• শিরোনাম

    * করোনাভাইরাস ঠেকাতে প্রস্তুতি * কক্সবাজার বিমান বন্দরে চিকিৎসকরা সক্রিয়

    টেকনাফ বন্দরে চিকিৎসকের দেখা মিলেনা

    দেশবিদেশ রিপোর্ট | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১:৫৪ পূর্বাহ্ণ

    টেকনাফ বন্দরে চিকিৎসকের দেখা মিলেনা

    কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত হচ্ছে করোনাভাইরাস ছড়ানোর জন্য দেশে অন্যতম আশংকার স্থান। সীমান্তের নাফনদ তীরের বন্দরটির সাথে প্রতিনিয়ত রয়েছে মিয়ানমারের পণ্যবাহী জাহাজের আনাগোনা। এসব পণ্যবাহী জাহাজে আসা-যাওয়া রয়েছে মিয়ানমারের নাগরিকদের। তদুপরি মিয়ানমারের রাখাইনে আসা-যাওয়া সহ অবস্থান রয়েছে চীনা নাগরিকদের।
    বন্দরের স্থানীয় এবং রোহিঙ্গা শ্রমিকরা সেই সব জাহাজ থেকে পণ্য বোঝাই এবং খালাস করছে হরদম। তারা অবাধে মেলামেশা করছে ভিনদেশী জাহাজের ক্রুদের সাথেও। অথচ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান টেকনাফ বন্দরের কোথাও করোনাভাইরাস ঠেকানোর কোন আলামতই দেখা যায়নি। এমনকি বন্দরে চিকিৎসক দলের বসার মত কোন ব্যবস্থারও দেখা মিলেনি।
    গতকাল রবিবার নাফনদ তীরের টেকনাফ স্থল বন্দরটি সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে বিশ্বব্যাপি সতর্ক করে দেয়া করোনাভাইরাস প্রতিরোধের এমন কোন চিহ্নও দেখা যায়নি। গতকাল সকাল ১১ টায় দেখা গেছে, যথারীতি টেকনাফের স্থানীয় এবং রোহিঙ্গা শ্রমিক মিলে বন্দরের জেটির সাথে ভিড়িয়ে দেয়া মিয়ানমারের পণ্যবাহী জাহাজ থেকে পণ্য সামগ্রী খালাস করছে।
    জাহাজের ক্রুদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এসব শ্রমিকরা নানা গল্প-গুজব করছে। পরষ্পরের মধ্যে নানা রকমের হোটেলের নাস্তা-পানির বিনিময়ও হচ্ছে কিন্তু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে সাবান দিয়ে কারও হাত-মুখ ধুয়ার দৃশ্যও দেখা যায়নি। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, টেকনাফ সীমান্তের বন্দরটিতে প্রবেশের জন্য একটি গেইট থাকলেও বাস্তবে এটি রয়েছে এক প্রকার অরক্ষিত। এসব কারনে বন্দরটি নিয়ে দিন দিন শংকা বাড়ছে।
    এসব বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. টিটু চন্দ্র শীল জানান, টেকনাফ বন্দরে করোনাভাইরাস ঠেকানোর প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসাবে একজন চিকিৎসক সমন্বয়ে ৪ সদস্যের একটি চিকিৎসক দল গঠণ করা হয়েছে। অপর তিনজন হচ্ছেন স্বাস্থ্য সহকারি। তারা মাঝে-মধ্যে বন্দরে ঘুরতে যান।
    ডা. টিটু চন্দ্র শীল জানান-‘ চিকিৎসক দলের বন্দরে অবস্থানের কোন দরকার নেই। বন্দর কর্তৃপক্ষকে আমি বলে রেখেছি এরকম সন্দেহজনক কাউকে পাওয়া গেলে আমার কাছে বা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঠানো হবে।’ তিনি আরো বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ তাকে (ডা. টিটু) জানিয়েছেন, মিয়ানমারের জাহাজ ভীড়লেও জাহাজের কোন ক্রু স্থলভাগে নামেনা। তদুপরি মিয়ানমারের সাথে আগে যেভাবে ট্রানজিট নৌকার আসা-যাওয়া ছিল তা এখন আর নেই।
    এ ব্যাপারে টেকনাফ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট ব্যবস্থাপক জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, গঠিত চিকিৎসক দলটি গত পহেলা ফেব্রƒয়ারি থেকে দুয়েকবার বন্দর ঘুরে এসেছে। তারা বন্দর কর্তৃপক্ষকে বসার ব্যবস্থা করার কথা না বলায় এরকম পদক্ষেপও নেয়া হয়নি।
    ব্যবস্থাপক আরো জানান, মিয়ানমারের পণ্যবাহি জাহাজের ক্রুদের টেকনাফের স্থলভাগে নামতে বারণ করা হয়েছে। অথচ স্থানীয়রা বলেছেন ভিন্ন কথা। পণ্যবাহী জাহাজগুলো থেকে ক্রুদের যতই স্থলভাগে নামতে নিষেধ করা হোক না কেন তারা (ক্রু) এটা ওটা কিনতে বা খাওয়া-দাওয়া করতে নেমে আসেন। এলাকার লোকজন আরো জানান, উখিয়া-টেকনাফের শিবিরে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা নাফনদ পাড়ি দিয়ে মিয়ানমারে যাওয়া আসা করে থাকে প্রতিনিয়ত। তাই এসব রোহিঙ্গাদের নিয়েও নানা শংকার কথা জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
    এদিকে কক্সবাজার বিমান বন্দরে একটি চিকিৎসক দল সকাল-সন্ধ্যা কর্মরত থাকে বিমান বন্দরের বহিঃগমন যাত্রী ভবনে। দলের সদস্যরা সবাই পালাক্রমে ডিউটি করেন। গতকাল রবিবার সরেজমিন বিমান বন্দরে গিয়ে দলের ডা. ইয়াসির আরাফাত, অফিস সহায়ক মোঃ রফিকুল ইসলাম ও সিনিয়র ষ্টাফ নার্স শাকিলা ফেরদৌসীকে কর্মরত দেখা গেছে।
    ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর এর নেতৃত্বে ৯ সদস্যের দলটিতে আরো রয়েছেন, ডা. নাজমুস সাকিব, ডা. হিমাদ্রী কর, ডা. রিফাহ রওনক আজাদ, সিনিয়র ষ্টাফ নার্স শ্যালিকা আচার্য, সাজেদা সাত্তার, অফিস সহায়ক সাইফুল ইসলাম ও সিভিল এভিয়েশনের মোঃ আবুল হোসেন। ডা. ইয়াসির আরাফাত ও অন্যান্যদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, কক্সবাজার বিমান বন্দরে বিদেশী যাত্রীর সংখ্যা দৈনিক ৫০ থেকে শতাধিক পর্যন্ত হয়ে থাকে। ঢাকা-কক্সবাজার দৈনিক ২৫/৩০ টি ফ্লাইট চলাচল করছে বর্তমান সময়ে।
    ডা. ইয়াসির আরাফাত বলেন-‘আমরা ঢাকা থেকে বিমান বন্দরে আসা বিদেশী যাত্রীদের কাছে বিনয়ের সাথে জানতে চাই শরীরে কোন সর্দ্দি বা জ্বর ভাব আছে কিনা। তবে এ পর্যন্ত কাউকে এমন পাওয়া যায়নি। আবার অনেকের শরীরের তাপমাত্রা মেপে নেওয়া হয়।’ তিনি বলেন, তবে বেশীর ভাগ বিদেশী যাত্রী চিকিৎসকদের অসহযোগিতা করেন।
    কক্সবাজার বক্ষব্যধি ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানান-‘ আমার নেতৃত্বে কক্সবাজার বিমান বন্দরের জন্য ৯ সদস্যের একটি চিকিৎসক দল গঠণ করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি তিন জন করে কর্তব্য পালন করছে বিমান বন্দরে।’ তিনি জানান, এতদিন ধরে জ্বর মাপার জন্য আধুনিক থার্মেমিটারও ছিল না। আগামীকাল (আজ সোমবার) থেকে আধুনিক থার্মোমিটার দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা নির্ণয় করা হবে।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ