• শিরোনাম

    কলাতলী বীচ রোডে এখনো ময়লা পানি জমে আছে

    ড্রেন ভরাটই জলাবদ্ধতার কারণ

    শহীদুল্লাহ্ কায়সার | ১৯ জানুয়ারি ২০২০ | ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ

    ড্রেন ভরাটই জলাবদ্ধতার কারণ

    কক্সবাজার শহরে প্রবেশের মুহূর্তে পর্যটকদের প্রথমেই নজরে আসে কলাতলী সংলগ্ন বিপুল জলরাশির সমুদ্র আর বালুকাময় সৈকত। প্রাণজুড়ানো সেই দৃশ্য বিমুগ্ধ হয়ে পর্যবেক্ষণ করেন তাঁরা। গত কয়েকদিন ধরে চিত্র ভিন্ন। দূর থেকে সমুদ্র দেখা যায়। নীচে চোখ রাখলেই দেখা যায় দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানিতে সয়লাব কলাতলী বিচে যাওয়ার রাস্তা। সেই ময়লা পানি দেখেই ফুটপাত ধরে কলাতলী সৈকতে যাচ্ছেন পর্যটকরা।

    গতকাল ১৮জানুয়ারি কলাতলী সৈকত সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, শুক্রবারও যে সড়কটি দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানিতে ঢেকে ছিলো। সেখানে গতকাল পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। তবে, পৌরসভা কর্তৃক পরিচ্ছন্নতার কারণে নয়। আপনা-আপনিই পানিগুলো সরে গেছে। ময়লা পানি সরে গেলেও দুর্গন্ধ এখনো থেকে গেছে। পাশাপাশি সড়কের পাশে রয়ে গেছে ময়লা কাদামাটি। বেড়েছে এসব নোংরা পানিতে জন্ম নেয়া বিষাক্ত মশার উপদ্রæব।

    কলাতলী সৈকতে যাওয়ার সড়ক থেকে পানি সরে গেলেও একই সড়কের বাই-লেন হিসেবে পরিচিত সড়কটির প্রবেশমুখে এখনো পানিতে ঢাকা। হোটেল সায়মানের মতো তারকামানের হোটেল ছাড়াও এই সড়কে আরো কয়েকটি উন্নত মানের আবাসিক হোটেল এবং রেস্তোরাঁ রয়েছে। এলাকাটি অপেক্ষাকৃত নির্জন । যে কারণে পর্যটকরা এই সড়ক ব্যবহার করে সৈকতে যেতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্ষা মৌসুম না হলেও সড়কটির প্রবেশমুখ নোংরা পানিতে ঢাকা। দূর থেকে দেখে বুঝা যায় না এখানে একটি সড়ক রয়েছে। গাড়ি চালকরা সেই পানি এড়িয়ে সড়কের অন্য অংশে প্রবেশ করছেন। পর্যটকরাও ভেতরের রাস্তা দিয়েই যাচ্ছেন এলাকাটিতে।

    কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, সড়ক সংলগ্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল এবং রেস্তোরাঁ রয়েছে। রয়েছে কয়েকটি মার্কেট। আবাসিক হোটেল এবং রেস্তোরাঁগুলোতে ব্যবহৃত পানি চলাচলের একমাত্র পথ এই ড্রেন। পানির পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বর্জ্যও ড্রেনের উপর দিয়ে চলে। গত কয়েকদিন ধরে বর্জ্যরে কারণে ড্রেনটি প্রায় অচল। বিশেষ সাব-মেরিন ল্যান্ডিং সাবস্টেশন সংলগ্ন ড্রেনের অংশটি প্রায় পানি চলাচলের অনুপযুক্ত। পৌরসভার পক্ষ থেকে ড্রেনটি সচল করে পয়ঃনিষ্কাশন স্বাভাবিকীকরণের ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে এসব হোটেল ও রেস্তোরাঁর পানি ও ড্রেনের পানির মিশ্রণে সৃষ্ট নোংরা পানি চলাচল করছে সড়কের উপর দিয়ে।

    সড়কের একপাশে বসে ডাব বিক্রি করছেন কলাতলীর স্থানীয় বাসিন্দা নেছার। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হলেই তিনি বলেন, পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা মাঝে মাঝে ড্রেন পরিষ্কার করতে আসেন। কিন্তু গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আসছেন না। এই সময়ের মধ্যেই রাস্তার পাশের ড্রেনটি ভরাট হয়ে যায়। এখন ড্রেনের পানি রাস্তার উপর দিয়ে চলছে। এই কারণেই জলাবদ্ধতা। বিষয়টি নিয়ে পর্যটকরা বিরূপ মন্তব্য করেন বলেও জানান নেছার।

    বিশে^র বৃহত্তম সৈকত দেখতে সুদূর রাজবাড়ী জেলা থেকে কক্সবাজার এসেছেন দুই যুবক আনোয়ার এবং রাজু। গতকাল পড়ন্ত বিকেলে সৈকতের কলাতলী পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় এই প্রতিবেদকের সঙ্গে তাঁদের আলাপ হয়। কক্সবাজার ভ্রমণে এসে খুব ভালো লেগেছে উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, পর্যটন নগরী সুন্দর থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে, এখানকার পরিস্থিতি উল্টো। ফলে সৌন্দর্য্যরে নগরী হিসেবে কক্সবাজারকে উদাহরণ দেয়া যাবে না। কর্তৃপক্ষের উচিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দেয়া।

    কলাতলী সৈকত দোকান মালিক সমিতির সভাপতি অছিউর রহমান জানিয়েছেন, সড়কে পানি জমে থাকায় গত কয়েকদিন ধরে পর্যটকদের বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। ড্রেনের পানি উল্টো রাস্তার উপর দিয়ে চলছে। এই কারণেই এই অবস্থার সৃষ্টি।
    একই এলাকার ব্যবসায়ী নুরুল আলম জানান, বর্ষা মৌসুম না হলেও শুক্রবার সড়কটি পানিতে ঢাকা ছিলো। আগে এমন অবস্থা ছিলো না। ড্রেন ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণেই এই অবস্থা।

    Comments

    comments

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে দৈনিক আজকের দেশ বিদেশ