• শিরোনাম

    টেকনাফে পানি বন্দি শত শত পরিবার

    নুরুল করিম রাসেল, টেকনাফ | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১:০৬ পূর্বাহ্ণ

    টেকনাফে পানি বন্দি শত শত পরিবার

    টেকনাফে অতিবৃষ্টিতে পাহাড় ধসে ও পানিতে ডুবে ৩ শিশুর মৃত্যু ও ১০ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোরে টেকনাফ পৌরসভার পুরাতন পল্লান পাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে রবিউল আলমের ছেলে মেহেদি হাসান (১০) ও মো. আলমের মেয়ে আলিফা আলম (৫) এর মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে বেলা ১১টার দিকে সদর ইউনিয়নের নতুন পল্লান পাড়া এলাকায় পানিতে ডুবে মোহাম্মদ হারিছ (১০) নামে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের পল্লান পাড়া এলাকার আবদুল গফুরের ছেলে । সে স্থানীয় মাদ্রাসায় হেফজ বিভাগের ৩য় শ্রেনীর ছাত্র ছিল।\

    মঙ্গলবার ভোরে অতিবৃষ্টির ফলে পৌরসভার কুয়েত মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এসময় রবিউল আলম ও মো. আলমের বাড়ির উপর পাহাড় ধসে পড়লে ঘুমন্ত অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে উপজেলা সিপিপি (ঘুর্নিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী) স্বেচ্ছাসেবক ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষনা করেন ও আহতদের চিকিৎসা দেন।
    খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

    তিনি জানান, অতিবৃষ্টির ফলে পাহাড় ধসে হতাহতের এ ঘটনা ঘটেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার ঘোষনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানি বন্দি ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলোতে তাৎক্ষনিক শুকনা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাহাড় ধস ও পানিবন্দি পরিবার গুলোর জন্য টেকনাফ বার্মিজ প্রাইমারী ও পাইলট হাই স্কুলে জরুরী আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাহাড়ী এলাকা থেকে সরে যেতে বারবার প্রচারনা চালানো হলেও বসবাসকারীরা না সরাই হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। সিপিপি সদস্যরা পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হতে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে কাজ করছেন বলে জানান উপজেলা সিপিপি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন।

    পল্লান পাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল ফারুক জানান, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে কয়েক শিশু বাড়ির বাহিরে খেলতে বের হয়। এসময় অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে বিলের পানির স্রোতে পড়ে ভেসে যায় মোহাম্মদ হারিস। পরে প্রত্যক্ষদশীরা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন।
    এদিকে অতিবৃষ্টিতে টেকনাফ পৌরসভার অলিয়াবাদ, কলেজ পাড়া, জালিয়াপাড়া, সদর ইউনিয়নের গোদারবিল, নতুন পল্লান পাড়া, জাহালিয়া পাড়া, লেঙ্গুরবিল, শীলবুনিয়া পাড়া, মৌলভী পাড়া, হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা, রঙ্গিখালী, সাবরাং ইউনিয়নের আছারবনিয়া, মুন্ডার ডেইল, কচুবনিয়া, কাটাবনিয়া সহ বিভিন্ন নীচু এলাকা প্লাবিত হয়ে শত শত পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আলম প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

    অতিবৃষ্টিতে উপজেলার শত শত কাঁচা ঘরবাড়ি, পানের বরজ, ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। ভেসে গেছে পুকুর ও মৎস্য ঘেড়ের মাছ। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
    এদিকে টেকনাফ আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা শফিউল আলম জানান, সোমবার সন্ধা ৬টা থেকে মঙ্গলবার সন্ধা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় টেকনাফে ৪২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। আগামীকাল পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ