ও পাইকারী ইয়াবা বিক্রেতারা হচ্ছে আবুল নসর ড্রাইভারের স্ত্রী ফাতেমা বেগম, মো. রফিকের স্ত্রী নুর জাহান, জমিদার আলমের স্ত্রী রেজিয়া উরফে রাজুনি, কামাল হোসেনের স্ত্রী রোকেয়া বেগম, জামাল হোসেনের স্ত্রী জাহেদা বেগম, দিলদার আলমের স্ত্রী হাসিনা বেগম বিক্রেতারা হচ্ছে হাসু মিয়ার স্ত্রী রাইজাম বিবি উরফে রাজুনি, আফজালের ছেলে নুর বশর, জাফর আলমের স্ত্রী ফাতেমা বেগম, দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী আলমাস খাতুন, মৃত মোহাম্মদের স্ত্রী সবুরা। এছাড়া শামসুল আলম ওরফে পুতিয়া (সম্প্রতি বিজিবির হাতে ফেন্সিডিল সহ আটক) ও তার স্ত্রী পুতুবানু ফেন্সিডিল বিক্রি করে আসছে। শফিউল্লার ছেলে রফিক উরফে ডিমা রফিক, রোহিঙ্গা কানফুইজ্যার ছেলে আনোয়ার, মৃত ফকির আহম্মদের কন্যা খুরশিদা, মৃত লাল মোহাম্মদের স্ত্রী কুলাল পাড়ার নূরুনী গাঁজা করে আসছে।
    তাছাড়া কায়ুকখালী পাড়ার রাখাইন মদ বিক্রেতা লামেছি, লাছু, ভুলুসীর চোলাই মদ এলাকার পরিবেশ মাতাল করে তোলে। পুরান পল্লান পাড়া বাগান, ইসলামাবাদ এলাকায় ইয়াবা, মদ-গাঁজার আখড়া রয়েছে। পশ্চিম অলিয়াবাদ সাইট্যাংখিল এলাকায় মনিরের (নুরু বস্তির ছেলে) স্ত্রী হোসনে আরা পুতুনি, মৃত হোছন আহমদের স্ত্রী শাহীনা বেগম ও মৃত গোরা মিয়ার স্ত্রী আমিনা খাতুনের বিরুদ্ধে খুচরা ইয়াবা বিক্রি ও বাড়িতে আড্ডা বসিয়ে সেবনের অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
    কলেজ পাড়ার আবসার (গোঠা পরিবার জড়িত) মুদি দোকানের আড়ালে বিক্রি করছে খুচরা ইয়াবা ও বিদেশী মদ-বিয়ার, হারুন প্রকাশ বন্ধু হারুন পাইলট হাই স্কুলের সামনে সম্প্রতি বন্দুকযুদ্ধে নিহত দেশের শীর্ষ ইয়াবা ডন সাইফুল করিমের মার্কেট ও ভাড়া বাসায় অবস্থান করে বেকারীর আড়ালে পাইকারী ও খুচরা ইয়াবা, ফেন্সিডিল সহ মাদক বিক্রি করে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দোকানের পেছনে ভাড়া বাসায় মাদকের চালান রেখে বিভিন্ন পার্টির কাছে হাত বদল করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দিচ্ছে মাদকের চালান। তার তিন ভাই মাদক ব্যবসায় জড়িত। কয়েকদিন আগে এক ভাইকে টেকনাফ পুলিশ মাদক মামলায় আটক করে কারাগারে প্রেরন করেছে। ইতিপূর্বে সাইফুল করিমের ছত্রছায়ায় থেকে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতো। তাকে গ্রেফতার করা হলে মাদক সা¤্রাজ্যের অনেক রথি মহারথির নাম বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন নির্ভরযোগ্য সূত্র। সাইফুল করিমের অর্থায়নে সিলভার কাপ নামে টুর্নামেন্টের আড়ালে খেলাধুলাকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন নিরাপদে ব্যবসা চালিয়েছে। এছাড়া কলেজ পাড়ার নাসির ইয়াবা ও মদ-জুয়ার আড্ডা বসিয়ে যাচ্ছে বলে সূত্রে জানা গেছে। একই এলাকায় আজিজুর রহমান বিক্রি করছে চোলাই মদ।
    উত্তর জালিয়াপাড়া ও চৌধুরী পাড়া এলাকায় খুচরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে মৌলভী ছিদ্দিকের স্ত্রী উনসি, করিমের স্ত্রী সেহেনা (মদ ও ইয়াবা), মৃত কালুর ছেলে মো. আলী, মৃত মো. আলমের স্ত্রী খালেদা, মো. মৃত ফজল আহমদের ছেলে আলম, মৃত মো. আলমের ছেলে দেলোয়ার, মো. হারুনের ছেলে রশিদ, মৃত বাদশার স্ত্রী আয়েশা (মদ), মৃত কালুর স্ত্রী ছে (মদ), আবুল কালামের মেয়ে রবুয়া, নজির প্রকাশ নইজ্যার ছেলে আবুল কালাম প্রকাশ লেড়–, মাইন্যা (ফেন্সিডেল), শামসু প্রকাশ বার্মাইয়া শমসু, বার্মাইয়া বশর, বদি আলম, জালালের ছেলে সেলিম (খুচরা ও পাইকারী ইয়াবা), সৈয়দ হোসেনের ছেলে নুর মোহাম্মদ, কালা মিয়ার ছেলে মো. হাসান (খুচরা ও পাইকারী ইয়াবা), আবু তৈয়ুবের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (পুকুর পাড়) ও বাদশাহ পানের দোকানের আড়ালে খুচরা ও পাইকারী ইয়াবা বিক্রি করে আসছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।
    কুলাল পাড়ার মরিচ্যানি, কালাবুড়ি, ভেক্ষুর বাড়ির সামনে মুকুলি ইয়াবা, বিয়ার-মদ, খাংকার পাড়ার বুলবুলি, (বুজুরুজ এর বাড়ির পাশে) আড্ডা সহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি করে আসছে।
    এছাড়া পৌর এলাকার বাহিরে হোয়াইক্যং. হ্নীলা, সদর, বাহারছড়া, সাবরাং ও সেন্টমার্টিন দ্বীপ ইউনিয়নে অসংখ্য মাদকের আখড়া রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
    এদের মধ্যে সাবরাং পেন্ডল পাড়া নজির, দক্ষিণ কচুবনিয়ার ফারুক, পুরান পাড়ার শামসু, আমির হোসেন, নয়াপাড়া হামিদ, ডেইলপাড়ার বেলাল, গুচ্ছগ্রামের সোনাইয়ার বাড়িতে ইয়াবা, মদ-বিয়ার, গাঁজা বিক্রি হয়ে আসছে। হ্নীলা ইউনিয়নের রাখাইন গ্রাম চৌধুরী পাড়ার ডজনের বেশী বাড়িতে মদ উৎপাদন ও বিক্রি হয়ে থাকে। এছাড়া দরগাহ ও গুচ্ছগ্রামে খুচরা ইয়াবা বিক্রির আখড়া রয়েছে। হোয়াইকং ইউনিয়নের খারাইংগা ঘোনা, নয়াবাজার, মহেষখালীয়া পাড়া, খারাংখালী ও নয়াপাড়া এলাকায় খুচড়া মাদক বিক্রির আখড়া রয়েছে আবার হিন্দু পাড়ায় গাঁজা ও হরিখোলা চাকমা পল্লীতে চোলাই মদ বেচাবিক্রি হয়ে থাকে।
    শাহপরীরদ্বীপে বাজার পাড়া জাফর প্রকাশ গাঁজা জাফরের বাড়িতে ইয়াবা-গাঁজা-মদ, ডাঙ্গরপাড়ার ছমুদা ও মিস্ত্রি পাড়ার হামিদের মেয়ে ছবুরার বাড়িতে ইয়াবা বিক্রি হয়ে থাকে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ