• শিরোনাম

    পুলিশের তিনটি ক্যাম্প স্থাপন হচ্ছে

    টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এখনো থমথমে

    নিজস্ব প্রতিনিধি, টেকনাফ | ৩০ আগস্ট ২০১৯ | ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

    টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এখনো থমথমে

    কক্সবাজারের টেকনাফ জাদিমুরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ‘রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের’ গুলিতে যুবলীগ নেতা মো. ওমর ফারুক হত্যার ঘটনায় স্থানীয় ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিরাজমান উত্তেজনা এখনো কাটেনি। ঘটনার পর থেকে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প এলাকা থেকে বের হতে দিচ্ছেনা প্রশাসন। কয়েকটি ক্যাম্পে নিরাপত্তা ভয়ে এনজিওদের কার্যক্রম এখনো বন্ধ রয়েছে।

    রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধ নিয়ন্ত্রন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারকরণে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পাচঁটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নতুন করে তিনটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন এর নেতৃত্বে একটি টীম ওইসব রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখেন।

    এসময় তার সঙ্গে ছিলেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের প্রতিনিধি ও টেকনাফের জাদিমুরা শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ মোহাম্মদ খালেদ হোসেন, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) এর কক্সবাজার সিনিয়র লিয়াজো অফিসার মোহাম্মদ বায়েজিদ, টেকনাফ মডেল থানা ওসি (তদন্ত) এবিএমএস দোহা সহ অনেকে।

    পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে এবং নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে পাচঁটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তিনটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। টেকনাফের জাদিমুরা, শালবাগান, নয়াপাড়া, আলীখালী ও লেদা রোহিঙ্গা পুলিশ ক্যাম্প গুলো স্থাপন করা হবে। এসব পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের জায়গা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

    অতি দ্রুত সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হবে উল্লেখ করে পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, বিশ্বের কোন দেশে এত বিশাল আশ্রয়হীন জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেয়ার নজির নেই। মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদেরকে আমরা আশ্রয়, নিরাপত্তা, খাদ্য ও চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। তবে বিশাল জনগোষ্ঠীর মাঝে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাাতে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেজন্য নতুন পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    পুলিশ সুপার হ্নীলা জাদিমুরা বাসিন্দা ও যুবলীগ নেতা মো. ওমর ফারুক হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথেও আলাপ করেন। তিনি এসময় ফারুক হত্যায় জড়িত রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানান।
    এসময় স্থানীয়রা দাবি করেন, পুলিশ ক্যাম্প করার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে দ্রুত তাদের জন্য সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করতে হবে। টেকনাফের জাদিমুরা, শালবাগান, লেদা, নয়াপাড়া ও আলীখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলো দিন দিন সন্ত্রাসের অভয়ারান্যে পরিণত হতে চলছে, সেদিকে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দরকার। এছাড়া রোহিঙ্গাদের ব্যবহৃত অবৈধ সীম বন্ধ করতে হবে বলেও দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

    হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন, যতদিন রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না ততদিন তাদেরকে এক জায়গায় রাখতে হবে। এর জন্য রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ জরুরি।
    শরণার্থী ত্রাণ, প্রত্যাবাসন কমিশনারের প্রতিনিধি ও টেকনাফের জাদিমুরা শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ মোহাম্মদ খালেদ হোসেন, তার রোহিঙ্গা শিবিরে নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের প্রস্তুতি চলছে, সেজন্য জায়গাও নির্ধারণ করা হচ্ছে।
    প্রসঙ্গত, গত ২২ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতে টেকনাফের জাদিমুরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীররা যুবলীগ নেতা ওমর ফারুককে গুলি করে হত্যা করে। প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা রোহিঙ্গা ও রোহিঙ্গাদের মদদদাতা বিভিন্ন সংস্থা উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ