বুধবার ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি ২ জন

ডেঙ্গুতে কক্সবাজারের মেয়ে জাবি ছাত্রীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ২৭ জুলাই ২০১৯

ডেঙ্গুতে কক্সবাজারের মেয়ে জাবি ছাত্রীর মৃত্যু

কক্সবাজারের মেয়ে ঢাকা জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী উকিনো নুশাং (১৯) এর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ডেঙ্গু। নুশাং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিল। চিকিৎসকদের পরমর্শ মতে, শনিবার ২৭ জুলাই বেলা দু’টায় কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদে একইদিন বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে নুশাং শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এদিকে সদর হাসপাতালে দুই জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছে বলে জানা যায়।
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা: মো: মহিউদ্দিন জানান, ২৬ জুলাই রাত ১০ টার দিকে হাসপাতালে আসলে তাকে পরীক্ষা করা হলে তার মধ্যে ডেঙ্গু জীবানু পাওয়া যায়। সাথে সাথে তাকে ভর্তি করানো হয় এবং দ্রুত চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ২৭ জুলাই দুপুর ২ টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। তিনি জানান, এখনো পর্যন্ত কক্সবাজারে বসবাস করে এমন কোন ডেঙ্গু রোগি পাওয়া যায়নি। যে কয়েকজন পাওয়া গেছে তারা সবাই ঢাকা থেকে ডেঙ্গু জীবানু নিয়ে কক্সবাজারে এসেছেন। আর যে দুই জন ভর্তি রয়েছে তাদের একজন নারায়নগঞ্জ থেকে অন্য জন ঢাকা থেকে ডেঙ্গু জীবানু বহন করে কক্সবাজারে এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আরো কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে চিকিৎসা সেবা নিতে বলা হয়।
নুশাং কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার প্রধান সহকারী, বিশিষ্ট গবেষক, লেখক ও শহরের কৃষি অফিস সংলগ্ন এন্ডারসন রোডের বাসিন্দা মংবা অং মংবা ও জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা মা মা চিং এর একমাত্র কন্যা। নুশাং জেএসসি, এসএসসি ও এইসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে পাশ করেছিল। নুশাং-ই কক্সবাজার জেলার এবছেরর প্রথম নাগরিক, যাকে মরণঘাতী ডেঙ্গু পৃথিবী থেকে বিদায় করে দিলো। জানা যায়, সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গু রোগির সংখ্যা বেড়ে গেছে। আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়েছে ঢাকায় বসবাসকারিরা। শুধু ঢাকা নয় বিভিন্ন জেলায় এ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী প্রতি ২৪ ঘন্টায় সারাদেশে ৫শ থেকে ৭শ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এমন কি হবিগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এরপর থেকে সবাই ডেঙ্গু নিয়ে শংকিত। একইভাবে কক্সবাজারবাসী ডেঙ্গু নিয়ে আলোচনায় মেতে উঠেছে। এখানে ডেঙ্গুর কি পরিস্থিতি সবাই জানার চেষ্টা করছেন।
কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা: আবদুল মতিন জানান, এখনো পর্যন্ত কক্সবাজারের বসবাসকারিদের মধ্যে একজনও ডেঙ্গু রোগি পাওয়া যায়নি। দু‘য়েকজন পাওয়া গেছে, যারা কক্সবাজরের সন্তান কিন্তু ঢাকায় বসবাস করেন। ডেঙ্গু হওয়ার পর কক্সবাজারে চলে আসেন। কক্সবাজারে যাতে ডেঙ্গু ছড়াতে না পারে সেই জন্য প্রত্যেক ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলায় মাইকিং করে সচেতনতা মুলক বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হচ্ছে। সিভিল সার্জন আরো জানান, ডেঙ্গু নিয়ে আতংক হওয়ার কিছু নেই। তবে সবাইকে সচেতন হবে, থাকতে হবে সতর্ক। দিনে হোক বা রাতে হোক সব সময় মশারি টাঙ্গিয়ে ঘুমাতে হবে।
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, কক্সবাজারে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগি নেই বললেই চলে। গুটি কয়েকজন রোগি পাওয়া গেছে , তাও আবার ঢাকা থেকে যারা কক্সবাজারে এসেছে এমন ব্যক্তিদের মধ্যে ধরা পড়ছে ডেঙ্গু জীবানু। তবে সতর্ক না থাকলে কক্সবাজারেও এই ডেঙ্গু প্রভাব বিস্তার করতে পারে। । জ¦র হলে দ্রুত রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হবে। হাতুড়ি ডাক্তারের কাছে যাওয়া যাবেনা। প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য ঔষুধ দিলে রোগির ভয়াবহতা বেড়ে যাবে। এমন কি মল ত্যাগের সময় রক্ত যেতে পারে। তাই সতর্ক থাকতে সবাইকে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার নোবেল কুমার বড়ুয়া জানান, সদর হাসপাতালে দু‘য়েক জন ডেঙ্গু রোগি পাওয়া গেছে। যা ঢাকা থেকে বহন করে এই জীবানু কক্সবাজারে এনেছেন। ডেঙ্গু রোগির কারনে সবার মাঝে ডেঙ্গু রোগ ছড়িয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। কারণ ডেঙ্গু রোগিকে কোন মশা কামড়ালে সেই মশা অন্যদের কামড়ালে তাদের অবশ্যই ডেঙ্গু রোগ হবে। সেই জন্য আক্রান্ত রোগিদের অবশ্যই মশারির ভেতর থাককে হবে। যাতে তাদের কোন মশা কামড় দিতে না পারে। তাদের যে মশা কামড় দেবে সেই মশা তখন ডেঙ্গু জীবানুবাহী মশাই পরিণত হবে। শুধু ডেঙ্গু রোগি মশারির ভিতর থাকলে হবেনা, সব মানুষকে রাতে হোক বা দিনে হোক মশারি টাঙ্গিয়ে ঘুমাতে হবে। তিনি বলেন, টবে, বালতিসহ কোন পাত্রে পানি জমা রাখা যাবেনা। জমে থাকা পানিতে এসব মশার উৎপত্তি হয়। বাড়ির আশে পাশে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। নালা নর্দমায় ময়লা আবর্জনার স্তুপ রাখা যাবেনা। কারো জ¦র হলে আতংকিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের শরনাপন্ন হতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষুধ সেবন করা যাবেনা। বিশেষ করে কোনপ্রকার ব্যথার ঔষুধ খাওয়া যাবেনা।

Comments

comments

Posted ১১:৩৩ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৭ জুলাই ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com