• শিরোনাম

    অভিযান চালিয়ে দখল বন্ধ করলেন এসি ল্যান্ড

    টেকনাফে ভূমিদস্যু ও ইয়াবা সিন্ডিকেটের যৌথ থাবায় কায়ুকখালী খাল

    নুরুল করিম রাসেল, টেকনাফ | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ২:০৬ পূর্বাহ্ণ

    টেকনাফে ভূমিদস্যু ও ইয়াবা সিন্ডিকেটের যৌথ থাবায় কায়ুকখালী খাল

    সম্প্রতি হাইকোর্ট নদী-খাল-বিল ও জলাশয় রক্ষায় এক ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছেন। এতে দেশের সকল নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়কে রক্ষার জন্য জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে ‘আইনগত অভিভাবক’ ঘোষণা করে নদী দখলকারীদের নির্বাচন করার ও ঋণ পাওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করেন। নদী রক্ষা কমিশন যাতে নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয় রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে, সেজন্য আইন সংশোধন করে ‘কঠিন শাস্তির’ ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে সরকারকে। পাশাপাশি জলাশয় দখলকারী ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীদের তালিকা প্রকাশ, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেশের সব নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ের ডিজিটাল ডেটাবেইজ তৈরি এবং সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কারখানায় নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিতে বলা হয়েছে হাই কোর্টের রায়ে।
    কিন্তু ঐতিহাসিক এই রায়ের পরও টনক নড়েনি টেকনাফের ভূমিদস্যূ সিন্ডিকেটের। একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যূ ও ইয়াবা সিন্ডিকেট মিলে রাতের অন্ধকারে মাটি ভরাট করে কায়ুকখালী খাল দখলে মেতে উঠেছে। স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মানুষের কাছ থেকে খবর পেয়ে মঙ্গলবার(১৯ফেব্রুয়ারী)দুপুরে অভিযান চালিয়ে দখল কাজ বন্ধ করে দেন উপজেলা ভুমি প্রশাসন। এসময় খাল ভরাট করা মাটি অবিলম্বে তুলে ফেলা ও খালের উপর স্থাপিত টিনের ঘেরা-খুটিসহ সবধরনের স্থাপনা সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন।
    সরেজমিন পরিদর্শনে জানা যায়, হাবিব শাহ নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি ভুমিদস্যূ সিন্ডিকেট টেকনাফ পৌরসভার লামার বাজার মসজিদ সংলগ্ন স্থানীয় ক্যাথিন জ্য চৌধুরীর কাছ থেকে কিছু জমি বায়না করেন। এরপর বায়নাকৃত জমির পার্শ্ববর্তী কায়ুকখালী খালের উপর রাতের অন্ধকারে মাটি ফেলে ভরাট করে খালটির প্রায় কয়েক একর জমি দখল করে নেন।
    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধার পর থেকে খাল দখলের মহোৎসব শুরু হয়। অনেক গুলো ড্রাম ট্রাক গত কয়েকদিন ধরে রাতারাতি মাটি ফেলে খালটির এই অংশটি দখল করে নেয়।
    উপজেলা সহকারী কমিশনার প্রনয় চাকমার নেতৃত্বে সহকারী ভুমি কর্মকর্তা আব্দুল করিমসহ ভুমি অফিসের লোকজন দখলকৃত স্থানে অভিযান চালিয়ে খাল দখলের প্রমান পান। এসময় তিনি দখল কাজে থাকা শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দেন এবং অবিলম্বে খালে ফেলা মাটি তুলে ফেলার নির্দেশ দেন। অন্যথায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান।
    এসময় ঘটনাস্থলে থাকা কাইয়ুম রেজা নামে এক ব্যক্তিকে তিনি মৌখিকভাবে এ নিদের্শ দেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কাইয়ুম রেজা জানান, শাহ আলম নামে এক ব্যক্তি মাটি ভরাটের ঠিকাদারী নিয়েছেন তিনিই মাটি ভরাট করছেন। তিনি ক্য থিন জ্য’র পক্ষে কাজের তদারকি করছেন। খাল দখল বেআইনী হয়েছে স্বীকার করে তিনি খালের অংশে ফেলা মাটি সরিয়ে ফেলবেন বলে ভুমি প্রশাসনকে জানান।
    অভিযানের খবর পেয়ে উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভীড় জমান। তারা খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানকে সাধুবাদ জানান।
    অনুসন্ধানে জানা গেছে, তের সদস্যের সিন্ডিকেটটি হাবিব শাহ নামে এক ব্যক্তি পরিচালনা করলেও মূলত এর পেছনে টেকনাফের বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও তালিকাভুক্ত ইয়াবা গডফাদারও রয়েছেন। সিন্ডিকেটটি খাল দখল করে পার্শ্ববর্তী মালিকানা জমিসহ মিলিয়ে বহুতল মার্কেট নির্মানের নকশা চুড়ান্ত করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু ভুমি প্রশাসনের অভিযানে তাদের কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হলো। এমনকি ইতিমধ্যে তারা মার্কেটের পজেশন পর্যন্ত বিক্রি সম্পন্ন করেছে বলে জানা গেছে।
    এব্যাপারে হাবিব শাহ’র কাছে জানতে চাইলে জমি ক্রয়ে বায়না নামা সম্পাদনের কথা স্বীকার করে বলেন মাটি ভরাটের সাথে তারা জড়িত নন বলে দাবী করে জানান, জমির মালিক মাটি ভরাট করছেন।
    আবার জমি মালিকের প্রতিনিধি এড. কাইয়ুম রেজা বলেন, খাল দখল হয়ে থাকলে তা সরিয়ে ফেলবেন।
    সচেতন মহল জানান, সারাদেশে হাইকোর্টের নির্দেশে সরকার নদী-খাল দখলের বিরুদ্ধে যখন কঠোর, শত শত স্থাপনা ভেঙ্গে বুড়িগঙ্গা-তুরাগ-কর্ণফুলী দখলমুক্ত করছেন তখন টেকনাফ পৌরসভার প্রধান বানিজ্যিক খালটি দখল ভূমিদস্যূদের দু:সাহসিকতা বলে মন্তব্য করেন।
    প্রসঙ্গত, নাফ নদীর সাথে সরাসরি সংযুক্ত কায়ুকখালী খালটি টেকনাফের প্রধান বানিজ্যিক খাল ও অন্যতম নৌ পথ। এই খাল দিয়েই সেন্টমার্টিন যাতায়াত ও এই খালকে কেন্দ্র করেই টেকনাফের মৎস্য আড়ৎ গুলো গড়ে উঠেছে। সাগরে মৎস্য আহরনকারী শত শত ট্রলার এই খালেই অবস্থান করে থাকে। এই খাল দিয়েই আসে মিয়ানমার হতে আমদানীকৃত বাঁশ। শত বছর আগে এই খালটিকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল এই জনপদটি। অথচ গত কয়েক বছর ধরেই এই গুরুত্বপুর্ন খালটির দুইপাশ এতোটাই দখল করে নিয়েছে প্রভাবশালী মহল অনেক জায়গায় খালটি নালায় পরিণত হয়েছে। তাছাড়া দখলে সংকোচিত হয়ে বর্ষায় পানি নেমে যেতে পারে না ফলে প্লাবিত হয়ে পড়ে উজানের শত শত বাড়িঘর ফসলের মাঠ। তাই অবিলম্বে কর্ণফুলী-বুড়িগঙ্গা নদীর মতো কায়ুকখালী খালের দুইপাশে গড়ে উঠা সবগুলো দখল উচ্ছেদে পরিবেশ সংগঠন ও নদী রক্ষা কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবী করেছে পরিবেশবাদী সচেতন মহল।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ