শুক্রবার ১৯শে আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম
হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য

টেকনাফে মেরিন সিটি হাসপাতালের বিষাক্ত বর্জ্য ফেলা হচ্ছে খোলা জায়গায়

নুরুল করিম রাসেল, টেকনাফ   |   শনিবার, ১২ অক্টোবর ২০১৯

টেকনাফে মেরিন সিটি হাসপাতালের বিষাক্ত বর্জ্য ফেলা হচ্ছে খোলা জায়গায়

টেকনাফে খোলা জায়গায় ফেলা হচ্ছে বিষাক্ত হাসপাতাল বর্জ্য। এতে জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ঝুঁকির আশংকা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও তা অমান্য করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিপরীতে মেরিন সিটি নামের একটি বেসরকারী হাসপাতাল থেকে এ বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।
শুক্রবার বিকালে সরেজমিন পরিদর্শনে এ দৃশ্য দেখা যায়, সম্প্রতি টেকনাফ পৌরসভার সদর হাসপাতালের সামনে গড়ে উঠেছে মেরিন সিটি নামক একটি বেসরকারী হাসপাতাল। হাসপাতালের পেছনে খোলা জায়গায় ব্যবহৃত সুই-সিরিঞ্জ সহ নানা বর্জ্যরে স্তুপ। স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ বছরের শুরুতে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেখানকার বর্জ্য খোলা জায়গায় ফেলা হচ্ছে। হাসপাতালটির পাশেই রয়েছে একটি আবাসিক এলাকা, এছাড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারী বিশেষ সংস্থার কার্যালয় স্থাপনের কাজ চলছে। পাশাপাশি রয়েছে বাড়িঘর, দোকানপাট।

হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংশিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অস্ত্রোপচারের পর টিউমারসহ মানবদেহের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, রক্ত এবং অপারেশনে ব্যবহৃত নানা ধরনের বর্জ্য থাকে। ওই সব বর্জ্যে থাকে মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া। ওই সব ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া পানি, মাটি ও বাতাসকে মারাত্বক দূষিত করে। ফলে বিভিন্ন প্রানঘাতি রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ে মানবদেহে।

জানতে চাইলে মেরিন সিটি হাসপাতালের ব্যবস্থাপক নুরুজ্জামান জানান, তারা বর্জ্য গুলো নির্দিষ্ট একটা স্থানে ফেলে থাকেন। সেখান থেকে পৌরসভার সুইপাররা এসে বর্জ্য গুলো নিয়ে যায়। এছাড়া হাসপাতালটিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ৩টি প্ল্যান্ট রয়েছে বলেও দাবী করেন তিনি। তিনি আরো জানান, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের প্রফেসর সহ ২১ জন ডাক্তার, ১৮ জন নার্স নিয়ে ৩০ শয্যার হাসপাতালটি পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল হাসান জানান, হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট আইন আছে। সরেজমিন পরিদর্শন করে অনিয়ম পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
টেকনাফ সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. সুমন বড়ুয়া জানান, হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা দুটি প্ল্যান্ট থাকার নিয়ম রয়েছে। বিশেষ করে প্ল্যান্ট না থাকলে প্রাথমিক ভাবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য গুলো কালার কোডিং করে মাটিতে পুঁতে ফেলা যেতে পারে। তাদের কাছে হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রাথমিক সেই প্ল্যান্টটিও নেই বলে জেনেছি। বিষয়টি নিয়ে তাদের কে নিয়ম মেনে ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হবে। না মানলে আইনত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সুপারিশ করা হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক মো. নুরুল আমিন বলেন, খোলা জায়গায় হাসপাতাল বর্জ্য ফেলার কোন সুযোগ নেই। টেকনাফ মেরিন সিটি হাসপাতালটি পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন নিয়েছে কিনা তা খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।

দেশবিদেশ/নেছার

Comments

comments

Posted ১২:০০ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১২ অক্টোবর ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

প্রকাশক
তাহা ইয়াহিয়া
সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
01870-646060
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com