বৃহস্পতিবার ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

তিনগুণ গতি বাড়িয়ে অগ্রসর হচ্ছে ফণী

দেশবিদেশ অনলাইন ডেস্ক   |   বৃহস্পতিবার, ০২ মে ২০১৯

তিনগুণ গতি বাড়িয়ে অগ্রসর হচ্ছে ফণী

বঙ্গোপসাগরে এক সপ্তাহ ধরে প্রবল শক্তি সঞ্চয়কারী ঘূর্ণিঝড় ফণী তিনগুণ গতি বাড়িয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে মাত্র ৫ কিলোমিটার গতিতে এগিয়ে চললেও গত ছয় ঘণ্টায় ফণীর গতি বৃদ্ধি পেয়ে ঘণ্টায় ১৬ কিলোমিটারে পৌঁছেছে।

বর্তমানে প্রবল এই ঘূর্ণিঝড় ওড়িশার পুরী উপকূলের দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমের ৩২০ কিলোমিটার ও অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে ৫৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম ও পশ্চিমবঙ্গের দীঘার ৬১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছে।

অন্ধ্রপ্রদেশের কাছাকাছি অবস্থানে চলে যাওয়া এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ইতোমধ্যে রাজ্যের বিশাখাপত্তনমে ৯০ থেকে ১১০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে তীব্র বৃষ্টি শুরু হয়েছে। প্রবল বর্ষণের সঙ্গে ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়েছে ওড়িশা প্রদেশেও।

ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে তীব্র হাওয়া এবং বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশে। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার ধারে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছ-পালা উপড়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া দফতর বলছে, গত ছয় ঘণ্টায় ফণী প্রতি ঘণ্টায় ১৬ কিলোমিটার গতিবেগে ধেয়ে আসছে পশ্চিমবঙ্গের দিকে। বুধবার রাতে কলকাতা থেকে ৯৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিম এবং পুরীর ৫৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিম, দীঘার ৭৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিম দিকে অবস্থান করছিল। তখন এর গতি ছিল ঘণ্টায় ৫ কিলোমিটার অর্থাৎ বুধবারের তুলনায় তিনগুণ বেশি গতিবেগ বাড়িয়ে এগিয়ে আসছে।

ভারতের আবহাওয়া দফতর বলছে, শুক্রবার ওড়িশায় ২০৫ কিলোমিটার গতিতে আঘাত হানতে পারে ফণী। পরে সেখান থেকে গতিপথ বদলে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বঙ্গোপসাগরের প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান মধ্য ইউরোপের দেশ চেক প্রজাতন্ত্রের আবহাওয়ার পূর্বাভাসবিষয়ক ওয়েবসাইট উইন্ডি তাদের ওয়েবসাইটে সরাসরি সম্প্রচার করছে। উইন্ডির ওয়েবসাইটে দেখা যাচ্ছে, ভয়াবহ আতঙ্ক সৃষ্টিকারী ঘূর্ণিঝড় ফণী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৮টা ২০ মিনিটের দিকে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে।

এদিকে, ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি যথাসম্ভব কমানো লক্ষ্যে ভারতের মন্ত্রিপরিষদ সচিব পিকে সিনহার নেতৃত্বে একাধিকবার বৈঠকে বসেছে দেশটির জাতীয় বিপর্যয় মোকাবেলা কমিটি। বিপর্যয় মোকাবেলায় উপকূলবর্তী রাজ্যগুলোর জন্য ১ হাজার ৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া দফতর বলছে, সোমবার সকালের দিকে বঙ্গোপসাগর থেকে ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানতে পারে ফণী। এসময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৭০-১৮০ থেকে ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বয়ে যেতে পারে। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত বাতাসের এই তাণ্ডব চালাতে পারে ফণী।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, ৩০০ কিলোমিটার ব্যাসের ঘূর্ণিঝড় ফণী বৃহস্পতিবার ভারতের ওড়িশা উপকূল অতিক্রম করে সন্ধ্যার দিকে খুলনাসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে পৌঁছাতে পারে। তবে ঝড়ের অগ্রবর্তী অংশের প্রভাব বাংলাদেশের খুলনা অঞ্চলে দেখা দিতে পারে শুক্রবার সকাল থেকেই।

Comments

comments

Posted ৯:০৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০২ মে ২০১৯

ajkerdeshbidesh.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

সম্পাদক
মোঃ আয়ুবুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয়
প্রকাশক : তাহা ইয়াহিয়া কর্তৃক প্রকাশিত এবং দেশবিদেশ অফসেট প্রিন্টার্স, শহীদ সরণী (শহীদ মিনারের বিপরীতে) কক্সবাজার থেকে মুদ্রিত
ফোন ও ফ্যাক্স
০৩৪১-৬৪১৮৮
বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন
০১৮১২-৫৮৬২৩৭
Email
ajkerdeshbidesh@yahoo.com