• শিরোনাম

    মূল হোতা আটক

    টেকনাফে রোহিঙ্গা ৩ কিশোরীকে গণধর্ষণ

    দেশবিদেশ রিপোর্ট | ৩০ আগস্ট ২০১৮ | ২:১০ পূর্বাহ্ণ

    টেকনাফে রোহিঙ্গা ৩ কিশোরীকে গণধর্ষণ

    কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে ঝাউবাগানে তিন রোহিঙ্গা কিশোরী গণধর্ষণের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। টেকনাফের উপকুলীয় শীলখালী গ্রামের ৫/৬ জনের দুবর্ৃৃত্তদল (স্থানীয় গ্রামবাসী) এ ঘটনা ঘটিয়েছে। গতকাল বুধবার কক্সবাজারের বিচারিক আদালতের এক বিচারকের নিকট স্বেচ্ছায় দেয়া জবানবন্দীতে ধর্ষণের বিস্তারিত ঘটনা প্রকাশ করেছে রোহিঙ্গা কিশোরীরা। এর আগে গতকালই তিন রোহিঙ্গা কিশোরীর ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে।
    টেকনাফের পুলিশ ইতিমধ্যে চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ ঘটনার মূলহোতা হিসাবে পরিচিত বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী গ্রামের সিএনজি ট্যাক্সি চালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহকে (২৩) গ্রেপ্তারও করেছে। টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিত কুমার বড়–য়া ঘটনার বিষয়ে জানিয়েছেন-‘ তিন রোহিঙ্গা কিশোরীকে কুরবাণীর ঈদের দাওয়াত খেতে নিয়েই সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তের দল তাদের ধর্ষণ করে। এমন জঘন্য ঘটনার আয়োজন করে গ্রেপ্তার হওয়া ঘটনার মূল হোতা সিএনজি ট্যাক্সি চালক আবদুল্লাহ।’
    চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ ঘটনাটি ঘটেছে ঈদের পরের দিন গত ২৩ আগষ্ট রাতে। ঘটনাস্থলটি হচ্ছে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী সৈকতের ঝাউবাগানে। ঘটনার শিকার হওয়া তিন কিশোরীর একজন হচ্ছে উখিয়ার থাইনখালী রোহিঙ্গা শিবিরের এবং অপর দুইজন হচ্ছে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে দুই কিশোরী ১৩/১৪ বছর এবং অপরজন ১৭/১৮ বছর বয়ষ্কা।
    শামলাপুর রোহিঙ্গা শিবির সংলগ্ন বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বরত পুলিশ পরিদর্শক কাঞ্চন কান্তি দাশ জানান-‘ঘটনার পর রোহিঙ্গারা অজানা কারনে ঘটনাটি ধামা চাপা দিতে চেয়েছে। পরে জেন্ডার বেইসড ভায়োল্যান্স-জিবিভি নামের একটি বেসরকারি সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অভিভাসন সংস্থা- আইওএমকে জানানো হলে আমরা (পুলিশ) খবর পাই।’
    পুলিশ পরিদর্শক জানান, ধর্ষণের খবর পেয়েই তাৎক্ষনিক কিশোরীদের উদ্ধার করে গত মঙ্গলবার নিয়ে যাওয়া হয় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ওয়ান ষ্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে। সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিয়া আকতার গতকাল দুপুরে জানান, তিন কিশোরীর চিকিৎসা সেবা এবং মেডিকেল পরীক্ষাও সম্পন্ন করা হয়েছে। পরে তারা কক্সবাজারের জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক মুহাং হেলাল উদ্দিনের কাছে জবানবন্দী প্রদান করেন।
    ঘটনার বিবরণ দিয়ে ধর্ষিতাদের একজন কিশোরী নিজে বাদী (সংবাদদাতা) হয়ে টেকনাফ থানায় দায়ের করা মামলায় ৬ জনকে আসামী হিসাবে উল্লেখ করেছে। মামলায় আসামীদের তিনজনের নাম পরিচয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীনী (সংবাদদাতা) উল্লেখ করেছে, তারা তিন কিশোরী মিয়ানমারের রাখাইনের মংডু থানার যথাক্রমে বড়ছড়া, তুলাতলী ও নোয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। মিয়ানমার বাহিনীর নির্যাতনের মুখে গত বছরের ২৫ আগষ্টের পর তারা পালিয়ে এসে শামলাপুর ও থাইনখালী রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নেয়।
    টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়ক সংলগ্ন শামলাপুর রোহিঙ্গা শিবিরে অবস্থানের কারনে পার্শ্ববর্তী গ্রাম উত্তর শীলখালীর সিএনজি ট্যাক্সি চালক গ্রেপ্তার হওয়া আবদুল্লাহর সাথে এক কিশোরীর সখ্য গড়ে উঠে। সম্পর্কের জের ধরে ট্যাক্সি চালক আবদুল্লাহ ঈদের পরের দিন তিন কিশোরীকে ট্যাক্সিতে করে তার বোনের ঘরে দাওয়াতে নিয়ে যায়। বোনের ঘরে খাওয়া দাওয়ার পর রাতেই শিবিরে পৌঁছে দিতে আবদুল্লাহ ট্যাক্সিতে তুলে কিশোরীদের। সাথে নিয়ে যায় আবদুল্লাহ তার ভগ্নিপতি আসামী শাহ আলম (৫০) এবং একই গ্রামের মোহাম্মদ সেলিম (২৮) কেও। আবদুল্লাহর পরিকল্পনা মতে কিছুদুর যাবার পর আরো তিন দুর্বৃত্ত এসে ট্যাক্সিটি থামায়।
    দুর্বৃত্তরা ট্যাক্সি থেকে তিন রোহিঙ্গা কিশোরীকে নামিয়ে দুইজনকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক সংলগ্ন পশ্চিমে ঝাউবনে নিয়ে যায়। অপর একজনকে সড়কের পূর্ব দিকের ঝাউবনে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ঘটনার পর কম বয়সের দুই কিশোরীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে উঠার পরই রোহিঙ্গারা বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের নিকট প্রকাশ করে। টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ ঘটনার কথা জানা মাত্রই মূল হোতা সিএনজি চালক আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার সাথে জড়িত অপরাপর দুর্বৃত্তদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে থানার ওসি জানান।

    দেশবিদেশ /৩১ আগস্ট ২০১৮/নেছার

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ