• শিরোনাম

    টেকনাফে করোনা আতঙ্কেও থেমে নেই ইয়াবা পাচার, বন্দুকযুদ্ধে চার কারবারি নিহত

    জাকারিয়া আলফাজ, টেকনাফ : | ২৮ মার্চ ২০২০ | ৭:০০ অপরাহ্ণ

    টেকনাফে করোনা আতঙ্কেও থেমে নেই ইয়াবা পাচার, বন্দুকযুদ্ধে চার কারবারি নিহত

    বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে পুরো দেশ এখন থমথমে, সীমান্ত এলাকা ও সড়কের তল্লাশি চৌকি গুলোতে দায়িত্বপালনরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা করোনা সতর্কতা মেনে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করছেন। করোনা ব্যস্থতার কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আগের মতো সবদিকে তীক্ষè নজর রাখা সম্ভব হচ্ছেনা বা সম্ভব হলেও এ মুহুর্তে করোনারভাইরাসের মতো বৈশি^ক দূর্যোগ মোকাবেলায় বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সব বাহিনীর সদস্যরা। তবে সেটিকে কাজে লাগিয়ে সুযোগ নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের ইয়াবা কারবারিরা। তারা করোনাভাইরাসের কারণে প্রশাসনের ব্যস্ততা ও সাধারণ মানুষের ঘরমুখো অবস্থাকে ইয়াবা পাচারের বড় সুযোগ হিসেবে বেছে নিচ্ছে।
    টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবা পাচারের গোপন সংবাদে ইয়াবা উদ্ধার করতে গিয়ে বিজিবি ও পুলিশের সঙ্গে পৃথক বন্দুকযুদ্ধে চার ইয়াবা কারবারি নিহত হয়েছে। এসময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।

    বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোররাতে হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা নাফনদের ছুরিখাল সংলগ্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান আসার খবর পেয়ে বিজিবির একটি টহল দল সেখানে অবস্থান করেন। এসময় ৪-৫ জন লোক একটি কাঠের নৌকা নিয়ে খালে প্রবেশের সময় বিজিবি সদস্যরা নৌকাটিকে থামার সংকেত দেয়। নৌকায় থাকা লোকজন বিজিবির উপস্থিতি লক্ষ্য করে নৌকা থেকে ঝাঁপ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা তাদের ধাওয়া করলে তারা বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে বিজিবিও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। উভয়পক্ষের গোলাগুলি শেষে বিজিবি ঘটনাস্থল তল্লাশি করে এক লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা, দুইটি বন্দুক, তিন রাউন্ড গুলিসহ তিনজন ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
    এব্যাপারে টেকনাফ ২ বিজিবি অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মো. ফয়সাল হাসান খাঁন জানান, সীমান্তে ইয়াবা ট্যাবলেটের একটি বড় চালান উদ্ধারের ঘটনায় বিজিবি ও পাচারকারীদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন ইয়াবা পাচারকারী নিহত হয়েছেন। তাদের পরিচয় সনাক্ত করা যায়নি। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে উর্ধ্বতন নির্দেশনা মেনে সীমান্ত প্রহরায় বিজিবির সতর্ক নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

    এদিকে একই দিন পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় মুসা আকবর (৩৬) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তুলাতুলি এলাকার আবুল বশরের ছেলে। পুলিশের দাবি নিহত ব্যক্তি একজন চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি।

    টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, হোয়াইক্যং তুলাতুলি এলাকায় মাদক পাচারের গোপন সংবাদ পেয়ে পুলিশের একটি টীম সেখানে অভিযান চালায়। এসময় মাদক কারবারিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলি চালালে পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। কিছুক্ষণ পর গোলাগুলি শেষে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ওসি প্রদীপ আরো জানান, ঘটনাস্থল তল্লাশি করে ৬ হাজার পিস ইয়াবা, একটি দেশে তৈরী অস্ত্র, তিন রাউন্ড কার্তুজ, ছয় রাউন্ড কার্তুজের খালি খোসা উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

    এছাড়া নিহত মাদক কারবারির মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ