শনিবার ১৬ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

অনুসন্ধান-2

ডাটাবেজের গলদে পাসপোর্ট পাচ্ছে রোহিংগারা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ডাটাবেজের গলদে পাসপোর্ট পাচ্ছে রোহিংগারা

দেশের সব পাসপোর্ট অফিসেই সংরক্ষিত আছে রোহিঙ্গাদের ডাটাবেজ। ফলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ শনাক্ত করে সহজেই শনাক্ত করা যায়। কারা বাংলাদেশের নাগরিক, আর কারা মায়ানমার থেকে এদেশে আসা রোহিঙ্গা। যদিও এই ডাটাবেজে রয়েছে গলদ।
কিন্তু অধিকাংশ পাসপোর্ট কর্মকর্তার চোখ এই ডাটাবেজেও থাকে না। কক্সবাজার এবং চট্টগ্রাম জেলায় মাঝে মাঝে যাচাই করে দেখা হয়। তাও আবেদনকারীর কথা-বার্তা সন্দেহজনক মনে হলে। শুধু কক্সবাজার পাসপোর্ট অফিস থেকেই প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৫০ জনের নামে ইস্যু করা হয় পাসপোর্ট।
এসব পাসপোর্ট ইস্যু করার সময় স্বাক্ষাৎকার নেয়া হয়। প্রায় সবার ক্ষেত্রেই ঘটে এমন ঘটনা। যাচাইকরণের দায়িত্বে থাকা পুলিশের বিশেষ শাখার রিপোর্টের ভিত্তিতেই চলে অন্য সব কাজ। এই প্রতিবেদককে এমন তথ্যই দিয়েছেন খোদ একজন পাসপোর্ট কর্মকর্তা। এ সময় নিজের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে অনীহা প্রকাশ করেন তিনি। তবে, বর্তমানে কম্পিউটারে সংরক্ষিত ডাটাবেজের সহায়তা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, যে ডাটাবেজকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা শনাক্ত করা হচ্ছে তাতেও রয়ে গেছে গলদ। বাংলাদেশ ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর রোহিঙ্গাদের প্রবেশের জন্য সীমান্ত খুলে দেয়। পরবর্তীকালে এদেশে প্রবেশ করা রোহিঙ্গাদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। রোহিঙ্গাদের মাঝে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাসহ শনাক্তকরণের লক্ষ্যেই তৈরি করা হয় এই ডাটাবেজ। যার ভিত্তিতে বর্তমানে রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণসহ সকল কর্মকা- পরিচালিত হচ্ছে।
পাশাপাশি উখিয়া এবং টেকনাফ উপজেলায় অনেক দরিদ্র মানুষ রয়েছেন। যাঁরা উত্তরাধিকার সূত্রে এদেশের নাগরিক। ডাটাবেজ প্রণয়ন করার সময় তাঁদের মধ্যে ত্রাণের লোভ চলে আসে। এই লোভেই নিজেদের রোহিঙ্গা পরিচয় দিয়ে ডাটাবেজে নাম অন্তর্ভুক্ত করান। গ্রহণ করেন রোহিঙ্গা পরিচয়পত্র। এই পরিচয়পত্র দিয়েই সেই সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত নিয়মিত ত্রাণও গ্রহণ করছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ভাষায় যা হোস্ট কমিউনিটি অর্থাৎস্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা।

ত্রাণ নিলেও বাংলাদেশের এসব নাগরিকের নাগরিকত্বই এখন প্রশ্নের সম্মুখীন। কেউ বিদেশ যেতে চাইলেও পারবেন না। ডাটাবেজে তাঁরা রোহিঙ্গা হিসেবেই শনাক্তকৃত। ফলে তাদের পাসপোর্ট সরবরাহ করা হবে না। এমন কথা জানিয়েছেন পাসপোর্ট কর্মকর্তা। তবে, ঢাকা থেকে অধিকতর যাচাই শেষে যদি এদেশের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা যায়। তাঁদের পাসপোর্ট দেয়ার ব্যাপারে কোন সমস্যা হবে না বলে এই প্রতিবেদককে জানান তিনি। কিন্তু এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে পাসপোর্ট নিশ্চিত করার মতো অবস্থা এসব দরিদ্র মানুষের নেই।

২০১৭ সালের আগে অর্থাৎ ১৯৭৮, ১৯৯১ এবং ২০১২ সালেও এদেশে ব্যাপক হারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটে। কুতুপালং এবং লেদা ক্যাম্পে স্থান হয় তাদের। এসব রোহিঙ্গাদের অনেকেই ইতোমধ্যে অবৈধ পন্থায় অর্জন করেছে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব। অনেকের সন্তান বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত। অনেকেই অধ্যয়ন শেষ করে চাকরিতে প্রবেশ করেছে। এ সবই সম্ভব হয়েছে এদেশের নাগরিকত্ব থাকার কারণে। আর এদের কাছে বাংলাদেশ খুবই পরিচিত। এদেশের আনাচ-কানাচও এদের নখদর্পণে।

উপরন্তু ২০১৭ সালের পর করা ডাটাবেজে উল্লিখিত রোহিঙ্গাদের কারো তথ্য নেই। এমনকি এদেশের কোন সরকারি দপ্তরেও তাদের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়নি। শুধুমাত্র শুনানীর নামে সংখ্যা সংরক্ষণ করা হয়েছে। ফলে তারা পাসপোর্টের জন্য আবেদন করলেও কিছুই করার থাকেনা। সর্বাধুনিক পদ্ধতি ডাটাবেজে ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাই করলেও রোহিঙ্গা হিসেবে পাওয়া যায় না তাদের পরিচয়। ফলে পাসপোর্ট কর্মকর্তা এমনকি কোন সরকারি কর্মকর্তার পক্ষেই যাচাই করা সম্ভব হয় না তাদের আসল পরিচয়।

শুধুমাত্র মাঠ পর্যায়ে গেলেই বেরিয়ে আসে আসল সত্য। পুলিশের বিশেষ শাখার যেসব সদস্যকে মাঠ পর্যায়ে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়। কিছু টাকা পেলেই তাঁরা ধরাকে সরা করে ছাড়েন। বুঝার চেষ্টা করেন না, এর ফল এদেশের জন্য কতো ভয়াবহ হচ্ছে। ফলে পুরনো রোহিঙ্গাদের পক্ষে পাসপোর্ট পাওয়া হয়ে যায় অত্যন্ত সহজ।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ১২৫ শিশুর জন্ম হচ্ছে। বাংলাদেশের কাছে এসব শিশুর প্রকৃত কোন তথ্য নেই। শিশু হওয়ার কারণে ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও বিবেচনায় আসছে না। ফলে অদূর ভবিষ্যতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দীর্ঘায়িত হলে এসব শিশুর দায় কে নেবে। নাকি তারাও অন্যদের মতো অবৈধপন্থায় এদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করবে। পরিচিত হবে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে? এই প্রশ্নের উত্তর কারো জানা নেই।

Comments

comments

Posted ২:২৯ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com