রবিবার ২৫শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

ডায়রিয়ায় মেট্রোনিডাজল না খাওয়ানোর পরামর্শ আইসিডিডিআরবি’র

শহীদুল্লাহ্ কায়সার   |   শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯

ডায়রিয়ায় মেট্রোনিডাজল না খাওয়ানোর পরামর্শ আইসিডিডিআরবি’র

ওরস্যালাইন আবিষ্কারের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও প্রশংসিত প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবি’র পক্ষ থেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের ‘মেট্রোনিডাজল’ না খাওয়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তাঁর পরিবর্তে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বেশি করে ওরস্যালাইন খাওয়ানোর ওপরও জোর দেয়া হলো ।
“যদি কোন ডায়রিয়া আক্রান্ত মানুষ আইসিডিডিআরবি’র হাসপাতালে পৌঁছে। তাহলে সে মারা যাবেনা।” এমন শ্লোগানে পরিচালিত সংস্থাটির পক্ষ থেকে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই আহবান জানান আইসিডিডিআরবি’র প্রধান চিকিৎসক ও হাসপাতাল প্রধান ডাঃ আজহারুল ইসলাম খাঁন। বর্তমান সময়ে ডায়রিয়ার চিকিৎসায় ব্যাপক হারে মেট্রোনিডাজল ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও ওই সভায় জানান ডাঃ আজহার।
“জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিক ও স্থানীয়দের জরুরী স্বাস্থ্য সেবা প্রকল্পের কর্মকা- বিস্তৃতিকরণ এবং বাংলাদেশে বসবাসরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন” প্রচারাভিযান শীর্ষক আলোচনা সভাটি গতকাল ২১ মার্চ দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত শহরের একটি তারকা মানের হোটেলের বলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলার সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ আবদুল মতিন এ কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ আবদুল মতিন বলেন, অনিরাপদ পানির কারণেই কলেরার সৃষ্টি। পর্যাপ্ত সুপেয় পানির অভাব, স্যানিটেশন ব্যবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে রোহিঙ্গারা ডায়রিয়ার ঝুঁকিতে। এদেশে ডায়রিয়া এবং কলেরা নির্মূলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে আইসিডিডিআর বাংলাদেশ ও ইউনিসেফ। পাশাপাশি অপুষ্টিজনিত রোগ থেকে রক্ষা পেতেও রাখছে ভূমিকা। বাংলাদেশ সরকারের একজন প্রতিনিধি হিসেবে আমি এ জন্য কৃতজ্ঞ।
আইসিডিডিআর বাংলাদেশ’র হাসপাতাল প্রধান ও প্রধান চিকিৎসক ডাঃ আজহারুল ইসলাম খাঁনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইউনিসেফ’র জাতীয় পরামর্শক ডাঃ বেনজির আহমেদ। অন্যান্যের মধ্যে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকতা ডাঃ বালামিত্র সিং, ইউনিসেফ কর্মকর্তা ইউনিয়া বিদিয়াতি, আইসিডিবিআরবি’র জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও কনসালটেন্ট ডাঃ এ.এস.জি ফারুক, ও সিনিয়র পরিচালক ডাঃ তাহমিদ আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন ।
আলোচনা সভায় জানানো হয়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে স্বাস্থ্য সেবার মান খুব খারাপ। ক্যাম্পে স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখতে ইতোমধ্যে আইসিডিডিআরবি ৯ শতাধিক ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাদের মধ্যে ডাক্তার, নার্সের পাশাপাশি কমিউনিটি হেলথ লিডারও রয়েছেন। বিপুল সংখ্যক মানুষকে আশ্রয় দেয়া বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত কঠিন। পাশাপাশি তাঁদের স্বাস্থ্য সেবার উপর বাংলাদেশে গবেষণা হওয়া এদেশের জন্য একটি সু-সংবাদ।
সভায় উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে রোহিঙ্গাদের মধ্যে চার ধাপে ২১ লাখ কলেরার ডোজ দেয়া হয়। সঠিক সময়ে টিকা দেয়ার কারণে রোহিঙ্গারা এখন কলেরা রোগের ঝুঁকি মুক্ত। জরিপ চালিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে কলেরার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। কলেরার ঝুঁকি মুক্ত হলেও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব মুক্ত নয় বিভিন্ন ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গারা।
ক্যাম্পগুলোতে দিন দিন বাড়ছে ডায়রিয়া রোগির সংখ্যা। দুর্বল স্বাস্থ্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছনতা, স্যানিটেশনের অভাব এর জন্য দায়ী। এই ঝুঁকি থেকে মুক্ত হতে চিকিৎসার চেয়ে সচেতনতার উপর জোর দেয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা মূলক কর্মসূচিতে রোহিঙ্গা ইমাম, মাঝি, নারী নেত্রী থেকে শুরু করে নেতৃত্বস্থানীয় রোহিঙ্গা সম্পৃক্ত করতে হবে।
রোহিঙ্গাদের ডায়রিয়ার চিকিৎসা দিতে ৫ টি ডায়রিয়া ট্রিটমেন্ট সেন্টার স্থাপন করে ইউনিসেফ। পরবর্তীকালে তা আইসিডিডিআরবি’র কাছে হস্তান্তর করা হয়। এসব সেন্টারে চিকিৎসা নিতে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে এসব সেন্টারে ২৮ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী সেবা নিলেও একই বছরের ডিসেম্বর মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২৫৬ জনে।
সভায় বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তা ও ডাঃ বালামিত্র সিং বলেন, আমাদের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্বাস্থ্য সেবা দেয়ার সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগিদের সঙ্গে তথ্য বিনিময় করতে হবে। স্বাস্থ্য সহায়তা পাওয়া সবার অধিকার। এ কারণে তথ্যের আদান-প্রদানের মাধ্যমে কি হচ্ছে তা নিশ্চিত হতে হবে। গণমাধ্যমের মাধ্যমে এ ব্যাপারে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
সভায় বিজ্ঞানী ডাঃ আশরাফুল ইসলাম খাঁন বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রতি ৫০০ থেকে ১ হাজার মানুষের জন্য রয়েছে ১টি করে ল্যাট্রিন। যা স্বাস্থ্য সেবা ঝুঁকিতে ফেলার অন্যতম কারণ।
সভায় আইসিডিডিআরবি’র জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও কনসালটেন্ট ডাঃ এএসজে ফারুক বলেন, পানি দূষণের কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ডায়রিয়া, কলেরাসহ বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধির ঝুঁকি বাড়ছে।

Comments

comments

Posted ২:০১ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com