• শিরোনাম

    পাহাড়ধসের সতর্কতায় প্রস্তুতি

    টেকনাফে প্রবল বর্ষণ

    নিজস্ব প্রতিনিধি,টেকনাফ | ২০ আগস্ট ২০২০ | ১১:৩০ অপরাহ্ণ

    টেকনাফে প্রবল বর্ষণ

    টেকনাফে গত একসপ্তাহ ধরে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের গ্রাম গুলো প্লাবিত হয়েছে। গত দু’দিন ধরে এসব গ্রামের তিন হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়নে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় সেখানে বসবাসরত বাসিন্দাদের সতর্ক করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হয়েছে।
    আবহাওয়া অধিদপ্তর কক্সবাজার’র আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুর রহমান বলেন, সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে বৈরী হাওয়া বিরাজ করছে, সাথে পুরো জেলায় গত কয়েকদিন ধরে ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গতকাল শেষ ২৪ ঘন্টায় জেলায় ২৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া সমুদ্র অনেকটা উত্তাল রয়েছে। স্থানীয়ভাবে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত বলবৎ রয়েছে।
    তিনি আরো বলেন, গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান মতে কক্সবাজার এলাকায় আগস্ট মাসে বেশি বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। এ ধারাবাহিকতায় এ বছরও মধ্য আগস্টের পর থেকে প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী তিনচারদিন আরো ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
    সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সদর, সাবরাং, সেন্ট মার্টিনস, হ্নীলা, হোয়াইক্যং ও বাহারছড়া ইউনিয়নের অন্তত ৩০ টির বেশি গ্রাম বর্ষার প্রবল বর্ষণে বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ দক্ষিণ পাড়া, ঘোলার পাড়া, জালিয়া পাড়া, মাঝের ডেইল, সাবরাং হারিয়াখালী, ঝিনা পাড়া, আছারবনিয়া, টেকনাফ পৌরসভার জালিয়া পাড়া, সদর ইউনিয়নের কচুবনিয়া, মহেষখালীয়া পাড়া, কেরুনতলী, বরইতলী, হ্নীলা ইউনিয়নের গোদামপাড়া, লামার পাড়া, জালিয়া পাড়া, আলী খালী, সেন্ট মার্টিনসের পূর্ব পাড়া, উত্তর পাড়া, হোয়াইক্যং ও বাহারছড়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে পানিবন্দী পরিবারগুলোতে চরম দূর্ভোগ দেখা দিয়েছে। অনেকের বাড়িতে পানি ঢুকে চুলায় রান্নাবান্নাও বন্ধ রয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পানিবন্দী এসব পরিবারের সবার কাছে এখনো শুকনো খাবার ও জরুরী ঔষধপত্র পৌঁছেনি।
    শাহপরীর দ্বীপ দক্ষিণ পাড়ার বাসিন্দা জাফর আলম বলেন, গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির পানি আমাদের বাড়ির আঙ্গিনায় চলে এসেছে। সম্প্রতি বেড়িবাঁধ নির্মাণে একটি  স্লুইচ গেইট বন্ধ করে দেয়ায় পানি নেমে যাওয়ার কোন সুযোগ না থাকায় জলাবদ্ধতা কাটছেনা। আমরা জরুরী প্রয়োজনেও ঘর থেকেও বের হতে পারছিনা।
    টেকনাফ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আলম বলেন, ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে পানিবন্দী পরিবারগুলোর সার্বিক বিষয়ে তদারকি করা হচ্ছে। এছাড়া পাহাড়ধসে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
    টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় গত কয়েকদিন থেকে মাইকিং করে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত বাসিন্দাদের সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। পানিবন্দী এলাকার পরিবারগুলোকে জরুরী খাদ্য সহায়তা পৌঁছানোর জন্য জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
    হ্নীলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন, গত কয়েকদিন ধরে অব্যাহত বৃষ্টির কারণে আমার ইউনিয়নের লেদা লামার পাড়া, গোদাম পাড়া, জালিয়া পাড়া সহ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ঝড়ো হাওয়া কয়েকটি ঘরবাড়িও ভেঙ্গেছে। পরিষদের পক্ষ থেকে পানিবন্দী পরিবারের কাছে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

     

    দেশবিদেশ/নেছার

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ